র‌্যাব হেফাজতে মারা যাওয়া জেসমিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

র‌্যাব হেফাজতে মারা যাওয়া জেসমিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ৩, ২০২৩ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ৩, ২০২৩ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ

 

র‌্যাব হেফাজতে মারা যাওয়া নওগাঁর ভূমি অফিসের অফিস সহকারী সুলতানা জেসমিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর রোববার সন্ধ্যার আগেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক বিভাগ তা হস্তান্তর করে। তবে প্রতিবেদনে জেসমিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

রামেকের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, জেসমিনের মৃত্যুর পর ২৫ মার্চ রামেকের মর্গে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করে।

রোববার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর আজ বিকেলে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে- জানতে চাইলে ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটা সিরিয়াস ইস্যু। এটা নিয়ে আমি সরাসরি কিছু বলতে পারব না। আপনারা যদি কোনোভাবে প্রতিবেদন পান, তারপর কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে আমি বুঝিয়ে দেব। এখন এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর রাজপাড়া থানার এসআই সুভাষ চন্দ্র বর্মন প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি রিপোর্ট পাইনি। আমি কিছু বলতে পারব না।’

রাজপাড়া থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শুনলাম যে রিপোর্ট এসেছে। কী রিপোর্ট এসেছে সেটা জিজ্ঞেস করিনি। রিপোর্ট কোর্টে গেলে সবাই জানতে পারবে।’

র‌্যাব-৫ এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের একটি দল গত ২২ মার্চ সকালে নওগাঁ থেকে জেসমিনকে আটক করে। স্থানীয় সরকারের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. এনামুল হকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নিয়েই র‌্যাব এ অভিযান চালায়। এনামুল হকের অভিযোগ, জেসমিন ও আল-আমিন নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছিলেন বিভিন্নজনকে। এভাবে তারা প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

এদিকে আটকের পর ২৪ মার্চ সকালে রাজশাহীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন মারা যান। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। জেসমিনের মৃত্যুর পরদিন ২৫ মার্চ রামেকের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেসমিনের মরদেহ গোসল করানো হয় রাজশাহীতেই। পরে কাফন পরানো মরদেহ কফিনে করে নওগাঁয় নিয়ে যায় র‌্যাব। সেখানে র‍্যাবের উপস্থিতিতেই মরদেহ দাফন করেন স্বজনরা।

এর আগে মৃত্যুর দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নারী সহকারী কমিশনার জেসমিনের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। কিন্তু জেসমিনের শারীরিক অবস্থার অনেক কিছুই সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। ময়নাতদন্তের সময় মর্গে তা খেয়াল করেন সেদিন দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. তাজনীন জাহান। তারপর তিনিই বিভাগীয় প্রধানকে ডাকেন। তারপর বিভাগীয় প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন আরেক প্রভাষককে নিয়ে মর্গে যান এবং বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত করেন।

জেসমিনের মৃত্যুর পর রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুগ্ম সচিব এনামুল হকের করা একটি মামলার কথা জানা যায়, যেটি রেকর্ডের সময় ২৩ মার্চ। জেসমিন ও তার কথিত সহযোগী আল-আমিনকে এতে আসামি করা হয়। আল-আমিনকে ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তিনি একজন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ