লন্ডনে একের পর এক মানি ট্রান্সফার প্রতারণা ,হুন্ডিতে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন রেমিটেন্স যোদ্ধারা - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৩৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লন্ডনে একের পর এক মানি ট্রান্সফার প্রতারণা ,হুন্ডিতে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন রেমিটেন্স যোদ্ধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২৮, ২০২৪ ৮:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২৮, ২০২৪ ৮:১৫ অপরাহ্ণ

 

আরিফ মাহফুজ , লন্ডন থেকে

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কমবেশি বাংলাদেশি প্রবাসীরা রয়েছেন। সারা মাস ঘাম ঝরিয়ে বেতন তুলেই ছুটে যান স্থানীয় মানিট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আশা, কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত দেশে যাবে হাসিফুটবে প্রিয়জনের মুখে সাথে সচল হবে দেশের অর্থনীতি। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ মানিট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে কতটুকু নিরাপদ ? এমনই প্রশ্ন ঘোরপাক কাছে প্রতিটি দেশের প্রবাসীদের মনে।

যুক্তরাজ্যে কয়েক লক্ষ প্রবাসী বসবাস করেন। দেশের রেমিটেন্সের বড় একটি অংশ যুক্তরাজ্য থেকে যায়। লন্ডনস্থ বাংলাদেশহাই কমিশন থেকে বারবার বৈধ পথে রেমিটেন্সে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়ে থাকে কিন্তু বৈধ পথে মানিট্রান্সফার করতে গেলে শতকরা ৯৫ ভাগ রেমিটারদের বাংলাদেশি মানিট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয় , বৈধ পথে মানিট্রান্সফার করার একমাত্র পথই এদের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো , বাংলাদেশের সরকারি কোন ব্যাংকের কোন ব্রাঞ্চ লন্ডন তথা সমগ্র যুক্তরাজ্যে নেই , সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা থাকলেও এটি একেবারেই নড়বড়ে আর টাকার রেইট কম থাকায় গ্রাহকরা ছুটেন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে, এগুলোতে টাকার রেইট লোভনীয় থাকে।
বিশেষ করে লন্ডনের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে মানিট্রান্সফারের দোকান , কদমে কদমে চোখে পড়ে সাইনবোর্ড। প্রায়শই খবর পাওয়া যায় হঠাৎ করে গ্রাহকদের বিপুল অর্থ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে অমুক মানি ট্রান্সফার -তমুক মানি ট্রানফার। গত দশকে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটির জনপ্রিয় ম্যাট্রন্সফার প্রতিষ্ঠান ”ফাস্ট সল্যুশন ” নামক একটি কোম্পানি হঠাৎ করে কয়েক হাজার গ্রাহকের (বাংলাদেশি ) কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে পালিয়ে যায় , অর্থের শোকে রাস্তায় রাস্তায় বিলাপ করতে দেখা গেছে গ্রাহকদের , এটি কমিউনিটির ইতিহাসের সবচাইতে বৃহৎ মানিট্রান্সফার কেলেঙ্কারি ছিল , এর পর প্রতিবছরই কোন না কোন মানিট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান এমন করেছে যেগুলো ছোট হওয়ার কারণে যেন আলোচনায় আসেনি , সম্প্রতি জুন মাসের শুরুতেই গ্রাহকের প্রায় ৫ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে পূর্ব লন্ডনের পপলারে অবস্থিত ”আবু মানিট্রান্সফার ” একটি প্রতিষ্ঠান। ঈদ উপলক্ষ্যে টাকা পাঠিয়ে সে টাকার কোন হদিস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা ।
লন্ডনের বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠান ”স্মল ওয়ার্ল্ড মানিট্রান্সফার ” , বিশ্বের অনেকগুলো দেশেই তাদের শাখা রয়েছে। চলতিমাসের শুরুতেই সমস্যায় পড়েছেন যুক্তরাজ্যের করেক হাজার গ্রাহক , ঈদ উপলক্ষ্যে স্মল ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে কোন গ্রাহকের টাকাই আর পাঠায়নি স্মল ওয়ার্ল্ড , শুধু লন্ডনের গ্রাহকরাই নয় আমেরিকা ইউরোপ সহ সবগুলো দেশের গ্রাহদেরই মাথায় হাত পড়েছে স্মল ওয়ার্ল্ডের কারণে , নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্মল ওয়ার্ল্ড মানিট্রান্সফারের এক কর্মকর্তা জানান , স্মল ওয়ার্ল্ডের যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের পারি ৫/৬ মিলিয়ন পাউন্ডে এখনো ডেলিভারি দেয়নি স্মল ওয়ার্ল্ড। এই অর্থ আদৌ গ্রাহকরা ফিরে পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে স্মল ওয়ার্ল্ড বলছে আপাদত তাদের কার্যক্রম স্থগিত আছে , গ্রাহকদের অর্থ তারা ফিরিয়ে দেবে। অনেকেই মনে করছেন স্মল ওয়ার্ল্ড টেকনিক্যালি একসময় নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করবে যদিও তারা বলছে কার্যক্রম আপাদত স্থগিত আছে।
”স্মল ওয়ার্ল্ডের” বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিউনিটি সুশীল ও বোদ্ধারা মনে করছেন স্মল ওয়ার্ল্ড সহ যে প্রথিষ্ঠান সমূহ গ্রাহকদের অর্থ নিয়ে খেলছে বা টালবাহানা করছে বা যারা একেবারেই অর্থ আত্নসাৎ করে পালিয়ে গেছে এ সবই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে , এরা প্ল্যান করেই আসে যে কিছুদিন ভালো সেবা দিয়ে হঠাৎ মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে গায়েব হয়ে যাবে। এ ছাড়া ভিন্ন কিছু নয় , বাংলাদেশ হাই কমিশন বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর অনুরুধ করলেও অর্থ হারানো গ্রাহকদের পাশে দ্রাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বার বার কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে রেমিটেন্স যোদ্ধারা এখন বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে কোন মানি ট্রান্সফারের উপর ভরসা করতে পারছেন না , তাঁরা বাধ্য হয়েই এখন বেঁচে নিচ্ছেন হুন্ডির মোট অবৈধ পথ , গ্রাহকরা মনে করছে যেখানে বৈধ পথে অর্থ পাঠিয়ে পথে বসতে হয় কোন বিচার পাওয়া যায় না সেখানে অবৈধ পথে অর্থাৎ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠালেই নিরাপদ অন্ততঃ সময় মত টাকা না পেলে হাতে নাতে ধরা যায় বিচার সালিশ করা যায় , একেবারে বিচারহীন ভাবে মেরে খেতে পারবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ