লুটপাটের পাশাপাশি দেশকে ভেঙে শেষ করে রেখে গেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৫ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৫ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কোনো আপস নেই, নির্বাচন হতেই হবে। লুটপাটের পাশাপাশি দেশকে ভেঙে শেষ করে রেখে গেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গায় রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। কর্মশালায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার ৬ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশকে লুটপাটের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে চুরে শেষ করে রেখে গেছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। বিএনপির দেওয়া ৩১ দফার ভিত্তিতে অবিলম্বে দেশটাকে মেরামত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আগামীতে বিএনপির পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নয়ন ও তাদের কৃষিকাজে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। ফার্মার্স কার্ড করে দেওয়া হবে। এর ফলে তারা ভর্তুকি, সারবীজ, পরিবারের চিকিৎসা সেবাসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যসেবায় বেশি সংখ্যায় মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশে ৭০ হাজার প্রশিক্ষিত নার্স আছে। চিকিৎসা খাতে প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যায়, এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।
তারেক রহমান বলেন, শ্রমিক মালিক এক হয়ে ভাই ভাই হয়ে উন্নয়ন সাধন করতে হবে। বিএনপির দেওয়া রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ভবিষ্যতে এটির বাস্তবায়ন করতে হবে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের যে দক্ষ জনশক্তি রয়েছে সেই জনশক্তি রপ্তানি করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত অনার্স মাস্টার্স পাস করে কোনো তরুণ তরুণী যেন তার পরিবারের কাছে বোঝা না হন। তাদেরকে ন্যূনতম এক বছর বেকার ভাতা প্রদান করা হবে, যাতে করে তারা এ সময়টাতে চাকরি খোঁজার জন্য অনুকূল পরিবেশ পান। মানুষকে হার্টের পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ সামগ্রিক চিকিৎসার জন্য আমেরিকার চিকিৎসা পদ্ধতির আলোকে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার বিরাট বিস্তার ঘটানো হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহগণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদি আমিন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির সহ-ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হালিমা আর্লী, সহ স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক রউফুন নাহার রিনা, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপি সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী, দর্শনা পৌর বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বুলেট, নাহারুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোকাররম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবারক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হাসেন জোয়ার্দ্দারসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কেউ রাজনীতিতে টিকতে পারেনি : টুকু
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttoncopy sharing buttonprint sharing button
অ- অ+
কুষ্টিয়ায় ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি : কালবেলা
X
কুষ্টিয়ায় ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি : কালবেলা
গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কেউ রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, বিএনপির একটি সংগ্রামী ইতিহাস আছে। নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রের প্রশ্নে জীবন দিতে জানে। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নেমে দেশে সুস্থধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) কুষ্টিয়ায় ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টুকু এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপি এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল। সংস্কার কার্যক্রমের নামে নির্বাচন দীর্ঘায়িত করলে কিন্তু আপনারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। আর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেউ বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ছত্রছায়ায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হতে যাচ্ছে। তাহলে কি আমরা ধরে নিব, এই নতুন দলকে মাঠ গোছানোর সুযোগ দেওয়ার জন্যই নির্বাচন পেছানোর চক্রান্ত চলছে?
গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কেউ রাজনীতিতে টিকতে পারেনি : টুকু
ছাত্রশিবিরের নতুন কর্মসূচি
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নতুন দল নিয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই। তবে রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে দেশবাসী মেনে নিবে না। রাজনৈতিক দল গঠন করতে হলে জনমত তৈরি করেন। কিন্তু আরেক দলকে কটাক্ষ করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটের চেষ্টা করা হলে আমরা বসে থাকব না।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্পর্কে টুকু বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বহুমুখী প্রতিষ্ঠান। স্বল্প পরিসরে তাকে নিয়ে আলোচনা করা কঠিন। তার কর্মকাণ্ড বিরাট বিস্তৃত। তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। যথা সময়ে দেশের মানুষের প্রয়োজন বুঝতে পেরেছিলেন। তার গুণাবলি ছিলো অপরিসীম।
স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে ১৬ বছরে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা খুন-গুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণ বিশ্বাস করে, আগামীতে দেশের যদি ভালো কিছু হয়, সেটা বিএনপির দ্বারাই হবে।
৭১ সালে একটা দল মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে দেশ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, আরেকটি দল মহান মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেছে। কিন্তু বিএনপি এমন একটি দল যারা মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীতে দেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করেছে।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। পুরো জাতি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হলে আমাদের সকল নেতাকর্মীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ও দেশের জনগণের চাহিদা মেটাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির ৩১ দফা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে মানবিক বাংলাদেশ, স্বচ্ছ বাংলাদেশ এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠিত হবে।
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ