শরীয়তপুরে গ্যাসের কূপ খনন কাজ শীঘ্রই - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শরীয়তপুরে গ্যাসের কূপ খনন কাজ শীঘ্রই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০২২ ১:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০২২ ১:৫০ অপরাহ্ণ

 

জেলার নড়িয়া উপজেলায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। প্রায় ১ বছর ধরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামে এ গ্যাসের অনুসন্ধানে চলছে কূপ খননের কাজ। এ কূপ খননের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। অনুসন্ধান সফল হলে সেই স্থানে গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র (প্ল্যান্ট) স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে বাপেক্সের মহাপরিচালক ও শরীয়তপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প-১–এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. তোফায়েল সিকদার। গ্যাসের সন্ধ্যান মিলেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন দেখতে আসছেন জেলার বিভিন্ন লোকজন। বাপেক্স ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মেঘনা নদীর তীর শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি থেকে খুলনা পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে দ্বি-মাত্রিক ভূকম্পন সমীক্ষা (টুডি সিসমিক জরিপ) করা হয়। ওই জরিপে নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামে প্রাথমিকভাবে সন্ধান মেলে প্রাকৃতিক গ্যাসের। এর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। সম্ভাব্য স্থান হিসাবে চিহ্নিত করে বাপেক্স। এতে করে এলাকাবাসী আনন্দিত। খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তৈরি করা হয় ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প। দেড় বছর মেয়াদী ‘শরীয়তপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প-১ নামের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে গত ১ বছর ধরে। এ কাজ চলবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। অনুসন্ধান কূপ খনন করার জন্য শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৫ একর জমির হুকুম দখল নেওয়া হয়েছে। ওই জমিতে থাকা ফসলের দুই বছরের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে জমির মালিকদের। নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ একর জমিতে টাঙানো হয়েছে গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের নিশানা। গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ফসলি জমির চারদিক পাইলিং, সড়ক নিমার্ন, মাটি ভরাট, বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়া কাজের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক ও কালভার্ট, গ্যাস অনুসন্ধান এলাকায় শ্রমিকদের ভাসস্থানের জন্য সেট নির্মান করা হয়েছে। নিদিষ্ট এলাকা জুড়ে কাটা তারের বেড়া দেয়া হয়েছে। যেখান থেকে গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য ক’প করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ক’প খননের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।তবে মেশিনপত্র পৌছানোর জন্য একটু দেরী হতে পারে।
দিনারা গ্রামের বাসিন্দা মান্নান তালুকদার বলেন, গ্যাসের খবরে আমরাসহ এলাকাবাসী আনন্দিত। আমার জমি ৪০ শতাংশ জমি হুকুম দখল করা হয়েছে। নিজের বাপ-দাদার জমি গেলেও গ্যাস অনুসন্ধান করার খবরে উচ্ছ্বিসিত।
দিনারা এলাকার আবদুল কুদ্দুস মুন্সি, লোকমান ঢালী বলেন, পদ্মা সেতুতে দেখছি নতুন নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। আর গ্যাসের অনুসন্ধানে সফলতা মিললে আমাদের এলাকায় নির্মাণ হবে কলকারখানা। গ্রাম পাবে নগরের ছোঁয়া, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। তাই জমি হারালেও আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই।
দিনারা এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, প্রতিবছর আমাদের জমিতে যে ফসল হতো, এর দ্বিগুণ টাকা আমাদের দিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়ায় আমরা খুশি।
বাপেক্সের মহাপরিচালক ও শরীয়তপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প-১–এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. তোফায়েল সিকদার বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যেই এখানে কূপ খনন করার কাজ চলছে।ইতোমধ্যে গ্যাস ফিল্ডের উন্নয়ন কর্মকান্ড শেষের পথে। খুব শীঘ্রই ভারী মেশিনপত্র নিয়ে আসবো। ইতোমধ্যে মেশিন পত্র পরিবহনের জন্য কথা হয়েছে। মেশিনপত্র পৌছানোর পর বসানোর কাজ শেষ হলেই ক’প খননের কাজ শুরু হবে।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, নড়িয়া উপজেলার দিনারা এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কাজ চলছে। জমির মালিকদের থেকে দুই বছরের জন্য ৬ দশমিক ৪৯ একর জমির হুকুম নেওয়া হয়েছে। দুই বছরের ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৬ টাকা জমির মালিকদের দেওয়া হবে। যদি এর মজুত বেশি থাকে তাহলেই বাপেক্স উৎপাদন ক্ষেত্র স্থাপন করবে। তখন এই অঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ