শরীয়তপুরে স্কুল ছাত্রি সুরভী হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে মানববন্ধন - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শরীয়তপুরে স্কুল ছাত্রি সুরভী হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২ ৫:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২ ৫:২৯ অপরাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ প্রেমিকের মা ও বড়ভাইয়ের করা অপমান সহ্য করতে না পেরে শরীয়তপুরের সুরভী আক্তার (১৫)নামে সুবচনী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার ১ দুপুরে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। সে চরলক্ষী নারায়ন গ্রামের জাহাঙ্গীর ওঝা ও ডলি দম্পতির মেয়ে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় সুরভীর বাবা জাহাঙ্গীর ওঝা বাদী হয়ে প্রেমিক আল আমিন,তার মা পারভিন আক্তার ,বড় ভাই ( সেনা সদস্য) পারভেজ তালুকদার ও সুবচনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার বিচার দাবীতে রোববার সকাল ১১টায় সুবচনী উচ্চদ্যিালয়ের ছাত্র/শিক্ষক ও স্থানীয় জনতার উদ্যোগে শরীয়তপুর-নাগের পাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের ফাঁিসর দাবী করে। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র ্র সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহীদ হোসেন ঘটনার সত্যতা জানতে ঐ স্কুলে যান। তারা শিক্ষক ,সহপাঠি সহ নিহত ছাত্রির পরিবারের কাছে নানা ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে ঘটনার উদঘাটনের জন্য চেষ্টা করেন।
উল্লেখ থাকে যে,সুরভীী আক্তারের সঙ্গে সোনামুখী গ্রামের মৃত মজিদ তালুকদারের ছেলে ও একই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আল-আমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি আল-আমিনের পরিবার জানতে পেরে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। গত বৃহম্পতিবার সকালে আল-আমিনের মা পারভিন বেগম ও বড়ভাই (সেনাবাহিনীর সদস্য ) পারভেজ তালুকদার স্কুলে গিয়ে সুরভীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও জুতাপেটা করে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির ইদ্দন গালিগালাজ করে ছাত্রিকে টিসি দিয়ে দেয়। এতে ছাত্রি মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। সে অসুস্থতার কথা বলে ছুটি চাইলে সুরভীকে স্কুলের আয়া লুৎফা বেগমকে দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়। সেখানে ও আল আমিনের মা ও বড় ভাই বাড়ি গিয়ে গালিগালাজ করে তাদের ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে চায়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে সুরবী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
সুরভির সহপাঠি সিথি, আয়েশা, বৈশাখী, লাইজু ও সাথী বলেন,অন্যায় ভাবে আল আমিনের মা ও বড় ভাই সহ প্রধান শিক্ষক সুরভিকে অপমান করায় সে সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যা করতে বাধ্য হয়। আমরা ঘটনার সাথে জতিদের ফাসি চাই।
সুরভীর মা ডলি বেগম বলেন, আমার মেয়ে অপপমান সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যা করেছে। আমি মামলা করেছি। আমি আসামীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বলেন, ঘটনার সত্যতা বের করতে আমরা সরেজমিন এসে স্থানীয় ভাবে স্বক্ষী প্রমান নেয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি তদন্ত করে দোষীদের বের করতে পারবো।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ