শহীদ জিয়া-বেগম জিয়ার সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকতে পারবে না: মামুনুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
‘শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল— আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ১৯৪৭ সাল, ২০১৩ সাল এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তির ওপর। আজ যারা মনে করেন, কেন বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও ইসলামপন্থিরা জুলাই বিপ্লবের পক্ষে কাফনের কাপড় বেঁধে রাজপথে নামতে চায়— আমি তাদের বলতে চাই, আমরা জুলাই বিপ্লবকে এজন্যই বাস্তবায়ন করতে চাই।”
“এই জুলাই বিপ্লব ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের চেতনাকে ধারণ করে, ১৯২১ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীন জাতিসত্তাকে ধারণ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, ২০১৩ সালের শাপলার চেতনাকে ধারণ করে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ধারণ করে” বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “যারা ইসলামকে ভালোবাসে, বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে— তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে থাকতে পারে না।”
বিএনপি নেতৃত্বের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সঙ্গে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে পূর্বে তিনটি গণভোট হয়েছে— কোনও গণভোটের সঙ্গেই কেউ গাদ্দারি করেনি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই গণভোট হয়েছে, কোনও গণভোটের সঙ্গেই কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। যদি বিএনপি গণভোটের সঙ্গে গাদ্দারি করে, তাহলে বিএনপি বিশ্বের একমাত্র গাদ্দার দল হিসেবে পরিচিত হবে।”
বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রেরিত ভরতের নতুন রাষ্ট্রদূতকে পৃথিবীর সব কূটনৈতিক রেওয়াজ ভঙ্গ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন বিজেপি নেতাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়েছে, অথচ এদেশের সরকার টু-শব্দও করেনি। বন্ধুরাষ্ট্র ইরান বন্ধুত্বের দায়িত্ব পালন করে তেল দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের কূটনীতির ব্যর্থতার কারণে বারবার সেই তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, আপনারা না পারলে আমাদেরকে দায়িত্ব দিন— আমরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান নৈরাজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে এর দায় একমাত্র সরকারকেই বহন করতে হবে।”
গণসমাবেশ শেষে মাওলানা মামুনুল হক গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসব্যাপী সারাদেশের জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এসব সমাবেশে মাওলানা মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। আগামী ৫ আগষ্ট ঢাকায় গণমিছিল করা হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ