শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস শুধু এক দিনের নয়, এটি জাতির চিরন্তন প্রেরণা: আলাল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৫৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস শুধু এক দিনের নয়, এটি জাতির চিরন্তন প্রেরণা: আলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ ৩:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ ৩:১৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসকে শুধুমাত্র একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে ইতিহাস ও বাস্তবতার প্রতি অবিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের শুরু থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের উপযোগী মেধাবী মানুষদের বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল, যা ছিল একটি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার নীলনকশা।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (আইইবি)-এ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ দলিলেও ‘অক্সিলারি প্যারামিলিটারি ও পলিটিক্যাল ফোর্স’-এর উল্লেখ রয়েছে। ফলে কারা এই হত্যাযজ্ঞে যুক্ত ছিল, তা বুঝতে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, “যখন কোনো রাষ্ট্র তার জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে হত্যাযোগ্য বলে বিবেচনা করে, তখন সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিস্ট শাসকে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেই পথেই হেঁটেছিল।”

আলাল অভিযোগ করেন, সে সময় ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান, ভুট্টো ও গভর্নর এম এ মালিকসহ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একইসঙ্গে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে তিনি নিজে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং তার পরিবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ছিল।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছে, লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অথচ যারা সেই অপরাধে যুক্ত ছিল, তারা আজও নতুন রূপে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।”

ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার বানানোর কঠোর সমালোচনা করে আলাল বলেন, ধর্ম কোনো টিকিট বিক্রির বিষয় নয়—না জান্নাতের, না জাহান্নামের। ধর্ম হলো হৃদয়ের বিষয়, জীবনাচরণের অংশ। যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করছে, তারা শিরক, বিদআত ও নাফরমানিতে লিপ্ত।

তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে বলেন, অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব, শহীদুল্লাহ কায়সার, আলতাফ মাহমুদসহ অসংখ্য মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। জহির রায়হানের নিখোঁজের ঘটনাও স্বাধীন বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।

ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বীর উত্তমের শাহাদাতের কথা স্মরণ করে আলাল বলেন, আজকের দিনটি একদিকে শোকের, অন্যদিকে গৌরবের।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সবচেয়ে উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হচ্ছে বিএনপি। না হলে ১৯৭১-এর আত্মসমর্পণকারী শক্তিগুলো আজ রাজনীতি করার সুযোগ পেত না।”

তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষা কঠিন। এই দায়িত্ব এখন নতুন প্রজন্মকে নিতে হবে।

শেষে তিনি বলেন, “ধানের শীষ বুকে নিয়েই আমি জন্মেছি, এই মাটিতেই মরতে চাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং আগামীর নেতৃত্ব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি সুশৃঙ্খল, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”

আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ