শাহ আবদুল করিম লোকউৎসব ঘিরে কালনীনদীর পাড়ে মেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভিটা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে শুক্রবার থেকে দুইদিনের উৎসব শুরু হয়েছে।
উৎসব ঘিরে বাউলের বাড়ি, বাড়ির পাশে কালনী নদীর তীরে তার ভক্ত-অনুরাগীদের মিলনমেলা বসেছে। জেলা প্রশাসন ও শাহ আবদুল করিম পরিষদ দুই দিনের এই উৎসবের আয়োজন করেছে।
শুক্রবার (২৭মার্চ) রাত আটটায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই ও শাল্লা) সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন শাহ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি ও শাহ আবদুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল।
বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের একমাত্র ছেলে শাহ নূর জালাল জানান, প্রতি বছর বাউল সম্রাটের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে উৎসবের আয়োজন থাকে। এবছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন থাকায় জন্মবার্ষিকীর উৎসব করা যায়নি তাই একটু দেরিতে হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে জানান দীর্ঘ দিন ধরে উজান ধল গ্রামে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম স্মৃতি কমপ্লেক্স করার দাবি ছিল জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই কমপ্লেক্সটি করা হলো দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত অনুরাগীরা থাকতে পারতেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম ভাটি অঞ্চলের প্রবাদ পুরুষ। তার সৃষ্টি কর্ম বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার। এসময় তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাহ আবদুল স্মৃতি কমপ্লেক্সের দাবি ছিল। এবার তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।
সভাপতির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, শাহ আবদুল করিম একজন ক্ষণজন্মা মানুষ। লোকে তার জীবনধর্মী, আধ্যাত্মিক ও মর্মস্পর্শী গান গায় ও শুনে, তৃপ্তি পায়। শাহ আবদুল করিমের সহজিয়া জীবন, মানুষের প্রতি প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি দরদ তার গানেই প্রকাশ পেয়েছে। করিম যেমন মানুষকে ভালোবাসতেন, তেমনি মানুষও শাহ আবদুল করিমকে ভালোবাসত। সেই ভালোবাসার টানেই মানুষ এখানে ছুটে আসে। সাধারণ মানুষ চাইলে জেলা প্রশাসন উৎসবের আয়োজন করবে
উদ্বোধন শেষে মঞ্চে বাউল সম্রাটের জনপ্রিয় গান গাইতে শুরু করেন তার শিষ্য-অনুরাগীরা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা করিম ভক্তরা তার গান শুনে মুগ্ধ হন।
বাউল শাহ আবদুল করিম স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে এ উৎসব আয়োজিত হয়ে আসছে। উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভক্ত-সাধকদের পাশাপাশি সংগীতপ্রেমীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠে উজানধল গ্রাম। এই উজানধল গ্রামেই ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবররণ করেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ