শিল্পায়ন ও বেকারত্ব দূর করাই নির্বাচনি অঙ্গীকার: হাফিজ ইব্রাহিম
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ২, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জানুয়ারি ২, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ণ

ভোলা প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে আবারও আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে এলাকার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ভোলা-২ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী হিসেবে মো. হাফিজ ইব্রাহিমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
মো. হাফিজ ইব্রাহিম ভোলার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। ১৯৯০ সালে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকার সুবাদে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোলা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মো. হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘১৯৯০ সালে আপনাদের মাঝে এসে কাজ শুরু করেছি, এখনো করছি, ভবিষ্যতেও করব। এবারের নির্বাচনে আমার প্রধান লক্ষ্য সংসদীয় আসন ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকলকারখানা গড়ে তোলা।’ ভোলায় প্রাপ্ত গ্যাসসম্পদকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়ন হলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, এমনটাই তার দাবি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সামাজিক অবক্ষয় রোধের কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন থেকে কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের সমূলে নির্মূল করা হবে।’ বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এরা হলেন বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফজলুল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুস সালাম, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু, আমজনতা দলের মো. আলাউদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোকফার উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন খন্দকার।
তাদের মধ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্বাভিজ্ঞতা এবং উন্নয়নমুখী নির্বাচনি অঙ্গীকার সামনে রেখে মো. হাফিজ ইব্রাহিম ভোলা-২ আসনে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তিনি এলাকার সামাজিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট ও জনআকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে পরিচিত- এমনটাই তার সমর্থকদের দাবি। বিশেষ করে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে অন্য অনেক প্রার্থীর তুলনায় এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
স্থানীয় ভোটারদের একাংশের মতে, ভোলার প্রধান সমস্যা বেকারত্ব ও শিল্পায়নের অভাব। জেলার বিপুল গ্যাসসম্পদ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে তা কাজে লাগানো হয়নি বললেই চলে। এই প্রেক্ষাপটে মো. হাফিজ ইব্রাহিমের গ্যাসভিত্তিক শিল্পকলকারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি অনেকের কাছে আশার বার্তা হয়ে উঠেছে। ভোটারদের ধারণা, যদি এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা যায়, তবে শুধু কর্মসংস্থান নয়, ভোলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ