শিশু-কিশোরদেরও আগুনে পুড়িয়ে মারতে চাচ্ছে সরকার: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৪ ১:৪১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৪ ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
শনিবারে স্কুল খোলার বিষয়ে সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাস্তাঘাট এত উত্তপ্ত যে মানুষ কম বের হচ্ছে এর মধ্যেই স্কুল কলেজ শনিবারেও খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ ওই শিশু-কিশোরদেরকেও এ সরকার আগুনের মধ্যে পুড়িয়ে মারতে চাচ্ছে। যেখানে সারা বাংলাদেশ অগ্নিবর্ণ হয়ে উঠেছে সেই আগুন রাঙা বাংলাদেশের মধ্যে বাচ্চাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য করছে এই ডামি সরকার। গণ দুশমন ও গণবিরোধী সরকার না হলে এই নীতি গ্রহণ করত না।
তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তান আমলেও গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতাম। রমজান মাস একটি ইবাদতের মাস অথচ এই সরকার সেই মাসেও ১৫ দিন স্কুল খোলা রেখেছিল। যেখানে স্কুল সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ তার মধ্যে শনিবারেও খোলা রেখে বাচ্চাদেরকে তীব্র তাপদাহে বাচ্চাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে ।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর ফকিরাপুল বাজারে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আয়োজিত ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাবার পানি ও স্যালাইন বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশে এখন উত্তপ্ত আগুনের মত পরিবেশ। এই উত্তপ্ত গরমে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা এটার জন্য একমাত্র দায়ী এই গণবিরোধী সরকার। এরা নদী রক্ষা করতে পারেনি, ভূমিদস্যুরা নদী দখল করে রেখেছে। অন্যায় ভাবে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার কিছুই করছে না। প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কয়লা পুড়িয়ে তাপকেন্দ্র করলে দেশের কোন লাভ হবে না। দেশের গাছ, মাছ, ফসল পুড়ে যাবে। কুয়াকাটায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাগেরহাটের রামপালে কয়লা পুড়িয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে যার কারণে সমুদ্রপাড়ে নারিকেল গাছে নারিকেল ধরে না, ফসল ধরে না। আমাদের নিঃশ্বাস, আমাদের অক্সিজেন হচ্ছে সুন্দরবন সেই সুন্দরবনকে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। উজাড় করে দেয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে একটি গণবিরোধী সরকার। তাই আজ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই দেশ নদী খাল বিল দিয়ে ভরা কিন্তু সেই নদী খাল বিলগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সারাদেশ গরমে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রা মনে হচ্ছে ৪৩ বা ৪৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এরকম গরম বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো পড়েনি। সাহারা মরুভূমির গরমের মত অনুভূতি হচ্ছে। যে দেশে এত গাছপালা এত নদী খাল সেই দেশে এরকম গরম হওয়ার কথা না, শুধু সরকারের লুটেরা নীতি, নদী ভরাট করার নীতির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার দেশের মানুষদেরকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। লালমনিরহাট এখন কসাইখানা। একদিন পরপর বিএসএফ বাংলাদেশের মানুষদের গুলি করে হত্যা করছে। সেইখানে শেখ হাসিনার প্রতিবাদ নাই। সেইখানে তিনি মাথা নিচু করে থাকেন। আর দেশের মানুষকে তিনি দম বন্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে মারার ব্যবস্থা করছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপি নাকি যেকোন ভাবে ক্ষমতা দখল করতে চায়। আমরা দখল করতে যাব কেন দখল তো আপনারা করে রেখেছেন। জনগণ ছাড়া ভোট ছাড়া আমি-ডামি, আমরা আর মামুরা মিলে নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন। দেশের জনগণ চায় আন্দোলনের মাধ্যমে অতি দ্রুত এ সরকারের পতন হোক এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা তাকে সরকার গঠন করবে।
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি ক্ষমতা না ছাড়েন, বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে মরবে, গরমে-আগুনে পুড়ে মরবে, মানুষ চাল-ডাল-চিনি-লবণ পাবে না। দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দেশের মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে। এইজন্য দেশের জনগণ চায় এই সরকারের বিদায়। এই সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমেই দেশের জনগণ মুক্তি পাবে।
এসময় তিনি পথচারী ও রিক্সা চালকদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবার স্যালাইন এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, তাঁতীদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবীদলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম, যুবদলের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন সিদ্দিকীসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ