শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৩৯, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ৭, ২০২৬ ১:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ৭, ২০২৬ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ ও স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত যুক্তিতর্ক গ্রহন করে রায়ের জন্য দিনটি ধার্য করেন।

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আসামিরা কীভাবে অভিযুক্ত, সাক্ষীরা আসামিদের সম্পর্কে কী বলেছেন এবং আইনের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও রেফারেন্স তুলে ধরেন।

এরপর তিনি আদালতে বলেন, সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বিধায় তিনি আদালতের কাছে আসামিদের আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন।

এর আগে গত ৩ জুন মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষের সমর্থনের শুনানি শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিন ধার্য করেছিলেন।

গত ২ জুন মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করেন আদালত। সাক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।

৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আদালত ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি আদালতে পড়ে শোনান। এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি ডলারও দোষ করছে স্যার। ওরে ধরেন স্যার’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছওয়াল আছে একটা। আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ’। এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন, ‘আপনারটা আপনি বলেন’।

এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খুলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না আবারও বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার আমি নির্দোষ’।

এর আগে গত ২ জুন এ মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ রেকর্ড করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ