শেখ হাসিনার অধীনে কেয়ামত পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:১১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার অধীনে কেয়ামত পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ১, ২০২৪ ১:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ১, ২০২৪ ১:৫৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‌বিএন‌পি নেতা‌দের নামে হাজার হাজার মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জেলে ঢুকিয়ে একটি প্রহসনের নির্বাচন করেছেন। আপনি নিজেই প্রমাণ করেছেন শেখ হাসিনার অধীনে কেয়ামত পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না। তাই জনগণ চায় একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক।

বুধবার (১ মে) রাজধানীর মিরপুরের কচুক্ষেত এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পক্ষ থেকে সারাদেশে চলমান তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ নগরীর পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন ও তরমুজ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে। এই দুর্যোগ এমনি এমনি আসে না। আমরা যদি একটি চতুষ্পদ জন্তুকে বিরক্ত করতে থাকি সেও কিন্তু শিং বাঁকিয়ে ওঠে আসে। আমরা যদি একটি ছোট বাচ্চাকে উত্তপ্ত করি সেও কিন্তু কামড়িয়ে দেয়। আমরা যদি প্রকৃতিকে ডিস্টার্ব করি, নদী-খাল-বিল যদি ভরাট করি। গাছপালা যদি কেটে ফেলি, পাহাড় কেটে যদি সমতল করি তাহলে প্রকৃতি কিন্তু প্রতিশোধ নেয়।

তিনি বলেন, একটি গণবিরোধী সরকার তার ভাবধারা হচ্ছে লুটপাট করা। তারা জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে। এটাই হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ আর এটাই তারা করছে ১৬-১৭ বছর ধরে। এটা শুধু বিএনপির একার কথা নয়, এদেশের অর্থনীতিবিদ, দেশের জনগণ সবাই বলছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অতি ডানপন্থী, অতি বামপন্থীরা আমার সরকারকে ফেলে দিতে চায়। ডানপন্থী বামপন্থী জানিনা এদেশের মানুষ বাংলাদেশের সিংহাসনে আপনাকে আর দেখতে চায় না। আপনি শেখ হাসিনা এসব কথা বলে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চান। আপনি কি জনগণের ভোট নিয়েছেন? আপনি তো আপনার মামা-খালু-ভাতিজা-ভাতিজি-ভাগ্নি-ভাগনাদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। তাহলে কেন দেশের জনগণ আপনার সরকারকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেবে? এদেশের জনগণের ভোট জোর করে নিয়ে এদেশের গণতন্ত্রকে আপনি কবরস্থ করেছেন। তাই জনগণ চায় আপনার পতন হোক এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হক।

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি ১৬-১৭ বছর ধরে জনগণের উপর অতি ফ্যাসিবাদী কায়েম করেছেন। বল প্রয়োগ করে জনগণের স্বাধীনতা আটকে রেখেছেন। আর ভারতের সাথে স্বজনপ্রীতি করে ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছেন। অতি চালাকি, অতি নির্যাতন, অতি ভারত প্রীতি কোনটাই কাজে লাগবে না যদি দেশের জনগণ না চায়। আপনি জানেন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি ক্ষমতায় যেতে পারবেন না।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে গিয়েছিল এত বড় একটি দলকে মাত্র পাঁচটি আসন ধরিয়ে দিয়েছে। নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে, যিনি মারা গেছেন, কবরে চলে গেছে, বিদেশে চলে গেছেন, প্যারালাইসিস হয়ে শুয়ে আছে তাদের নামেও মামলা দিয়েছে। হাজার হাজার মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে জেলে ঢুকিয়ে একটি প্রহসনের নির্বাচন করেছেন। আপনি নিজেই প্রমাণ করেছেন শেখ হাসিনার অধীনে কেয়ামত পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না। তাই জনগণ চায় একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক।

আজ সারাদেশে তাপ প্রবাহে মানুষ গরমে জ্বলছে পুড়ছে তার মধ্যে বিদ্যুৎ নাই। মানুষ হাঁ-হুতাশ করছে।

বাংলাদেশে ১৭-১৮ কোটি মানুষের মধ্যে সাত কোটি লোক কোনরকম কাজের মধ্যে আছে। সে কাজকে কাজ বলা যাবে না। একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে বলছে, এর মধ্যে ৮৫% লোক যে কাজ করছে সেটা খুবই দুর্বল। অর্থাৎ ছয় কোটি লোক যদি দুর্বল কাজ করে রিক্সাচালক বা যে ফেরি করে চলছে, ফুটপাতে চায়ের দোকানদার, এরাতো সরকারের সামাজিক কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটেকশন তারা পায় না। আপনি শেখ হাসিনা শুধু উন্নয়নের কথা বলেন। উন্নয়ন তো হচ্ছে দেশের মানুষ দুবেলা পেট ভরে খেতে পারবে। আপনি মেট্রোরেলের কথা বলেন সেখান থেকে তো আপনার লোকেরা টাকা নিয়ে বিদেশে বাড়ি বানিয়েছে। আর এই ৬ কোটি মানুষ তাদের এক মুঠো ভাত যোগাড় করতেই অনেক কষ্ট হয়ে যায়। দ্রব্যমূল্যের দাম যে বারে হু হু করে বাড়ছে তাতে একজন রিক্সাচালক সারাদিন রিক্সা চালিয়ে কয় কেজি চাউল কিনবে সে তো এক পোয়া পিয়াজ কিনলেই তার সারাদিনের ইনকাম চলে যাবে। বড় বড় বিল্ডিং দেখানোই কি উন্নয়ন নাকি মানুষের আত্মনির্ভরশীল কর্মসংস্থান করাকে উন্নয়ন বলে।

প্রকৃতিকে উত্তপ্ত করার জন্য, প্রকৃতির গলা চেপে ধরার জন্য এই খরা, এই বন্যা এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপি নেতা তাবিথ আওয়াল, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তরিকুল আলম প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ