শেখ হাসিনা নিজেই এ জাতির দুর্দিনের প্রতীক: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:০৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা নিজেই এ জাতির দুর্দিনের প্রতীক: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৩ ২:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৩ ২:৪৩ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
শেখ হাসিনা নিজেই এ জাতির দুর্দিনের প্রতীক মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তিনি সারাজাতির ওপর দুঃসময় নামিয়ে এনেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার সদিচ্ছা প্রসূত কোনো কাজই করেননি। অশান্তি, হিংসা, সংঘাত ও হানাহানির এক বাতাবরণ তৈরী করে জনগণকে দুরে ঠেলে অবৈধ ক্ষমতাকে নিরাপদ করার চেষ্টায় রত আছেন। বর্তমান আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদের বাংলাদেশী সংস্করণ।’

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘অবৈধ আওয়ামী সরকার নিজেদের অস্তিত্ব টিকানোর জন্য গণতন্ত্রকামী বিরোধী দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আদালত, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য। জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সরকার তাদের শেষ অস্ত্র হিসেবে আদালতকে ব্যবহার করছে এক অমানবিক দমনের যন্ত্র হিসেবে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানসহ বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীরা এখন আজ্ঞাবহ আদালতের কোপানলে সাজা ও বন্দীর শিকার হচ্ছেন। এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে—স্বৈরশাহীর বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য চূড়ান্ত মরণকামড়। শেখ হাসিনার ইনক্লুসিভ নির্বাচন ও সুষ্ঠু ভোটের প্রতি এক ধরণের ক্রোধ থেকে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে হিংস্র প্রতিশোধ। যারাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দাবি করছেন তারাই শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। শেখ হাসিনা এখন প্রতিহিংসা পূরণ করছেন আদালতকে দিয়ে।’

রিজভী বলেন, ‘এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির মূল প্রতিপাদ্য ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা শুনলেই অস্থির হয়ে পড়ে। তাই স্বৈরাচারের উগ্রমূর্তির প্রতিফলনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতবিক্ষত। আইন, বিচার, আদালত, প্রশাসন, পুলিশ সবকিছুই একাকার হয়ে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর ওপর সর্বগ্রাসী আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার হিংসার পথে গণতন্ত্রের পক্ষের মজলুম নেতাদের নতজানু করতে না পেরে এখন আদালতকে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সাজা দেয়ার হিড়িক শুরু করেছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘দেশ এখন চরম সংকটে। দেশ এখন ডেঙ্গু জ্বরে কাঁপছে। ঢাকাসহ প্রায় সারাদেশে ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদই এখন প্রধান সংবাদ। এরই মধ্যে হাসপাতালে সর্বোচ্চ ভর্তি ও সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ জনের অধিক লোক ডেঙ্গুতে মারা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে শুধু ডেঙ্গুতে ৭০০ এর অধিক লোক মারা গেছে। অবৈধ সরকারের উদাসীনতার কারণেই লাশের সারি ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু সরকার সম্পূর্ণরুপে নিস্পৃহ ও নির্বিকার। অথচ এই রোগ শত ভাগ প্রতিরোধযোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র সরকারের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এই রোগ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ভারতে চাঁদে যেতে খরচ হয় ৬৫১ কোটি টাকা, অথচ বাংলাদেশে মশা নিধনের বাজেট প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। শেখ হাসিনার লোকজন আরব্য রজনীর গল্পকথাকেও হার মানিয়েছে। ইতোমধ্যে খরচ হওয়া টাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকজনই লুটে নিয়েছে। শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় ধ্বংসের শক্তি। তিনি দেশের জনগণকে দমন করার জন্য এহেন ধ্বংসাত্মক কাজ নেই যা তিনি করছেন না। এই গভীর সংকটকালে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি পরিবারসহ যান সিনেমা হলে আর প্রধানমন্ত্রী বিমানে বিশাল বহর নিয়ে পিকনিক করতে যান বিদেশে। অথচ গণতন্ত্রকামী মানুষের বিপক্ষে হিংসার প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না।’

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কতৃর্ত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুণঃগঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা; বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি, মিথ্য—গায়েবী মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশী সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার ১ দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট দল সমূহ যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা ও সফল করার লক্ষ্যে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে রাজধানীতে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিবউন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য (দফতরে সংযুক্ত) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ