সংখ্যাগরিষ্ঠ জনরায় অমান্য করা হলে পরিণতি হবে ফ্যাসিবাদের মতোই’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয় তাহলে তাদের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার। সারা দেশে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে একথা বলেন তিনি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা শেষ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে সেখানে কোনো টালবাহানা ছাড়াই তদন্ত করতে হবে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে না ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা (বিএনপি) না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নির্বাচনের পর পেইড বুদ্ধিজীবীরা বলছে সরকার মানতে বাধ্য নয়।
মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয় তাহলে তাদের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তন জনগণ মেনে নিবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সংসদে যাওয়ার আগেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে এটা ভাবি নাই। জনগণের ওপর বিশেষ করে নারী সমাজের ওপর যে হামলা নিপীড়ন হচ্ছে তা জঘন্য অপরাধ। সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দল একসঙ্গে লড়াই করে যাবে।
ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু সেটি হয়নি। এরপর আবার শুরু হয়েছে হামলা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে। সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পর সারা দেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।
কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে ও এলডিপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা ভুল করেছি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মানুষদের নিয়েই এই নির্বাচন হয়েছিল। হাদির খুনিদের পালানোর পরেই আমাদের সাবধান হওয়া দরকার ছিল। ১১ দল উদারতা দেখিয়ে ভুল করেছে। এরপরেও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন করতে না পারে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আজকের টিআইবি রিপোর্টে স্পষ্ট কীভাবে সর্বস্তরে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কলঙ্ক লেগেছে। অতিদ্রুত তদন্ত করে এই কলঙ্ক মোচন করুন।
জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশকে, প্রশাসনকে, কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে। ভোটের পরেই তারা হামলে পড়েছে বিরোধীদের ওপর। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই মজলুমরা থামতে জানে না।
বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি বরং ডাকাতি করেছি। পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে তাদের ১১ দল রাজপথে জবাব বুঝে নেবে।
তিনি বলেন, ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচারের দাবিতে মাঠে গেছি। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাবো দ্রুত বিচার করার। আমাদের এতদিন বলা হয়েছে নির্বাচন ও বিচার মুখোমুখি না করার। আমরা না মরিয়া প্রমাণ করেছি আমরা নির্বাচন বিরোধী না। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই, সংস্কারে জনগণ ‘হ্যা’ এর পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, রাজপথে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে আমার বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে। প্রত্যেকটি হিসাব আমরা ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমানের কাছে বুঝে নেব। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা। বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হবেন না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ