সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে: স্পিকার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

 

ভোলা প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
আগামী দিনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে বলেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে পরিবর্তন করতে পারে না; কেবল জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই তা করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভোলায় এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, জনগণ যাদের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন, তারাই দেশের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই ন্যস্ত।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু “উদ্ভট নিয়ম” করে গেছে, যা নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংবিধান পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি ইতোমধ্যে এ সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং তারা এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্পিকার জানান, বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। সনদে উল্লেখ রয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল চাইলে নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে খুব বেশি মতপার্থক্য নেই। যেটুকু আছে, তা মূলত রাজনৈতিকভাবে একে অপরকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। আমি আশা করি, জুলাই সনদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, যাতে এর মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল এবং এই জটিলতা অনেক সময় রাজনৈতিক নেতারাই তৈরি করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত দেশপ্রেমিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং বাঙালি জাতি জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছে। এখন সবাইকে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ছিল, তারা জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। প্রফেসর ইউনূস ভালো ছিলেন, পৃথিবী বিখ্যাত লোক। তাদের পক্ষে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির সূচক নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই যে হামের টিকা নেই, বহু শিশু জীবন দিয়েছে। এভাবে অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে তখন জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়।

তিনি বলেন, তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। তাদেরকে একটা কৃতিত্ব দেই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের ট্র্যাকে উঠেছে। আশা করবো এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।

এর আগে স্পিকার ভোলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে ভোলা সার্কিট হাউসে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বিকেলে তিনি তার নির্বাচনি এলাকা লালমোহনে গণসংবর্ধনায় অংশ নিতে রওনা হন।

উল্লেখ্য, তিনি ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বরিশাল হয়ে ফেরি পার হয়ে ভোলায় পৌঁছান। তিন দিনের সফরে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ