সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা পায়নি বিরোধী দল: জামায়াতের আমির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা পায়নি বিরোধী দল: জামায়াতের আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি ডিবেট হয় না, দুই মিনিটে কমেন্ট পাস করা যায়। সময় স্বল্পতার মধ্যে বিরোধীদল সংসদে নোটিশ উত্থাপন করলেও তা টকডআউট করা হয়, যা স্পিকারের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।’

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জেলা ও মহানগর আমির’ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাংগঠনিক ৭৯টি জেলা ও মহানগরের আমির-সেক্রেটারি উপস্থিতি ছিলেন।

প্রধান অতিথি জামায়াতের আমির বলেন, ‘১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। সংবিধানের বর্তমান অবস্থানকে পরিবর্তন করার জন্য যেসব অধ্যাদেশ জারি হয়েছে- সেই জায়গাগুলো বিএনপি বদলাতে চায় না। অর্থাৎ ঐ জায়গাগুলো রেখে দিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় হয়তো তারা দেশ চালাতে চায়। আমাদের লোকেরা তখন নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।’

সংসদ নির্বাচনের ৩০ দিন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংসদ অধিবেশন ও সংস্কার পরিষদের অধিবেশ না ডাকায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলীয় নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম ১৩৩টি অধ্যাদেশে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এটা সংসদের প্রপার্টি, এটা সংসদেই আলোচিত হতে হবে। কিন্তু শেষ দিন দেখা গেল এখানে কাটছাট করে আমাদের সামনে আলোচ্যসূচি দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তখন আমরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কার্যত জনগণকে অপমান করেছে সরকার। বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসে কোথাও রেফারেন্ডাম এভাবে বৃথা যায়নি। বাংলাদেশে এটি চতুর্থ রেফারেন্ডাম। চতুর্থটাও বিএনপির হাতে। জিয়াউর রহমান যে গণভোট করেন সেই প্রথমটাও সংবিধানে ছিল না। শেষটাও সংবিধানে ছিল না। ওটা যদি জায়েজ হয় তাহলে এটা জায়েজ হবে না কেন? ’

তিনি আরও বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব অধ্যাদেশ আকারে এসেছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রেখে উপযুক্ত দক্ষ, নিরপেক্ষ লোক বসানো, সেটাও ওনারা আটকিয়ে দিলেন। এরপর মানবাধিকার সামান্য আলোচনা করে জোর করে পাস করিয়ে নিলেন। গুম কমিশন, গুম প্রতিরোধ আলোচনায় আনা হলো না। এই গুমের শিকার লোকেরাই তো এখন সংসদে সদস্য হয়ে এসেছেন। আবার গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। জোর করে এটাও ফেলে দেওয়া হল। তার মানে কি আবার গুম হবে? আবার নতুন করে আয়নাঘর তৈরি করা হবে?’

ব্যাংক সংস্কার নিয়ে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘ব্যাংক সংস্কারের জন্য ব্যাংক রেজুলেশন। ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়ে গেল। এগুলো আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার অধ্যাদেশ ছিল। এসব অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রণীত উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক যত প্রতিষ্ঠান ছিল, সবগুলো ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। খেলার ময়দানেও বাপের তালিকায় আবার কেউ স্বামীর তালিকায়- এভাবে দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে। সিভিল প্রশাসনে দক্ষ লোকগুলোকে ওএসডি করা হচ্ছে। তাদের মেধা থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। পুলিশেও একই অবস্থা। সব দিকে একটা মহা নৈরাজ্য চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চোখের পলকে বিদায়। বিচারকদের উপর হস্তেক্ষেপ করে এখন ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, অথচ বলা হচ্ছে বিচারকরা স্বাধীন। এ অল্প সময়ের ভিতরে তারা এ কাজগুলো করেছে।’

সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আসুন, আমরা ভুল থেকে বের হয়ে আসি। গণভোটের রায়কে মেনে নিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন। আমরা আপনাদের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব। এই সংসদের তিনশ’ মানুষ যদি দেশবাসীর জন্য দায়িত্বশীল হয়ে যায়- তাহলে বাংলাদেশ বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব পালন ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের আঙ্ক্ষাকা নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়নি। নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তা বের হয়েছে। তিনিই প্রথম রাজসাক্ষী। ইতিহাস একদিন এই নির্বাচনের পোস্টমর্টেম করবে। সেদিন চুলচেরা আরও অনেক জিনিস বের হয়ে আসবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ