সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরীয়তপুরে ৩টি আসন জয়ের আশা , জামায়াত মাঠ গোচাচ্ছেন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৪৬, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শরীয়তপুরে ৩টি আসন জয়ের আশা , জামায়াত মাঠ গোচাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৫ ২:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৫ ২:১৮ অপরাহ্ণ

 

মোঃ আবুল হোসেন সরদার, শরীয়তপুর
৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর শরীয়তপুরে লেগেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ভোটের মাঠ সাজাচ্ছে বিএনপি। বসে নেই জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পাটি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মসলিস, গনঅধিকার পরিষদর। সম্ভাব্য প্রার্থীরা শরীয়তপুরের ৩টি নির্বাচনি আসনেই এখন সক্রিয়। নেতারা জনসংযোগের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক ও ধমীয় অনুষ্ঠান গুলোতে। এদিকে ইসলামী সমমনা দলগুলো ঐক্য ও শান্তির বার্তা দেযার সঙ্গে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রæতি ও। বিএনপি তিনটি আসনেই জয়ের আশা করছেন। জামাত ইসলামী মাঠ গোচাচ্ছেনে। এ জলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৯০ হাজার ২০০ জন। এ জেলায় বিএনপি উপকোন্দল ও বিভক্তি রয়েছে। তবে নির্বাচনে কোন কোন্দলই থাকবেনা বলে নেতাকর্মীদের আশা। তাছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর একান্ত সচিব মিয় নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু’র এ জেলায় দলের প্রতি এককছত্র আধিপত্ত রয়েছে। তিনিই পারবেন দলকে কোন্দল মুক্ত করতে।
শরীয়তপুর জেলা সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-১ আসন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং জাজিরা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে এ আসনে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৮৩ জন । এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যাদেও নাম শোনা যায় তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান,জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাহমিনা আওরঙ্গ,মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতা ফাহিমা আকতার মুকুল। তারা প্রত্যেকেই যার যার মতো করে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। এরা সবাই মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদী। এ ছাড়া জামাতের প্রার্থী মোশারফ হোসেন মাসুদ,গন অধিকার প্রার্থী এড ফিরোজ আহম্মেদ মুন্সি, এনসিপি এড.রুহুল আমিন,ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা তোফায়ের আহম্মেদ,জমিয়ত ওলামা জিয়াউল হক,খেলাফত মজলিসের মাওলানা জালাল উদ্দিন ।
শরীয়তপুর -২ নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীযতপুর ২ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ০৬৫ জন । এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি কর্ণেল (অব) এসএম ফয়সাল ,বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মহি উদ্দিন জিন্টু ,বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রায়ত সদস্য জামাল শরীফ হিরুর সহধর্মীনি জামাতের প্রার্থী মাহমুদ হোসাইন বকাউল,খেলাফত মজলিসের মাওলানা দবির হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এ কে জসিম উদ্দিন ।
শরীয়তপুর-৩ এ আসনটি ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯০হাজার ২৫২ জন। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর একান্ত সচিব মিয় নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ গ্রæপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহম্মেদ আসলাম,কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব এর সগধর্মীনি এড.তাহমিনা আওরঙ্গ, জামাতের আজহারুল ইসলাম,খেলাফত মজলিসের খবির উদ্দিন এর নাম শোনা যায়। এ তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইতে ভুল না হলে ক্লিন ইমেজের লোক দেয়া হলে, বিশেষ করে গত ১৬ বছর আন্দোলনে সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন ,দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে ছিলেন,দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আওয়ামীলীগের সাথে যাদের সখ্যতা নেই, যাদের নামে অনিয়ম দুর্নীতি ও চাদাঁবাজির কোন বদনাম নেই। এ ধরনের প্রার্থী বাছাই করা হলে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহন হলে সব ক’টি আসনেই বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে। এ তিনটি আসনে যারা ভোটের মাঠে রয়েছেন তাদের সবকটি দলের চেয়ে বিএনপির ভোট রয়েছে বেশী । শরীয়তপুর ৩ আসনে সর্বদাই বিএনপির ভোট বেশী ছিল। আর এবারের ভোটে যেহেতু আওয়ামীলীগ মাঠে নেই সেহেতু বিএনপি সবচেয়ে শক্তিশালী ভোট ব্যাক রয়েছে এ জেলায়।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মজিবুর রহমান মাদবর বলেন, আমি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সহ দলের জন্য বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মাঠে ছিলাম। আমার সে অবস্থানকে মুল্যায়ন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাইকমান্ড আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর ১ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে আমাকে মনোনয়ন দিবেন এটা আমি দৃঢ ভাবে প্রত্যাশা করি। আমি মনোনয়ন পেলে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবো ইনশাঅল্লাহ।
শরীয়তপুর জেলা বি এনপির সাধারন সম্পাদক সরদার একে এম নাসির উদ্দিন কালু বলেন, বি এনপি একটি বড়দল এখানে ১০ জন মনোনয়ন চাইতে পারে। পার্টি যাকে যোগ্য মনে করে তাকে মনোনয়ন দিবে। এখানে গ্রæপিং থাকতেই পারে। এটা কোন ব্যাপার না।
কর্ণেল এসএম ফয়সাল বলেন, দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে ১৬ বছর নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলাম, দলের সকল কর্মসুচী পালন করেছি। আগামী নির্বাচনে দল যে ধরনের প্রার্থী দেয়ার চিন্তা ভাবনা রয়েছে তাতে আমি আশাবাদী মনোনয়ন পাব। মনোনয়ন পেলে সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করবো।
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আন্দোলন সংগ্রামে সর্বাই নেতাকর্মীদের সাথে ছিলাম,আওয়ামীলীগের মামলা হামলা সবকিছু উপেক্ষা করে দলের নেতার নির্দেশ পালন করেছি। আমি আশাবাদী আমি মনোনয়ন পাব। আর আমি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ