সংসদ নির্বাচন আটকানোর শক্তি কারও নেই’ বলে হুঁশিয়ারি দিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংসদ নির্বাচন আটকানোর শক্তি কারও নেই’ বলে হুঁশিয়ারি দিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ৬, ২০২৫ ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ৬, ২০২৫ ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
শনিবার বিকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন করতে হবে… নির্বাচন আটকানোর শক্তি কারও হাতে নেই যদি আমরা নামি। যারা বলে ১৬ বছর আমরা কিছু করতে পারিনি, তাদের বলব—আমরা এখন ১৬ দিনেই তা দেখিয়ে দিতে পারি… আমরা দেখাব না।”

‘‘একজন ভদ্রলোক মানুষ ওয়াদা করেছেন, তিনি তার ওয়াদা পূরণ করবেন, যথাসময়ে নির্বাচন দেবেন—এই প্রত্যাশা নিয়ে আমরা ধৈর্য ধরে আছি।”

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘‘শিক্ষা আর স্বাস্থ্য—দুইটা দখল করেছে জামায়াত। ওখানে আর কারও কোনো ঠাঁই নেই… মাঝে মাঝে অনেকে বলে ভারতের দালাল-টালাল। যারা ভারতের দালালি করে তারাই ভারতের দালাল।”

‘‘যারা নির্বাচন চায় না, সংস্কার সংস্কার করে এটা-সেটা বলে… এরা তো ভারতের দালাল। এদের মধ্যেই অনেকে গোপনে আওয়ামী লীগের জঘন্য লোকদের তাদের দলে সদস্য বানাচ্ছে—তারা খবরও রাখে না। পরাগ মণ্ডলকে যিনি অপহরণ করেছে, সবাই জানেন তার নাম… এখন শুনি সে জামায়াতের নেতা। জামায়াত কী, তা আপনারা চিনে রাখুন।”

মাদক ও অস্ত্রমুক্ত কেরানীগঞ্জ গড়ে তুলতে ‘উন্নয়নের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা’ প্রণয়নের কথাও জানান গয়েশ্বর।

কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ার শুভাঢ্যা গার্লস স্কুল প্রাঙ্গণে দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ‘যথাসময়ে সংস্কার ও দ্রুত সময়ের নির্বাচন’-এর দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেন। বক্তারা আগামী ঢাকা-৩ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

‘যেকোনোভাবে ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘আমি আহ্বান করব—আগামী দিনে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা পেতে যাচ্ছি, তার বিনির্মাণে আমাদের শপথ আছে, শহীদের রক্তের শপথ আছে, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার শপথ আছে, সারা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা আছে। সেই বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ নেতৃত্ব দেবেন জনাব তারেক রহমান—আমাদের নেতা, বাংলাদেশের নেতা, গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। তিনি এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাহারাদার হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করবেন। সেই রাষ্ট্র গড়ার জন্য আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ থাকব।”

‘‘ঐক্যই আমাদের শক্তি। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, আমরা সেই ঐক্যকে সমুন্নত রাখব, শক্তিতে পরিণত করব। এই ঐক্যকে সামনে রেখে আমরা নতুন বাংলাদেশ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ থাকব, সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখব, গণতান্ত্রিক সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাব।”

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে যেন কোনো বিভক্তি না আসে। গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো প্রচেষ্টা যেন সফল না হয়।”

‘‘আমরা সেই ঐক্য ধরে রেখে গণতান্ত্রিকভাবে প্রয়োজন হলে দ্বিমত পোষণ করব, মতামত দেব। তবে দিন শেষে আমরা সবাই একটি পথেই এগিয়ে যাব—সেই পথ হচ্ছে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার, গণতান্ত্রিক উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পথ।”

‘১৬ বছর ওদের শান্তি সমাবেশ’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘‘অনেকদিন পর এই এলাকায় একটি সমাবেশে বক্তব্য দিতে আসলাম। গত ১৬ বছর বিএনপির মিটিং হলেই পাশে ডাকা হতো আওয়ামী লীগের ‘শান্তি সমাবেশ’। আহা রে শান্তি!”

‘‘শান্তি সমাবেশে কারা আসত? এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত? না। আসত এলাকার সবচেয়ে বড় গুণ্ডা, মাস্তান। যে পথ দিয়ে আসত, খুটখাট আওয়াজ হতো। সেটা অস্ত্রের আওয়াজ। শেখ হাসিনার আমলে ‘শান্তির মা’ মারা গিয়েছেন, দাফনও করেছেন শেখ হাসিনা।”

বিগত ১৬ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘এখন কেউ কেউ বলে—বিএনপি কী করেছে?”

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছি—সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। এ দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের প্রশ্নে কোনো টালবাহানা করা হলে, আবার কোনো ঝামেলা করা হলে আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব।”

‘লন্ডন বৈঠকে অনেকের গা জ্বালা’
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘লন্ডনে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের নেতা তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে ওয়ান-টু-ওয়ান দেড় ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। জনপ্রিয় দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক হতেই পারে।”

‘‘এই বৈঠকে অনেকের গা জ্বলছে। কিন্তু কোনো লাভ নেই। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের সঙ্গে বৈঠক হবে—এটাই তো জনগণের প্রত্যাশা ছিল, এবং সেটাই হয়েছে।”

‘দুই পরাজিত শক্তির ম্যাগসাস’
বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘‘গতকাল জামায়াতের এক নেতা বলেছেন—যেনতেনভাবে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। অথচ জামায়াতই ’৮৬ সালে স্বৈরাচারের ডাকে নির্বাচনে গিয়েছিল, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাঁত করেছিল।”

‘‘তারা বলে বিএনপি নাকি সারাদেশে দখলবাজি করেছে। আমরা বলি—কাঁচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল মারবেন না। দেশের মানুষ দেখেছে ৫ আগস্টের পর প্রথম ব্যাংক ডাকাতি করেছে কারা? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করেছে কারা? জামায়াত। আজ ’২৪-এর পরাজিত শক্তি ও ’৭১-এর পরাজিত শক্তি—এই দুই শক্তির মিলনমেলা আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

নির্বাচন নিয়ে গড়িমশি মেনে নেওয়া হবে না’

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, ভোটাধিকার চায়। এই নির্বাচন আর দাবি নয়, এটা এখন আমাদের আদায় করে নিতে হবে। এ নিয়ে গড়িমশি চলতে দেওয়া যাবে না।”

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু। এতে কেরানীগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ