সংস্কৃতিচর্চা না থাকলে জাতি ইতিহাস ভুলে যাবে: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৫৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সংস্কৃতিচর্চা না থাকলে জাতি ইতিহাস ভুলে যাবে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চর্চা অব্যাহত না থাকলে জাতি ইতিহাস ও শেকড় হারিয়ে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য ১৬-১৭ বছর লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। শুদ্ধ ঈশ্বরপ্রেম, মানবিক প্রেম, আধ্যাত্মিকতার ভাবনা ও লোকজ সাহিত্যের ধারাবাহিক অনুশীলন না থাকলে আমরা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলে যাব।’

বৃহস্পতিবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের অন্যতম নিজস্ব উৎসব এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। আগে এটি মূলত গ্রামীণ উৎসব হিসেবে পালিত হলেও বর্তমানে শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও এর বিস্তৃতি ঘটছে। একসময় হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন করতেন এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী জীবনযাপন করত। কিন্তু বর্তমানে নতুন প্রজন্ম বাংলা সাল ও পঞ্জিকার সঙ্গে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক ছেলে-মেয়েই বলতে পারবে না বাংলা সাল কত। ইংরেজি স্কুলে বাংলা পঞ্জিকা শেখানো হয় কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। এভাবে ভুলতে ভুলতে আমরা অনেক দিক থেকে হারিয়ে যাব।’

সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার উদাহরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো নিজেদের মৌলিক বর্ণমালা হারিয়ে রোমান লিপি ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, ‘এটা সংস্কৃতির বড় দুর্লক্ষণ। আমরা বহু প্রতিকূলতার পরও নিজেদের লিপি ধরে রাখতে পেরেছি। দেশের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধর্মবিরোধী হিসেবে দেখার প্রবণতা ঠিক নয়। ইসলামী ঐতিহ্য ও লোকজ ধারা মিলেই এ অঞ্চলের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ইউসুফ-জুলেখা, লাইলি-মজনু, রামায়ণভিত্তিক কাহিনি, গম্ভীরা, কবিগান, জারি-সারি, যাত্রাপালা—সব মিলিয়ে এ দেশের অভিন্ন সংস্কৃতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আউল-বাউল আমাদের সংস্কৃতির অংশ। যদি উগ্রবাদ দিয়ে এটাকে আক্রমণ করা হয়, তাহলে আমাদের মূল সংস্কৃতির চর্চা ধ্বংস হবে। আজকে কেন মাজারের পীরকে হত্যা করা হচ্ছে, কেন বাউলদের ওপর আঘাত করা হচ্ছে—এই আঘাত আমাদের সংস্কৃতির মর্মমূলে আঘাত।’

তিনি বলেন, দেশের মূল সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে এটিকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এতে যেন কোনো ধরনের অশ্লীলতা প্রবেশ না করে।

বিএনপি’র এই সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব বলেন, যাত্রাপালা, পালাগানসহ বিভিন্ন পরিবেশনশিল্প একসময় মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বাধিকারের চেতনা এসব শিল্পমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ