সমাবেশের বিকল্প স্থান নির্ধারণে আলোচনা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সমাবেশের বিকল্প স্থান নির্ধারণে আলোচনা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২২ ৯:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২২ ৯:২৮ অপরাহ্ণ

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে সেটা আমরা তা মনে করি না। পরিস্থিতি সব সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, তাদের একঘেয়েমি ছেড়ে হয় তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসুক। বিরাট সমাবেশ করুক, আমরাও দেখি, দেশবাসীও দেখবে। নয়তো কালশী মাঠে যাক। এরপরও আলোচনা হতে পারে। তারা আসুক ডিএমপি কমিশনারের অফিসে বসুক।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) নয়া পল্টনের বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে দেখে ফেরার সময় সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

কিন্তু কিভাবে তারা বসবে মন্ত্রী? যারা বসবেন তাদের সবাইকে তো এরেস্ট করে রিমান্ডে নিয়েছেন। এটার তো পলিটিকাল সলুশন হবার দরকার ছিল! আপনি কি পলিটিকাল সলুশনে ব্যর্থ হয়েছেন? একারণেই পুলিশী অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে? এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল তো আছেন। আপনার কি তাই মনে হয়? এছাড়া কোনো উপায় কি ছিল নাকি? পুলিশ যেভাবে মার খাচ্ছিল, এছাড়া কোনে উপায় ছিল না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কাজ করেন, আপনারা মিছিল করেন, মিটিং করেন কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু আপনারা যদি ভাংচুর করবেন, জানমালের ক্ষতি করবেন, আহত করবেন, তখন তো নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকবে না। তাদের কাজই তো প্রটেকশন দেয়া।’

পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে হামলা করেছে, আমরা ভিডিও দেখেছি, ভাংচুর করা হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ছবি আমরাও দেখেছি। হামলা করেনি, সার্চ করেছে। ভাংচুর হতে পারে, সমর্থকরা নিশ্চয় ধাক্কা-ধুক্কা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি হয়তো সেরকম হতে পারে।’

বিএনপি অভিযোগ করেছে পুলিশ ব্যাগে করে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিয়ে গেছে? এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার যেসব পুলিশ আহত হয়েছেন তাদের দেখে আসুন, তারা কি নিজেরা নিজেরা ককটেলে আহত হয়েছে নাকি? তারা মার খেয়েছে, ককটেলের হামলার শিকার হয়েছে।’

ককটেলের মতো ছোট বিস্ফোরকে এতো পুলিশ আহত হলো? পুলিশের কি তবে সক্ষমতা কমেছে? পুলিশের কি সক্ষমতা বাড়ানো দরকার? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ সব সময় মনে করে আসছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে ককটেল মারতে হবে। এমন কোনে ঘটনা ঘটেনি হামলা করতে হবে পুলিশের উপর। পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে থাকে, জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করে আসছে। পুলিশ এক্সপেক্টই করেনি হামলা হতে পারে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বিভিন্ন বিভাগে সমাবেশ করেছে, নানা কথা বলেছে, সমালোচনা করেছে, আমরা কিছুই বলিনি। কোথাও বাধা আমরা দিইনি। বড় বড় সমাবেশ করেই তারা মন খুলে কথা বলেছেন।’

‘ঢাকায় এসেই তারা বলছেন ঢাকায় তারা বিশাল সমাবেশ করবেন। নানাভাবে খবর আসছিল ২৫ লাখ লোকের সমাবেশ করবেন। তারা প্রথম চেয়েছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। অফিসের সামনে ও সংসদ ভবনের সামনে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তখন দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না ছাত্রলীগের সমাবেশের কারণে। সংসদ ভবনের সামনে কাউকে অনুমতি দেয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ছাত্রলীগের সমাবেশ আট ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর আনা হয়। ডিএমপি কমিশনার অনুমতি দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে৷ কিন্তু তারা পল্টনেই করবেন। আমরা বিকল্প স্থানের কথা বললাম। কালশী, পূর্বাচলে। কিন্তু তারা পল্টনেই করবেন।’ মন্ত্রী যোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ করে গতকাল শুনলাম পুলিশের উপরে ঢিল, ইটপাটকেল, ককটেল বিস্ফোরণ, আক্রমণ করেছে। পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। প্রাথমিকভাবে ৪৯ আহত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সিরিয়াস কয়েকজন ঢামেক হাসপাতালে আছেন। এখানে(রাজারবাগ হাসপাতালে) একজনের ৪২ টা সেলাই দিতে হয়েছে। অনেকের শরীরে মারধর, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, বেশির ভাগই হাতবোমার স্প্রিন্টারে আহত হয়েছেন। এভাবেই তারা পুলিশ বাহিনী আহত করেছেন। পুলিশ বাহিনী নিবৃত হননি। টিয়ারসেল, রাবার বুলেট মেরেছেন।’

বৃহস্পতিবার(৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৪ টা ১৫ মিনিটে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পৌছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ীর বহর। একই সময় উপস্থিত হোন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ