সমালোচনার সুযোগ থাকুক, শক্তিশালী মিডিয়া চায় সরকার: তথ্য উপদেষ্টা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সমালোচনার সুযোগ থাকুক, শক্তিশালী মিডিয়া চায় সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, মে ৩, ২০২৬ ৯:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মে ৩, ২০২৬ ৯:১১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সরকার গণমাধ্যমের সমালোচনাকে স্বাগত জানায় এবং দেশে একটি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত মিডিয়া দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চাওয়া কোনও সরকারের জন্য মিডিয়ার সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমরা চাই যৌক্তিক সমালোচনা অব্যাহত থাকুক।”

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে রবিবার (৩ মে) দুপুরে ইউনেসকো ও টিআইবি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “একটি জিনিস ভালো লাগছে এজন্য যে, এই সরকারকে ক্রিটিক করা যাচ্ছে।” ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি রিয়াজ ভাইকে দেখলাম যখন সরকারকে সমালোচনা করছিলেন, তার গলা অনেক চড়ে গিয়েছিল। তিনি কোনও সেন্সর ছাড়াই কথা বলেছেন। ক্রোড়পত্রের প্রসঙ্গ যখন উঠেছে, এটা আমাদের জন্য একটি স্বীকৃতি যে এখন সরকারকে উচ্চস্বরে সমালোচনা করা যায়। আমরা চাই এটা অব্যাহত থাকুক।”

কারাগারে আটক সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “নোয়াবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সংকটের দ্রুত সমাধান হবে।

নারীদের সাইবার বুলিং মোকাবিলায় বিশেষ সেল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “অনলাইনে নারী সাংবাদিকসহ নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তার ভাষায়, “নারীদের প্রতি সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে আমরা জেনুইন গ্রাউন্ডে খুব টাফ হতে যাচ্ছি।”

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দীর্ঘ স্বৈরাচারী পরিবেশে সাংবাদিকতার মানদণ্ড পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, “মিডিয়াকে নিজেদের ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।”

মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাস্তবায়ন রাতারাতি সম্ভব না হলেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।”

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “শত শত কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে বিটিভির আয় খুবই কম এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ভর্তুকিনির্ভর।” তিনি বলেন, “প্রয়োজনে বন্ধ করার আলোচনাও তাত্ত্বিকভাবে হতে পারে। তবে আমরা চাই বিটিভিকে জনগণের কল্যাণে নতুনভাবে ব্যবহার করা হোক।”

স্কুল কারিকুলামে মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ চলছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে শিশুদের মিডিয়া সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।” ঢাকাকেন্দ্রিক কার্যক্রম কমিয়ে জেলা ও প্রান্তিক এলাকায় মিডিয়া লিটারেসি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

ফেক নিউজ ও বিভ্রান্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেও মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ম্যালইনফরমেশন ছড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে।” নিজেকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা অন্যায় এবং ফেক নিউজ মোকাবিলায় আইনগত ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা করা যেতে পারে জানালেও তিনি বলেন, “সরকার সাংবাদিকদের বিষয়ে কোনও যোগ্যতা জোর করে চাপিয়ে দিতে চায় না। কারণ বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক একাডেমিক সাংবাদিকতায় পড়েননি।”

বিশ্বব্যাপী প্রেস ফ্রিডমের অবনতির কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “রাইট-উইং পপুলিজম, মিডিয়া লিটারেসির ঘাটতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।”

সবশেষে ডা. জাহেদ জানান, সরকার মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না এবং আগামী দিনে প্রেস ফ্রিডম পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ