সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক নিজামূল হক শ্রীঘরে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক নিজামূল হক শ্রীঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৪ ৩:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৪ ৩:২২ অপরাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া চরগয়ঘর আঃ মান্নান ভাষানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (ডেপুটেশনে আঃ হামিদ সাকিদার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ) নিজামূল হক এর বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও দায়ের করা নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় শ্রীঘরে প্রেরন করেছেন আদালত। গত ১৭ জানুয়ারী সকালে তাকে পালং মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত জামিন শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।
মামলার বিবরনে জানাযায়, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই নড়িয়া উপজেলার দিগম্বরপটি গ্রামের আবুল হোসেন হাওলাদারের কন্যা স্কুল শিক্ষক এর সাথে সদর উপজেলার পশ্চিম সারেঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজুল হক খানের পূত্র সদর উপজেলার শৌলপাড়া চর গয়ঘর আঃ মান্নান খান ভাষানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজামুল হক এর বিয়ে হয়। এর পূর্বে নিজামুল হক ১ম বিয়ের স্ত্রী ও দুটি পূত্র সন্তান রয়েছে। এরপর তারা দু’জনে নড়িয়া উপজেলার উপশী আতাউর রহমান খানের বাড়িতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছেন। এরইমধ্যে নিজাম তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা য়ৌতুক দাবী করেন। স্ত্রী ও তার বাবা মা যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারপিট করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আপোষ মীমাংসা হয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে দু’জনে পুনরায় ঘরসংসার শুরু করেন।কিছুদিন যেতে না যেতেই ২৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখ পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। য়ৌতুক দিতে অস্বীকার করায় স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে মারপিট করে এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং বলে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসতে না পারলে আমার সাথে ঘর সংসার করতে পারবিনা। স্বামীর কাছ থেকে একটু দুরে গিয়ে স্ত্রী তার বাবা মাকে ফোন করলে তাকে দ্রæত উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রোগী ২দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়।এরপর সে নড়িয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিলম্বের কারন দেখিয়ে মামলা নিতে অস্বীকার করেন। এরপর স্ত্রী শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নারী শিশু মামলা দায়ের করেন। যার পিটিশন নং ২৮১/২২। উক্ত মামলায় আরজি শুনানির পর আদালত জেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন তার পক্ষে ডামুড্যা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল আহম্মেদকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ডামুড্যা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মামলার আসামী পক্ষে বাধ্য হয়ে একটি মনগড়া মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর বাদীনি আদালতে কৌশলীর মাধ্যমে নারাজী দিলে পুনরায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বাদীনি ও আসামী দুজনই শিক্ষক বিধায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে অপারগতা প্রকাম করে আদালতকে আবহিত করেন। এমতবস্থায় আদালত জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দেন। জুডিশিয়াল তদন্তে বাদীনির অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে সত্যতা পাওয়া গেলে আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির আদেশ করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ গত ১৭ জানুয়ারী ভোরে নিজামূ হক কে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করেছেন। আদালত আসামীর জামিনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ