সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে : গণতন্ত্র মঞ্চ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে : গণতন্ত্র মঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ৪, ২০২৩ ৮:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ৪, ২০২৩ ৮:৩১ অপরাহ্ণ

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশ শেষে সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১৪ দাবিতে দিনাজপুর অভিমুখে রোডমার্চ শুরু করে গণতন্ত্র মঞ্চ।

সাইফুল হক বলেন, ‘এই রোডমার্চ এখান থেকে আমরা মৎস্যভবন পর্যন্ত হেঁটে রোডমার্চ করে গাড়ি উঠব। গাজীপুরে আমাদের পরবর্তী সমাবেশ। এরপর থেকে আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি আছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই রোডমার্চ সম্পন্ন করতে চাই।

‘আমরা আশা করব সরকার, সরকারি দল, প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের সহিংসতা, কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের দাবি, আন্দোলনের দাবি, মানুষকে রক্ষা করার যে দাবি সেই দাবিতে আমরা আমাদের রোডমার্চ শেষ করতে চাই। ৭ তারিখ রংপুরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে রোডমার্চ সমাপ্ত হবে এবং সেখান থেকে আমরা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

এরপর নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে মৎস্যভবন মোড়ে যান। সেখান থেকে তারা ৭-৮টি মাইক্রোবাস নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। রোডমার্চে সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি ছাড়াও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারসহ ১৪ দফা দাবিতে গত ডিসেম্বর থেকে গণতন্ত্র মঞ্চ গণমিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ, পদযাত্রাসহ কর্মসূচি করার পর ঢাকার বাইরে এটি তাদের প্রথম কর্মসূচি।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম দিন ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম সমাবেশ করবে দুপুরে গাজীপুর চৌরাস্তায়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের করাতিপাড়া বাইপাস মোড়ে সমাবেশ করবে তারা।

দ্বিতীয় দিন সোমবার বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জে শহীদ মিনার সংলগ্ন মুক্তি সোপানে এবং বিকেল ৪টার দিকে হবে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলায় সমাবেশ।

তৃতীয় দিন মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বগুড়ার সাতমাথায়, বিকেল ৪টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এবং শেষ দিন বুধবার দিনাজপুরে বেলা ১১টায় ইনস্টিটিউট চত্বরে এবং বিকেল ৪টায় রংপুর টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাবেশের মধ্য দিয়ে চার দিনের রোডমার্চ শেষ করবে গণতন্ত্র মঞ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তার এই বক্তব্যে রাগ-ক্ষোভ-অভিমানের একটা বহির্প্রকাশ ঘটেছে। এতদিন ধরে সরকার বলে আসছিল বিএনপিসহ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নাকি এই ভিসানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটা পরিষ্কারভাবে বেরিয়ে এসেছে যে, আজকে তারা (সরকার) যে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকটা দখলদারিত্ব, আরেকটা তামাশার নির্বাচন, আরেকটা একতরফা নির্বাচন করতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটা বুঝতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতি জারি করেছে।

‘সরকারের থলের বিড়াল এরই মধ্যে বেরিয়ে পড়েছে। এভাবে সরকার বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করছে। গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে তারা দেশ ও জনগণকে বাজি ধরছে। এ ধরনের দায়িত্বহীন ও গণবিরোধী সরকারকে জনগণ মেনে নিতে পারে না।’

সংক্ষিপ্ত সমাবেশের সভাপতি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের নেতাদের যুক্তিতর্ক প্রধানমন্ত্রী নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, আমেরিকা যাওয়ার দরকার নাই, আমেরিকা ছাড়া নাকি পৃথিবীতে আরও দেশ আছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে কী বোঝা গেল? প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে এই নতুন ভিসানীতি দিয়েছে সেটা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ন্যক্কারজনক সবচেয়ে কলঙ্কজনক যে নির্বাচন সেই নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এটা নিয়েছে। এটা খোদ প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই ভিসানীতি বাংলাদেশের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এই সরকার সারা বিশ্বের কাছে আমাদের মাথা হেট করেছে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের প্রহসনের নির্বাচন করে। ২০২৩ সালেও নাকি তারা এ ধরনের নির্বাচন করতে যাচ্ছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র এই ভিসানীতি দিল।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ