সরকারের পতন ছাড়া আন্দোলন থামবে না : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৭, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারের পতন ছাড়া আন্দোলন থামবে না : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ৩, ২০২৩ ৮:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ৩, ২০২৩ ৮:২৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সরকারের পতন ছাড়া চলমান আন্দোলন থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি। আমরা একদফার লাগাতার আন্দোলন শুরু করেছি, সরকারের পতন ছাড়া এই আন্দোলন আর থামবে না। আমরা বিজয়ী হয়েই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবরোধ চলাকালে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ড. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুর রহিম জীবন প্রমুখ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। জনগণকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেশে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এই সরকার স্বাধীনতার কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে অথচ তাদের কারণেই এখন দেশ ও দেশের মানুষ পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ। তারা গণতন্ত্রকে বারবার হত্যা করেছে। প্রথমে বাকশাল কায়েম করেছিল, চারটা পত্রিকা ছাড়া সকল সংবাদপত্র বন্ধ করেছিল। এবার তারা ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছে। আজ মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে না, মতপ্রকাশ করতে পারছে না, এমন-কি যাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে অথচ তারাও প্রতিকার চাইতে পারছে না। তারা দেশের মিডিয়াকে কুক্ষিগত করে রেখেছে, ফলে সাংবাদিকেরাও সত্য বলতে ও লিখতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান সকলকে সভা-সমাবেশ করার, কথা বলার ও রাজনৈতিক অধিকার দিয়েছে অথচ এই ফ্যাসিস্ট সরকার অবৈধভাবে জামায়াতে ইসলামীকে সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। আজকে জামায়াতের নেতাকর্মীসহ বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। কর্মস্থল ও বাসা বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের ব্যক্তিগত সম্পদগুলো তছনছ ও ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নাই। আমরা মজলুম আর যুগে যুগে মজলুমরাই দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এদেশে তার দ্বীনকে বিজয়ের জন্যই আমাদেরকে কবুল করেছেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার স্বাধীন ও ইনসাফ-ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করবে, ইনশাআল্লাহ।’

জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির বলেন, ‘সরকার আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান আন্দোলনে কোনো ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে আমরা লিপ্ত নই। অথচ সরকার তার অ্যাজেন্টের মাধ্যমে জনগণের জান ও মালের ক্ষতি করে তার দায় আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। এর জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। চলমান আন্দোলনে মহাসমাবেশ, হরতাল ও অবরোধ হয়েছে। সামনে আরো বড় কর্মসূচি আসছে।’

তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘একটি বড় বিপদ থেকে দেশকে উদ্ধারের জন্য, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য একটু কষ্ট স্বীকার করতে হবে। আজকে এই সরকারের বিরুদ্ধে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ, সকল বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অতীতে কখনো ব্যর্থ হয়নি, আগামীতেও বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ। আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

চলমান আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে কর্মসূচি সফল করায় তিনি জনগণকে অভিনন্দন জানান।

তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ ও তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ফিলিস্তিনে এখন পর্যন্ত আট হাজার মুসলমান শহীদ হয়েছেন, যা সকল বর্বরতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমন একদিন আসবে, ইহুদিরা পালানোর পথ পাবে না। ইহুদিরা পরাজিত হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল অবরোধসহ চলমান আন্দোলন সংগ্রামে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মাগফিরাত ও আহতদের জন্য দোয়া করে বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করছে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য, কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আমাদের আন্দোলন চলছে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ সকল নেতাকর্মী ও আলেম ওলামার মুক্তির জন্য। আমরা আন্দোলন করছি দেশের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বিরুদ্ধে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করে দেশের মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দেয়ার জন্য। আমাদের আন্দোলন এদেশের মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। এই সরকার জনগণকে বঞ্চিত করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আবারো ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু আজ জনগণ ঐক্যবদ্ধ, বিরোধী দল গুলো ঐক্যবদ্ধ। এদেশের মানুষ আগামীতে আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তারা লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল আমরা সেই ২৮ অক্টোবরেই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য মহাসমাবেশ করেছি। যেই শাপলা চত্বরে আলেমদের হত্যা করে এদেশের ইসলামী মূল্যবোধকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল সেখানেই আমরা সমাবেশ করেছি। সেদিন সরকার নজীরবিহীনভাবে বিএনপির সমাবেশে হামলা চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আগামী দিনে চলমান আন্দোলনে আরো কঠোর কর্মসূচি আসবে সেখানে জনগণকে সাথে নিয়ে সকলকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘স্বাধীনতার এত দিন পরেও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি। ক্ষমতাসীন সরকার রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সকলকে চলমান আন্দোলনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘সরকার জনগণের অধিকার আদায়ের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য সর্বাত্মক হীন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে জামায়াতের অফিসগুলোও বন্ধ রয়েছে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিসসহ সারাদেশের সকল অফিসগুলো খুলে দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। বর্তমানে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নাই, সেখানে নির্বাচন কমিশনের চলমান তৎপরতাকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে আছি, আন্দোলনকে সফল করেই ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ