সরকারের সব সিদ্ধান্তই অন্যদেশ থেকে আসে : তারেক রহমান(ভিডিও) - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৪২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারের সব সিদ্ধান্তই অন্যদেশ থেকে আসে : তারেক রহমান(ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১, ২০২৪ ৮:২১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ১, ২০২৪ ৮:২৬ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চলমান ‘ডামি নির্বাচনে’ এক ‘ডামি প্রার্থী’ প্রকাশ্যেই নিজেকে ভারতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এমন নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে, এই ‘ডামি সরকারে’র স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ারও ক্ষমতা নেই।

দেশবাসীকে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন।

লন্ডন থেকে দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান বলেন, ৫৩ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। তবে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর এই সময়টি দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে খুব সুখকর নয়। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ এখন নিজ দেশেই পরাধীন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে । লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার গৌরব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে এখন বিনাভোটে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছে চিহ্নিত ভোট ডাকাত হাসিনার ‘ডামি সরকার’ । কখন কাকে ধরতে হবে, কাকে মারতে হবে, কাকে রাখতে হবে, কাকে সীমান্তের ওপারে ফেলে আসতে হবে, সব সিদ্ধান্তই আসে অন্য দেশ থেকে।

আওয়ামী লীগের ভারত তোষনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের মনে আছে, ‘ডামি সরকারের’ ‘ডামি পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রকাশ্যেই ভারতের করুনা ভিক্ষা করেছিল। অতএব, নব্য আওয়ামী রাজাকারদের এই স্বীকারোক্তি বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আর্শ্চয্য এবং উদ্বেগের বিষয় হলো পরাধীনতা মেনে নিতেও আওয়ামী নেতাকর্মীদের এখন আর কোন লাজশরমের বালাই নেই। আওয়ামী রাজাকারদের এই বক্তব্য দেশের স্বাধীনতা ও সম্মানের বিরুদ্ধে লেন্দুপ হাসিনা-মোমেনদের ধারাবাহিক বেইমানিরই অংশ বলেই দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের কাছে নির্বাচন ছিল একটি রাজনৈতিক উৎসবের মতো। কিন্তু অবৈধ ক্ষমতালোভী হাসিনা ভোটাভোটির উৎসবকে ‘ভোট ডাকাতির উৎসবে পরিণত করেছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মানুষের ভোটের অধিকার লুন্ঠন করে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশটাকে মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশকে রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক, মূল্যবোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি সব দিক থেকেই পিছিয়ে দিয়েছে। দেশের বৈদেশিক ঋণের বোঝাও ইতোমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার পরিবর্তে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে দেশকে বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত করে ফেলা হয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উৎপাদনশীল দেশকে একটি আমদানি নির্ভর পরনির্ভরশীল দেশে পরিণত করা হয়েছে। উন্নয়নের ধুয়া তুলে দেশে গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা উৎপাদিত প্রতি কেজি আলু ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অথচ, মাত্র কয়েক মাসের মাথায়, এখন আপনাদেরকে কেন প্রতি কেজি আলু ৬০-৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে? কৃষক শ্রমিক মুটে মজুর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, স্বল্প আয়ের মানুষ এমনকি অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারসহ প্রায় প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষ বর্তমানে সংসার পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বর্তমানে ঋণ করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছে। এমন সংকটকালীন অবস্থায়, ন্যায্য মজুরির দাবিতে সম্প্রতি দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা সম্প্রতি রাজপথে নেমে আসার কারণে মাফিয়া সরকার কয়েকজন গার্মেন্টস শ্রমিককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। হাজার হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। শতাধিক শ্রমিক নেতাকে কারাবন্দি করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি বক্তব্যে দেশে স্বাস্থ্য, শ্রম, শিক্ষাখাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির উল্লেখ করে বলেন, আপনার, আমার, আপনার পরিবারের সদস্যদের, আমাদের সকলের লুন্ঠিত ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠারচলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার মাফিয়া সরকারকে সহযোগিতা না করার জন্য বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির পক্ষ থেকে অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ কোটি ভোটারের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। যাদের সাহস এবং সামর্থ্য রয়েছে আপনার আপনাদের লুন্ঠিত ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত চলমান এই আন্দোলনে প্রতিদিনের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দয়া করে অংশ নিন। যিনি বা যারা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিনের কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিতে সক্ষম নন, আপনি ৭ জানুয়ারী ভোট ডাকাতির উৎসব ভোট বর্জন করুন। অন্যকে বর্জন করতে উৎসাহিত করুন। এটাই হোক আপনার প্রতিবাদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ