সরকার-আদালতের ইচ্ছা এক হয় কি করে, বিস্ময় রিজভীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জুলাই ৮, ২০২৪ ৪:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জুলাই ৮, ২০২৪ ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সরকারের ইচ্ছা এবং আদালতের ইচ্ছা এক হয় কি করে এমন প্রশ্নরেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় কুরআন খতম ও দোয়া মোনাজাতের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল। এ সময় খালেদা জিয়াসহ দলের অসুস্থ নেতাকর্মীদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
রিজভী বলেন, একটা বিষয় আমার কাছে খুব বিস্ময়কর মনে হয় যে সরকারের ইচ্ছা এবং আদালতের ইচ্ছা এক হয় কি করে? সব সময় এক হয়ে যায়। ছাত্রদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের যে সার্কুলার ছিল কোটা বাতিল করার, সেটি ছিল আন্দোলনের চাপে। সেটা আবার পুনঃবহাল হলো কি করে? সরকারের মনের যে ইচ্ছা সেই ইচ্ছার সাথে আদালতের ইচ্ছা এক হয়ে যায় কি করে? এই রায় হচ্ছে শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন। সেদিন আন্দোলনের চাপে উনি বাধ্য হয়েছিলেন, কিন্তু উনার মন থেকে সেটা সরে যায়নি উনি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করেছেন এবং আবার কায়দা করে আদালতের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ঠিক যেভাবে বেগম খালেদা জিয়ার উপর প্রতিশোধ যেভাবে নিতে চেয়েছেন, অনেক আগে থেকেই তার মনের মধ্যে এই স্বপ্নটা ছিল যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন, ঠিক সেটাই করছেন। ক্ষমতায় আসার পরে সবকিছু কব্জায় নিয়ে সেই প্রতিশোধের নীল নকশা আমরা বাস্তবায়ন করতে দেখলাম। যার কারণে দেশনেত্রী আজও বন্দী, তিনি আজকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ভূগছেন, ধুকছেন।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন,‘আজকে কোমলমতি ছাত্ররা আন্দোলন করছে কোটা বাতিলের দাবিতে এটা কি অনার্য? এটাতো ন্যায্য আন্দোলন। আজকে বাংলা ব্লকেড স্লোগান দিয়ে তারা বিভিন্ন মোড় গুলোতে অবস্থান নিয়েছে। তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা দু:চিন্তা গ্রস্থ্য না হলে এমন করতে পারে। এই যে বাতাবরণ তৈরি করেছে শেখ হাসিনা, এই যে একটা লুটপাটের পরিবেশ তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা এর প্রতিবাদে আজকে জেগে উঠেছে মানুষ, বিশেষ করে আজকের ছাত্র শ্রমিকরা জেগে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের ন্যায্য দাবি বিরাট জাগরণের কারণ, দীর্ঘদিন মানুষ এই সরকারের যে লুন্ঠনের রাজত্ব এই রাজত্ব মেনে নিতে পারেনি, তারা অতীতকালেও পারেনি বর্তমানকালেও তারা মেনে নিতে পারেনি। আজকে আমরা নতুন করে ছাত্রদের সেই জাগরণ দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন ছাত্রদেরকে কঠোর মনোযোগের সাথে পড়াশোনা করতে হবে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী আপনার এই কথাটা কি ছিল স্ববিরোধী? তার এই কথাটি ছিল চাতুর্যপূর্ণ। এই স্ববিরোধী চাতুর্যপূর্ণ কথা বলে আপনি জাতির কাছে বিভ্রান্ত ছড়িয়েছেন তিনি কোন মেধা চান না মেধাবী জনগোষ্ঠী দেশ পরিচালনা করবে এটা হচ্ছে পৃথিবীর প্রত্যেকটি জাতির প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশারকে আপনি পদদলিত করেছেন কারণ কোটাকে পুনর্বহাল করে আপনি ছাত্রলীগকে ঢুকাবেন আপনি মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কথা বলে আপনি আপনার ছাত্রলীগদের কে ঢুকাবেন সেই প্রক্রিয়াটি আপনি সম্পূর্ণ করেছেন আদালতকে ব্যবহার করে।
প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘এখন তো আপনি হাত পাততে শুরু করেছেন চীন যাচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন কিন্তু ওই রকম কিন্তু সাড়া পাচ্ছেন না। আপনি আপনার বাজেটকে সাপোর্ট করার জন্য চীনের কাছে যে লোন চাচ্ছেন চীন কিন্তু লোন দিবে না বলে দিয়েছে। তার মানে কি এখন আপনি বিদেশ থেকেও সেইভাবে লোনও পাবেন না। কারণ দেশের যে সন্তানটি আজকে জন্ম লাভ করছে সেও এক লক্ষ থেকে সোয়া লক্ষ টাকা ঋণ তার কাঁধের মধ্যে বসেছে আপনার ভুলনীতির কারণে আপনার লুটেরা রীতির কারণে আপনার হরি লুটের কারণে
সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘নিজেদের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা যারা শেখ হাসিনার জন্য জিন্দাবাদ দিয়েছে এবং আওয়ামী চেতনায় বিশ্বাস করে তাদেরকে টাকার কুমির বানিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনা। অর্থাৎ নিজেদের লোকদের পকেট ভর্তি করা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ করার কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আজকে এমপি মন্ত্রীদের যে কাহিনী একজন এমপির দুই শত ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি কয়েকটা লন্ডন শহরে এটা তো শেখ হাসিনার অবদান।
রিজভী বলেন, ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলো যতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করে আমরা স্বাধীন দেশে বাস করেও স্বাধীন নই। এ কথাটিই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রমানিত হয়েছে। এরমাধ্যমে তিনি গোটা জাতিকে অবজ্ঞা করেছেন। অপমান করেছেন। এর আগে এমন দাসের মনোভাবাপন্ন কথা আমরা কখনো শুনিনি। মনে হয় নাইওর যেতে হলে যেমন স্বামীর অনুমতি লাগে তেমনই ভুমিকায় এখন আওয়ামী লীগ ডামি সরকার। কারণ আওয়ামী সরকার কখনো চাইনি দেশটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
সংগঠনের সভাপতি কাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহ-সম্পাদক আবদুল বারী ড্যানি, অর্থনৈতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক,সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, যুবদলের সাবেক নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, ছাত্রদলের ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়ালসহ ওলামা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জনতার আওয়াজ/আ আ