সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলন থেকে দূরে জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
বিএনপি ও সমমনা দলগুলো গতকাল বুধবার রাজধানীতে ১০ দফার পক্ষে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও, জামায়াতে ইসলামী তা করেনি। বরং ওয়ান-ইলেভেন উপলক্ষে দলটি গতকাল রাজধানীতে কয়েকটি আলোচনা সভা করে। জামায়াত সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিলের মতো গণঅবস্থান কর্মসূচি তারা পালন করে।
পুলিশের অনুমতি না পেলেও যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াত মাঠে নামলে মৌচাকে পুলিশের বাধায় পড়ে। সেখানে দলটির অর্ধশত নেতাকর্মী আহত ও গ্রেপ্তার হন।
এলডিপিসহ কয়েকটি দল জামায়াতের মিছিলের বাধার নিন্দা করলেও, বিএনপি নীরব ছিল। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর মুক্তি দাবি করে বক্তব্য দেয়নি বিএনপি।
ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশে বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিসহ ১০ দফা ঘোষণা করে। জামায়াত আমির এর আধা ঘণ্টা পর ১০ দফা ঘোষণা করে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি দেন। জামায়াতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, শুধু কর্মসূচি পালন করার কারণে দলের আমির গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস ধরে জেলে। কিন্তু বিএনপি একটি শব্দও বলেনি। ২৪ এবং ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিল থেকে সারাদেশে জামায়াতের তিন শতাধিক কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের জন্য একটি বিবৃতিও দেয়নি।
৮ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেপ্তারের পর জামায়াত মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেয়। বিএনপির নীরবতা প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, ‘এ প্রশ্ন আমাদের নেতাকর্মীরও রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব কারাগারে থাকায় হয়তো তারা কিছু বলেনি। এটাই আমাদের বলা হয়েছে।’
২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির পর রাজধানী ঢাকায় মিছিল-সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি জামায়াত। এর পর থেকে ঝটিকা মিছিলে সীমাবদ্ধ দলটির তৎপরতা। দীর্ঘ ১০ বছর পর গত ২৪ এবং ২৮ ডিসেম্বর ডিএমপিতে আবেদন করে গণমিছিলের অনুমতি চেয়ে। ৩০ ডিসেম্বরের মৌচাকের সংঘর্ষের পর ডিএমপি কমিশনার কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেও জামায়াত এর জবাবে বিবৃতিতে জানায়, পুলিশের ওপর আস্থা রয়েছে, শত্রুতা নেই।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১৬ জানুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সমমনা দলগুলোও এই কর্মসূচি পালন করবে। তবে জামায়াত তা করবে না। ডা. তাহের অবশ্য সমকালকে বলেছেন, ১৬ জানুয়ারি কর্মসূচি পালন করা হবে কিনা- তা নিয়ে দলীয় ফোরামে আগে আলোচনা করা হবে। তিনি জানান, যে কর্মসূচিই হোক, তা পালনে পুলিশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হবে। জামায়াত গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক দল হিসেবে বারবার আবেদন করে যাবে। দেখা যাক, পুলিশ কতদিন অনুমতির আবেদন নাকচ করে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেছেন, জোটবদ্ধ নয়, যুগপৎ আন্দোলন চলছে। যুগপৎ আন্দোলনে যে যার মতো কর্মসূচি দেবে। জামায়াত গণঅবস্থান কর্মসূচি না দিয়ে আলোচনা সভা করেছে। এতে ভিন্নতা থাকল।
তিনি এ বক্তব্য দিলেও জামায়াত সূত্রের দাবি, বিএনপির নেতাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল জামায়াত। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর গঠিত যুগপৎ আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটিতে সব সমমনা দলের প্রতিনিধি থাকলেও জামায়াতের কাউকে রাখা হয়নি। এ নিয়েও ক্ষুব্ধ জামায়াত।
১১ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস আখ্যা দিয়ে গতকাল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত আলোচনা সভা করে। এর সচিত্র সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও, আলোচনা সভার স্থান উল্লেখ নেই। মহানগর উত্তরের সভায় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। যারা গণতন্ত্র মানতে চায় না, তাদের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন করবে জামায়াত।
জনতার আওয়াজ/আ আ