সরকার শান্তি সমাবেশের নামে অশান্তি করতে নামছে: আবদুর রব
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ৮, ২০২৩ ৫:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ৮, ২০২৩ ৫:১৫ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘সরকার শান্তি সমাবেশের নামে অশান্তি করতে নামেছ। তারা লাঠিসোটা, ধারালো দেশিয় অস্র নিয়ে পথে নামে। এই অস্র তারা পায় কই?’
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণতন্ত্র মঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসন-গণজাগরন-গণঅভ্যুথানের পথে বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রব বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই দেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। তাই এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নাই।’
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘১ বিলিয়ন ডলার সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে এস আলম গ্রুপ। এত অল্প সময়ে এত টাকা এস আলম গ্রুপের পক্ষে আসলে কি আয় করা সম্ভব। এই ঘটনা তদন্ত করার জন্য দুইমাস সময় দেয়া হয়েছে। কেন তদন্ত করতে দুই মাস দরকার। এই দুই মাসে কি তাহলে কাগজ পত্র তৈরি করা হবে যে ওটা পাচার ছিল না বরং বৈধ ছিল। আসলে এই সরকার লুটেরাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। এখন আমেরিকার দুর্নীতি বিরোধী প্রধান বাংলাদেশ সফর করছেন। এই সরকারের টাকা পাচারের কাহিনি ইউরোপ আমেরিকাসহ এখন বিশ্বের সবাই জানে। এতদিন যে লুটপাটের বন্যা চলেছে এখন তা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। আমেরিকা এখন বলছে দুর্নীতি পাচার বন্ধ কর, বিরোধীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ করুন।’
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে আমরা জাতীয় দাবিতে পরিনত করতে পেরেছি। বিশ্বের দুই তিনটি দেশ বাদে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই সরকারকে কর্তৃত্ববাদী সরকার মনে করে। এই সরকার তো বয়ান তৈরি করেছে গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়ন ভাল। তো সেই উন্নয়ন এখন আমরা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতায় দেখতে পারছি। খালেদা জিয়া, তারেক-জোবায়েদার মামলার রায় হতে সময় লাগে না। কিন্তু সাংবাদিক সাগর-রুনির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১০২ বার পিছিয়েছে পুলিশ।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দেশে এখন যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে, মানুষের আকাঙখা পূরনে গণতন্ত্র মঞ্চ ভূমিকা রেখেছে। দেশে ভোটাধিকার গনতন্ত্রের কুলখানি করেছে আওয়ামী লীগ। তারা বলে তাদের নেতৃত্বে নাকি আবার আরেকটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এই কথা শুনুলে মানুষতো দূরের কথা গাধাও হাসবে।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।সেখানে ব্যবসায়ীরা বলেছে তারা আবার তাকে ক্ষমতায় দেখতে চান। এরা কারা? এরা হচ্ছে ব্যাংক লুটেরা, টাকা পাচারকারী দুর্বৃত্ত।লুন্ঠনতন্ত্রকে ক্ষমতার সাথে এক করে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণআন্দোলন যখন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়,তখন তা একটি ইনসারেকশনে রূপ নেয়।আন্দোলনের শক্তি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হলে অভ্যুত্থান নিয়ে খেলাধুলা করার মত কোন সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ২৯ তারিখের ঘটনার জন্য আমরা যাতে পরবর্তীকালের কর্মসূচি না দিতে পারি তার জন্য আজকে রাষ্ট্র হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, অনেককে জেলখানায় যেতে হয়েছে, অনেকে বাড়ি-ঘরে যেতে পারছে না। কথাটা সেজন্য বলেছি, অভ্যুত্থান কোন ছেলেখেলার প্রশ্ন না।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, দেশের রাজনীতিতে স্বতন্ত্র ও বিকল্প শক্তি হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ দাঁড়াতে চায়। বর্তমানে যে দুঃশাসন চলছে, এটা ১৯৭২ সাল থেকে ৭৫ সাল অব্দি ছিল। বঙ্গবন্ধু তখন হাজার হাজার বামপন্থীদের হত্যা করেছিল। পরে শান্তির লক্ষ্যে, গনতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছিল। আজ যারা কর্তৃত্ববাদী সরকারের দুঃশাসনের সমর্থন করছেন, জনগণের হাত থেকে তারা রেহাই পাবেন না।
তিনি বলেন, দেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে, এতে কারা মদত দিচ্ছেন?বর্তমান সরকার। তাদেরকে শেষবারের মতো অনুরোধ করছি, আপনারা ফিরে আসুন।জনগনের পক্ষে ফিরে আসুন। এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হবেই, লড়াই সংগ্রামে আমরা এক থাকবোই।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র মঞ্চের একটা ইতিবাচক ভূমিকা আছে। দেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নতুন না। অনেক জোটই এই কাজ করেছে। কিন্তু তাদের সাথে মঞ্চের পার্থক্যটা হলো, মঞ্চ প্রথম সরকার বদলের বিষয়টি সামনের আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থা বদলের রাজনীতি যারা করছেন, তারা আমাদের এই কৌশলকে মেনে নিয়েছেন। হ্যাঁ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গনতন্ত্র মঞ্চের মাত্রায় বিস্তার দরকার ছিল, সেটা হয়তো পারি নি।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনটা অনিবার্য। শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে যেতেই হবে। তারা যত দ্রুত এটা বুঝতে পারবে,এটা ততোটাই ইতিবাচক পরিনতি নিয়ে আসবে। যে পরিমান পাচার তারা করেছে, সে পাচারের সম্পদ তাদের ভোগে আসবে না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করে নাই, কেবল নাম বদলেছেন। এসবই করা হয়েছে বিদেশীদের চাপে। এটি একটি আইওয়াশ।অথচ আমরা পুরো আইনের বাতিল চেয়েছিলাম।
তিনি বলেন, একটা ভোট মানে শুধুমাত্র ভোটাধিকার নয়। এর মাধ্যমে জনগন তাদের সার্বভৌমের শক্তিটা প্রয়োগ করেন। প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা যদি না থাকে, তাহলে শাসন জারি থাকবে না, স্বৈরাচারীতা তৈরি হবে। গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাইলে ভোটাধিকার থাকতে হবে। এখন ভোটাধিকার মানে হচ্ছে ভোটের গ্যারান্টি। সেটা কি বর্তমান সরকার দিচ্ছে? উত্তর হচ্ছে না, জনগণের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করা হয়েছে। তার প্রমান কিন্তু ১৯৭২ এর পর থেকেই শুরু হয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ