সর্বাত্মক অসহযোগ ছাত্র-জনতার প্রতি ১৫ নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৪, ২০২৪ ৪:১৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৪, ২০২৪ ৪:১৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এদিন সারা দেশে বিক্ষোভ ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা জানিয়েছে তারা। দেশের সব জনসাধারণকে সংগঠিত হয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।
শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানানোর পাশাপাশি অসহযোগ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ রূপরেখা ঘোষণা করে ছাত্র-জনতার প্রতি ১৫টি নির্দেশনা দেন।
তাদের নির্দেশনাগুলো হলো:
১. কেউ কোনো ধরনের ট্যাক্স বা খাজনা দেবেন না।
২. বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলসহ কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করবেন না।
৩. সব ধরনের সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। কেউ অফিসে যাবেন না, মাস শেষে বেতন তুলবেন।
৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
৫. প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে কোনো ধরনের রেমিট্যান্স দেশে পাঠাবেন না।
৬. সব ধরনের সরকারি সভা, সেমিনার, আয়োজন বর্জন করবেন।
৭. বন্দরের কর্মীরা কাজে যোগ দেবেন না। কোনো ধরনের পণ্য খালাস করবেন না।
৮. দেশের কোনো কলকারখানা চলবে না, গার্মেন্টকর্মী ভাইবোনেরা কাজে যাবেন না।
৯. গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, শ্রমিকরা কেউ কাজে যাবেন না।
১০. জরুরি ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য প্রতি সপ্তাহের রবিবারে ব্যাংকগুলো খোলা থাকবে।
১১. পুলিশ সদস্যরা রুটিন ডিউটি ব্যতীত কোনো ধরনের প্রটোকল, রায়ট ও প্রটেস্ট ডিউটিতে যাবেন না। শুধু থানা পুলিশ নিয়মিত থানার রুটিন ওয়ার্ক করবে।
১২. দেশ থেকে যেন একটি টাকাও পাচার না হয়, সব অফশোর ট্রানজেকশন বন্ধ থাকবে।
১৩. বিজিবি ও নৌ-বাহিনী ব্যতীত অন্যান্য বাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ডিউটি পালন করবে না। বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যারাক ও কোস্টাল এলাকায় থাকবে।
১৪. আমলারা সচিবালয়ে যাবেন না, ডিসি বা উপজেলা কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে যাবেন না।
১৫. বিলাসদ্রব্যের দোকান, শোরুম, বিপণিবিতান, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকবে।
তবে হাসপাতাল, ফার্মেসি, জরুরি পরিবহন সেবা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যম, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহন, জরুরি ইন্টারনেট সেবা, জরুরি ত্রাণসহায়তা এবং এ খাতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহন সেবা চালু থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট বেলা ১১-১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।
সমাবেশে আরেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে নামার আহ্বান জানাচ্ছি। এই খুনি সরকারকে কোনোভাবে সমর্থন দেব না। কোনোভাবেই কো-অপারেট করব না। যদি কোনোভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়, কোনোভাবে কারফিউ জরুরি অবস্থা দেওয়া হয়, আমরা আজকে বলে দিচ্ছি, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। আমরা প্রয়োজনে গণভবন ঘেরাও করে আপনাকে উৎখাত করব।’
সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অসহযোগ এবং রাজপথের কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘জনগণ যদি সরকারকে প্রত্যাখ্যান করে, সরকার যদি জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ায়, সরকারের সেই হুকুম মানতে আপনারা বাধ্য নন।’
অসহযোগ আন্দোলনের পাশাপাশি সব জেলা, উপজেলা, পাড়া-মহল্লায় বিক্ষোভ ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলন : বাংলাদেশের ইতিহাসে অসহযোগ আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনের প্রভাব ছিল বিশাল। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল অর্থনৈতিক বয়কট। আন্দোলনকারীরা পশ্চিম পাকিস্তানের পণ্য বর্জন করে এবং সরকারি কর্মচারীরা তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে থেমে যায় সব প্রশাসনিক কার্যক্রমও। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া সে সময় তৈরি হয়েছিল বিরাট গণজাগরণও।
স্বাধীন বাংলাদেশে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগের ডাক দিয়েছিল বিএনপি। ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এ আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ