সলিমুদ্দিন-কলিমুদ্দিন বিদেশে চিকিৎসা নিলেও খালেদাকে বাধা দিচ্ছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জুন ১২, ২০২২ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, জুন ১২, ২০২২ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়ির করেসপন্ডেন্ট
রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সলিমুদ্দিন, কলিমুদ্দিন, সাজাপ্রাপ্তরা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। অথচ মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া খালেদা জিয়াকে তারা বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। এর কারণ সরকার তাকে ভয় পায়। তিনি যদি রাস্তায় নামেন তাহলে হ্যামিলিয়ানের বাঁশিওয়ালার মতো মানুষের ঢল নেমে আসবে।
রোববার (১২ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এই বিক্ষোভ সমাবশের আয়োজন করে।
সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে। যেটা আমাদের এখানে নেই। যেটা বিদেশে আছে। বারবার চিকিৎসকরা বলছেন। আমদের খুব সোজা কথা, আল্লাহ না করুন বেগম খালেদা জিয়ার যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সরকারকেই দায় নিতে হবে। এ দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না। টেনেহিঁচড়ে নামাবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষার দাবিতে এই কর্মসূচি। তিনি শুধু একটি দলের প্রধান নন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। ছিলেন একজন গৃহবধূ, কিন্তু যেদিন বাংলাদেশের শত্রুরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলো সেদিন সময়ের প্রয়োজনে, মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া পতাকা হাতে তুলে দিয়েছেন। নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এরপর থেকে যতবার ক্ষমতায় এসেছেন ততবার দেশ এবং গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কথা স্পষ্ট। তাকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে পাঠাতে হবে। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এর বাইরে দেশের মানুষ কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত না। এখনো কিছুটা সময় আছে। রক্ষা পেতে পারেন। এরপর আর পালাবার পথ পাবেন না। সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। যে দুর্বার আন্দোলন হবে তাতে আপনাদের রক্ষা হবে না।
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তো কোনো ব্যবস্থা নেনইনি, বরং কীভাবে বাড়ানো যায় সেটা করেছেন। শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়েনি। অথচ করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা ফুটে উঠেছে।
পাচার করা টাকা ফেরত আনার সুযোগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এতদিন টাকা পাচার করেছেন। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডে, বেগম পাড়ায় বাড়ি করেছেন। এখন সেগুলো জায়েজ করতে কর দিয়ে টাকা ফেরত আনার কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যাতে রাজনীতি করতে না পারেন এই উদ্দেশ্যে সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে আটক করে রেখেছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পরিষ্কার করে বলতে চাই, সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। দেশের সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। দুর্বার গণআন্দোলন শুরু হবে। সে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং জনগণের কল্যাণ একটি সরকার গঠন করবো।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের মন্ত্রী, নেতারা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার সুযোগ পেলেও খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেন, জনগণ পাল্টা জবাব দেবে। সবদিক থেকে মানুষের সাড়া পড়ে গেছে, সবাই সরকারের পতন চায়।
এ সময় অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক এবং দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু।
এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরাফত আলী সপু, ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ