সাংবাদিকতা বনাম অপসাংবাদিকতা: ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সাংবাদিকতা বনাম অপসাংবাদিকতা: ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

 

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র ও প্রভাব অপরিসীম। কিন্তু এই শক্তিশালী মাধ্যমটি যখন নৈতিকতা, নীতিমালা ও পেশাদারিত্বের সীমা অতিক্রম করে, তখন তা ‘অপসাংবাদিকতায়’ রূপ নেয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এমন অপসাংবাদিকতার এক উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ব্যক্তিস্বাধীনতা, গোপনীয়তা এবং সামাজিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।

গ্রাম-গঞ্জের অলিতে-গলিতে, লোকালয়ে, এমনকি ব্যক্তিগত পরিসরে অসংখ্য মানুষকে ক্যামেরা নিয়ে অনধিকারচর্চা ও ভিডিও ধারণের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। মানুষের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয়কে বিনোদনের পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই সাংবাদিকতা নয়; বরং এটি একপ্রকার মানসিক হয়রানি ও গোপনীয়তার উপর হামলা।

অন্যদিকে, অনেক সরকারি ও বেসরকারি অফিসেও একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। কিছু ব্যক্তি ক্যামেরা হাতে অফিসে প্রবেশ করছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জেরার মুখে ফেলছেন, যা অনেকক্ষেত্রে অমর্যাদাকর ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। স্বাভাবিকভাবেই, যখন এই ‘সাংবাদিকতা’ অনুমতিবিহীন ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, তখন সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজন প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠেন এবং গালিগালি বা বেধড়ক পদ্ধতিতে তাদের বের করে দিচ্ছেন। এটি উভয় পক্ষের জন্যই অপমানজনক এবং পেশাদারিত্ববিরোধী।

একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত সমাজে সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হলো সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা হয়রানি নয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ থাকলে, প্রথমে তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে প্রামাণিক তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বক্তব্য দেয়ার যথোপযুক্ত সুযোগ দিয়ে সাক্ষাৎকার নেয়াটাই যুক্তিযুক্ত ও ন্যায়সংগত পদ্ধতি। সরাসরি ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয়ে চাপ সৃষ্টি বা বিচারকার্য চালানো সাংবাদিকতার অংশ নয়।

এই অনিরাপদ ও অনৈতিক ‘সাংবাদিকতা’ রোধ করতে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকতার নীতিমালা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রেস কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নজরদারি জোরদার করতে হবে। এছাড়াও, সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, যার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও সুশাসন মজবুত হয়। কিন্তু অপসাংবাদিকতা এই পবিত্র পেশাকে কলুষিত করে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই আসুন আমরা সবাই সচেতন হই, সাংবাদিকতার সঠিক নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রাখি এবং অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে নৈতিক সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ