সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের নিখোঁজে সরকার জড়িত নয়, অন্য রহস্য আছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ২২, ২০২৫ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ২২, ২০২৫ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের নিখোঁজ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত নয়, এটির সঙ্গে রাষ্ট্রের বিন্দুমাত্র সংযোগ নেই। এটা বৃহত্তর চক্রান্তের মাস্টার প্ল্যানের অংশ কিনা, এটা মানুষের মনে আজকে সন্দেহের দানা দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের নিখোঁজে জড়িত নয়। এ নিখোঁজের সঙ্গে অন্য কোনো রহস্য আছে কিনা খুঁজে বের করতে হবে। এতে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কিনা তাও সরকারকে উদঘাটন করতে হবে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকালে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস এবং মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের রোগমুক্তি কামনায় এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত, এই সরকারের শাসনামলে আমরা কেউ গুম হবো না, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবো না। আমরা পতিত ফ্যাসিস্ট আমলের মতো আর গুমের শিকার হতে চাই না। আগের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।
রিজভী বলেন,’আমরা তো একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। এই পর্যায়কে আমাদের আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যে সমস্ত কাজ অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলো মীমাংসিত করতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। আজকে হঠাৎ করে একটা অযৌক্তিক দাবি তোলা হয়েছে—পিআর অর্থাৎ আনুপাতিক নির্বাচন। এটা কেন করা হয়েছে, আমরা কেউ বলতে পারবো না। আমরা হয়তো পত্রপত্রিকায় পড়েছি, কিন্তু এ দেশের জনগণ এই পদ্ধতির সঙ্গে কোনোভাবেই পরিচিত নয়। কিন্তু এখন এটিকে সামনে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে কেন? যেগুলো খুবই উন্নত দেশ, যাদের সমাজ অনেক উন্নত—ইউরোপের কয়েকটি দেশ সেটা ভিন্ন কথা। এমনকি জাপানও, অনেক উন্নত, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী দেশ, তারা সম্পূর্ণরূপে পিআর পদ্ধতি করেননি। তাহলে আজকে যে পদ্ধতির সঙ্গে এ দেশের মানুষের পরিচয় নেই, সেখানে কেন বারবার এ পদ্ধতিটা উচ্চারণ করা হচ্ছে? তাহলে কি নির্বাচন নিয়ে অন্য কোনো অশুভ চিন্তা রয়েছে?’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘হঠাৎ করে অযৌক্তিকভাবে পিআর পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ এ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়। আমাদের দেশে এটি অনেক কঠিন ব্যাপার। কেনো এ পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে? যে ভোটাধিকারের জন্য এত সংগ্রাম, এত রক্ত বিলিয়ে দেওয়া হলো, সে ভোটের পদ্ধতি নিয়ে কেন এত লুকোচুরি? ভোটাররা প্রার্থী নির্বাচিত না করে দলকে নির্বাচিত করলে রাজনৈতিক দল কৃত্রিম হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ চিনবে না। অর্থের বিনিময়ে ব্যবসায়ী এবং বিতর্কিতরা এমপি হয়ে যাবে। জনগণ তার পছন্দের মানুষকে নির্বাচিত করতে পারবে না। জনগণকে অগ্রাহ্য করে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কারণ, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছেন। ন্যায় বিচার, আইনের শাসন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। হাসিনার রেখে যাওয়া দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে ওৎপেতে আছে।’
রিজভী আরও বলেন, ‘হঠাৎ করে নতুন কিছু সামনে চলে আসলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, জনগণ তালগোল মিলিয়ে ফেলবে। ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনা সবকিছুতেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি করে গেছেন। ব্যাংক লুট করেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছেন, আমাদের নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করেছেন, গণতান্ত্রিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলোর জন্য গণতন্ত্র মজবুত হয়, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন সবকিছুই তিনি দুমড়ে-মুচড়ে পদদলিত করে গেছেন। আমাদের এগুলো রিপেয়ার করতে হবে। আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে সত্যিকারের জবাবদিহিতামূলক শাসন।’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘মেগা প্রজেক্টের নামে ৬৮ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা হয়েছে। এর জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি অডিট হওয়া দরকার। সবজায়গায় মহাদূর্নীতি। এগুলো কারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়ার সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ অনেকে।
জনতার আওয়াজ/আ আ