সাঈদীর জানাজায় সেই সুখরঞ্জন বালি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৫, ২০২৩ ২:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৫, ২০২৩ ২:১৫ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জানাজায় পৌঁছেছেন যুদ্ধাপরাধের মামলায় বহুল আলোচিত সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি।
মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সাঈদী ফাউন্ডেশনের (পিরোজপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন) ভবনে তাকে দেখা গেছে।
এদিকে সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে এরই মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা তারেক মনোয়ারসহ দলের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে পৌঁছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে বহনকারী লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি।
তার জানাজাকে ঘিরে সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠ ও তার আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লোকারণ্য হয়ে গেছে বলে দাবি করে ফেসবুক পেজে ভিডিও শেয়ার করেছে জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে ফাউন্ডেশন মসজিদের পাশে সাঈদী পারিবারিক কবরস্থানে বড় ছেলে মাওলানা রাফীক সাঈদীর কবরের পাশে তার কবর খনন করা হয়েছে।
এর আগে সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী এক বার্তায় জানান, ‘পিরোজপুরের আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে কবর খনন করা হয়েছে। এখানেই শুয়ে আছেন তার বড় সন্তান রাফীক বিন সাঈদী, তার ছোট ভাই হুমায়ুন কবীর সাঈদী, তার বড় পুত্রবধূ সুমাইয়া রাফীক সাঈদী।’
এদিকে ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে সাঈদীর মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং গাড়ি পিরোজপুরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। এর আগে ভোর ৫টার দিকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে বিক্ষোভ করেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ঢাকায় সাঈদীর জানাজা পড়ানোর দাবি করেন তারা। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গতকাল সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে শাহবাগ এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জড়ো হন।
তার আগে রোববার (১৩ আগস্ট) বিকালে তিনি কারাগারের ভেতরে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে রাতেই তাকে জরুরি অবস্থায় ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়।
কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ বন্দি ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় রোববার বিকাল ৫টার দিকে তিনি বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে কারাগারের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে আটক হন সাঈদী। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ