সাকার হ্যাটট্রিক, ১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:০৬, রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সাকার হ্যাটট্রিক, ১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬ ৫:২২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬ ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

 

ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মায়ামিতে এক রোমাঞ্চকর লড়াই দেখল ফুটবল বিশ্ব। ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের মধ্যকার বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিতে হয়েছে ১০ গোল। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিক করেছেন। তাতে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক জিতল থ্রি-লায়ন্সরা।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্সের জালে রীতিমতো গোলউৎসব করে ইংল্যান্ড। ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে পাত্তা না দিয়ে ৪টি গোল আদায় করে নেয় তারা। তাতে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৪-০ ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকা দুটি, ডেকলান রাইস ও এজরি কনসা একটি করে গোল করেন।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দারুণ পাস দেন তিনি। গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। তাতে ব্যবধান ৪-১ করেন তিনি।

এরপর ব্যবধান কমানোর আরেকটি সুযোগ পায় ফ্রান্স। বক্সের ঠিক বাইরে বল পান আদ্রিয়াঁ রাবিও। কিন্তু সেখান থেকে তার নেওয়া শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। তবে ৫৪ মিনিটে ফরাসি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান ব্র্যাডলি বারকোলা। মাঝমাঠ থেকে ওয়ারেন জাইর-এমেরির কাছ থেকে পাস পেয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন বারকোলা। এরপর ইংলিশ গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। তাতে ব্যবধান আরও কমিয়ে ৪-২ করে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের পাশাপাশি আক্রমণে উঠার চেষ্টা অব্যাহত রাখে ইংল্যান্ডও। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দারুণও সুযোগও পায় তারা। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ হেড নেন আইভান টনি। তবে দারুণ দক্ষতায় সেটি ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়াঁ। এরপর ওলিসের জোরালো একটি শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে গেলে গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় ফ্রান্সের। উসমান দেম্বেলেও ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন।

তবে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান আরও কমান এমবাপ্পে। ওলিসে ও এমবাপ্পে একাধিকবার বল আদান-প্রদানের পর শেষ পর্যন্ত বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান ফরাসি অধিনায়ক। তাতে স্কোরলাইন হয় ৪-৩।

এরপর গোলের একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। তবে পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাকা। পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বে প্রথমে জুড বেলিংহাম থাকলেও তিনি সরে যান এবং সাকাকে সেই দায়িত্ব দেন। ঠান্ডা মাথায় ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেইনিয়াঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। তার হ্যাটট্রিকে ইংল্যান্ড ৫-৩ গোলে এগিয়ে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে রোমাঞ্চ উপহার দেয় দুই দলই। ৯৬ মিনিটে ওসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত গোলে আবারও ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর ৯৮ মিনিটে ইংল্যান্ডের ব্যবধান আবারও বাড়ান জুড বেলিংহাম।

দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে বল পেয়ে ফরাসি রক্ষণভাগ চিরে সামনে এগিয়ে যান বেলিংহাম। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান ইংল্যান্ডের এই তারকা মিডফিল্ডার। বেলিংহামের এই গোলেই কার্যত ম্যাচের ইতি ঘটে। গোলবন্যার এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ড।

ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতল থ্রি-লায়ন্সরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ