সাতটি দল ও সংগঠনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম কী হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৩৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সাতটি দল ও সংগঠনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম কী হচ্ছে গণতন্ত্র মঞ্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ৪:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ ৪:১১ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
বিএনপির সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চ। যদিও জোটভুক্ত দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি তেমন মজবুত নয়, তবে অধিকাংশ দলের শীর্ষনেতার ফেসভ্যালু রয়েছে। সে কারণে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই রাজনীতিতে একটা আলাদা অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভিপি নুরুল হক নুরকে অবমূল্যায়নের অভিযোগে মঞ্চের সঙ্গে শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের টানাপোড়েন এবং যুগপৎ আন্দোলনের সর্বশেষ দুটি কর্মসূচিতে মঞ্চের শীর্ষনেতাদের অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, কী হচ্ছে সাতটি দলের সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক মোর্চা গণতন্ত্র মঞ্চে?

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণতন্ত্র মঞ্চ নিয়ে শরিক গণঅধিকার পরিষদের এখন আগ্রহ কম। দলটির নেতারা মনে করছেন, গণতন্ত্র মঞ্চ নিয়ে আর ভালো কিছু হবে না। তাই নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে এখন ব্যস্ত দলটি। মঞ্চ এড়িয়ে তারা এখন এককভাবে বিএনপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। তবে গণঅধিকার পরিষদের এমন ভূমিকায় মঞ্চের নেতারা ক্ষুব্ধ। তাদের ধারণা, গণঅধিকার পরিষদ যে কোনো সময় গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

গত ৮ আগস্ট সাতটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। সাতটি দল ও সংগঠন হলো—আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য, সাইফুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলন, ড. রেজা কিবরিয়া ও ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদ, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নেতৃত্বে ভাসানী অনুসারী পরিষদ এবং হাসনাত কাইয়ুমের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এর মধ্যে জেএসডি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। পরে অন্য দলগুলোর সঙ্গে ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে।

আত্মপ্রকাশের পরই কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামে গণতন্ত্র মঞ্চ। রাজধানী ছাড়াও ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলাসহ অন্য অনেক জেলায় সমাবেশ করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা তথা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় মঞ্চ। এমন প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে কর্মসূচি করে আসা বিএনপিও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে বিরোধী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নেয়। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক একাধিক বৈঠকের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সরকার হটাতে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে সম্মত হয় গণতন্ত্র মঞ্চ।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ থেকে ১০ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিলের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি গণঅবস্থান এবং সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২৫ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচিতে গণঅধিকার পরিষদের রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুর ছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে তাদের অধিকাংশই অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচিতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং রেজা কিবরিয়া ও নুর অনুপস্থিত ছিলেন। এটা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, অসুস্থতার কারণেই মূলত রব ও মান্না কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে আগে যুগপৎ আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি থাকলেও অবমূল্যায়নের অভিযোগে মঞ্চের সর্বশেষ কর্মসূচিতে নুরসহ দলটির কোনো নেতাই উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্য দিয়ে মঞ্চের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের টানাপোড়েনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর সৌদি আরব যান নুরুল হক নুর। তবে ওই সফরে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে নুরের বৈঠকের খবর গণমাধ্যমে আসে। এটা নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চে অসন্তোষের সৃষ্টি হলেও নুরকে সমর্থন করে বিবৃতি দেয় মঞ্চ। ওমরাহ শেষে গত ১১ জানুয়ারি দেশে ফিরলেও যুগপৎ আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের গণঅবস্থান কর্মসূচিতে ওইদিন নুরের বক্তব্য দিতে না পারাকে ইস্যু করে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ওই কর্মসূচিতে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্য দলগুলোর নেতারা নুরকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র মঞ্চের কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে গণতন্ত্র মঞ্চের দাবি, গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে যখন নুরের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়, তখন আর সময় না থাকায় কর্মসূচি শেষ করে দেওয়া হয়।

গণঅধিকার পরিষদের অভিযোগ, গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যান্য দলের চেয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো অনেক ভালো হওয়া সত্ত্বেও মঞ্চ তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না। অবশ্য গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলছেন, মঞ্চের শরিক সাতটি দলের প্রতিটি দলেরই মর্যাদা সমান। কাজেই এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

এদিকে, নুরের দলের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই গণমন্ত্র মঞ্চকে অসহযোগিতা করার অভিযোগ করেছেন মঞ্চের একাধিক নেতা। তাদের অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের নেতারা গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠকগুলোতে মঞ্চের নেতাদের যথাযথ সম্মান করেন না। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদ ৪০০ থেকে ৫০০ নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় কর্মসূচি করলেও মঞ্চের কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ একেবারে নগণ্য। এর মধ্য দিয়ে তারা গণতন্ত্র মঞ্চকে অকার্যকর করতে চায় বলে অভিযোগ মঞ্চের একাধিক নেতার। এদিকে সরকারের সঙ্গে নুরের আঁতাত রয়েছে বলেও মনে করেন মঞ্চের অনেক নেতা। তবে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এমন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, নুরুল হক নুরের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন আছে। কিছু কিছু ব্যাপারে অস্পষ্টতাও আছে। মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের পরবর্তী বৈঠকে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চে সাতটি দল রয়েছে, প্রতিটি দলেরই মর্যাদা সমান। এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন কিংবা অতি মূল্যায়নের সুযোগ নেই। গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যদি গণঅধিকার পরিষদের কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেটার সমাধান করা হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ গড়ে তোলার জন্য আমি অন্যতম ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছি। আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চাই। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এটা নিয়ে মঞ্চের নেতাদের মধ্যে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। আমরা ছাড়া অধিকাংশই বাম রাজনীতি করতেন। কাজেই এখানে চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে তো কিছুটা তারতম্য হয়। সেগুলো ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্মানের জায়গাটা। এই প্রতিকূল সময়েও যেভাবে তরুণদের সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, অন্য কোনো সংগঠন এত অল্প সময়ে এভাবে এগোতে পারেনি। আমি বলব, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা এ ব্যাপারটিকে বিশেষ করে তরুণদের যে উদ্যম সেটাকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। মঞ্চের কিছু কর্মকাণ্ডে তরুণ নেতারা হতাশ। সেগুলো আমরা ইন্টারনালি বলেছিও।

তিনি আরও বলেন, গত ১১ জানুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের গণঅবস্থান কর্মসূচিতে আমার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। দেশের বাইরে থাকাতে সেটা তাদের জানিয়েছিও। আমি কাকরাইল এসে পৌঁছলাম, ততক্ষণে কর্মসূচিটা (জাতীয় প্রেস ক্লাবে) শেষ করে দিল। আমাদের একটু কোণঠাসা করে রাখার প্রবণতা মঞ্চের কিছু নেতার মধ্যে আছে। এটাতে আমরা কমফোর্টেবল ফিল করি না। যে কারণে কিছু বিষয় নিয়ে আপাতত একটু টানাপোড়েনের মধ্যে আছি। তবে এটার মানে এই নয় যে, আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ ছেড়ে দিচ্ছি কিংবা ছেড়ে গেছি। আমরা চেষ্টা করছি গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে এই বিষয়গুলোর সমাধান করে কীভাবে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করা যায়, সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। আমরা চাই না কোনো শরিকের কারণে বৃহত্তর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হোক।সূত্রঃ কালবেলা

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ