সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ডের দায় কি এড়াতে পারেন বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন?
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৩ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৩ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছিল। বেশির ভাগ অভিযোগ ছিল বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে কেন্দ্র করে। বরাবরই সোহাগের বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দুর্নীতির অভিযোগে ফিফা থেকে শোকজ খাওয়ার পরও সম্প্রতি সোহাগকে পাশে বসিয়ে সাফাই গেয়েছেন বাফুফে বস। দুর্নীতির দায়ে সোহাগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এখন সালাউদ্দিন বলছেন তিনি কিছুই জানতেন না। তার ১৬ বছরের সভাপতিত্বের অভিজ্ঞতায় এসবের কিছুই নাকি চোখে পারেননি! যখন প্রশ্ন করা হলো, কাপড়ের দোকান থেকে বল কেনা, জনশক্তি রপ্তানি করে এমন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিমান টিকিট কেনা, অস্তিত্ব নেই এমন প্রতিষ্ঠানের থেকে দরপত্র নিয়ে জাতীয় দলের পোষাক কেনা, ফিফার ফান্ডের টাকার বেহিসেবি খরচ- এসব কি ফিফার আগে সালাউদ্দিন চিহ্নিত করতে পারেননি একবারও? তাহলে সাধারণ সভায় বাফুফের সব খরচের হিসাবই সর্বসম্মতিক্রমে কিভাবে পাস হয়েছে? সভাপতি হয়ে সালাউদ্দিন কি সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন? বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদদের মধ্যে সালাউদ্দিনের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। তবে ২০০৮ সালে বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৬ বছরে কাজী সালাউদ্দিনের প্রশংসা শোনা গেছে কদাচিৎই। সবশেষ তিনি বির্তকে পরেছেন সাফ জয়ী নারী দলকে মিয়ানমার খেলতে না পাঠিয়ে। নারী ফুটবল দলের মিয়ানমার সফর বাতিল হওয়ার পর থেকে এমনিতেই আলোচনা চলছিল চারদিকে। এ নিয়ে ক্ষোভ ছিল বাফুফের মধ্যেই।
সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুশের্দী তো মিডিয়ার সামনে বলেই ফেলেছেন বাফুফের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই বলে একটা দল বাইরে পাঠাতে পারবে না এমন অবস্থায় চলে যায়নি।
বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। জানলে হয়তো তিনিই দলটি পাঠানোর উদ্যেগ নিতেন।’ ওই ঘটনায় কাজী মো. সালাউদ্দিন এক বক্তব্য দিয়ে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। পরে এর মধ্যে জড়িয়ে পড়েন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলও। কাজী মো. সালাউদ্দিনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ ছিল বলে সরকারের উচ্চমহলও সেটা ভালোভাবে নেয়নি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিও একহাত নিয়েছেন কাজী মো. সালাউদ্দিনকে। কেন জাতীয় নারী ফুটবল দলকে মিয়ানমার পাঠানো হয়নি, কেন সরকারকেও দোষারোপ করা হলো- এসব খতিয়ে দেখতে সংসদীয় কমিটি তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে। বাফুফে সভাপতির এক বক্তব্যে যখন চারদিকে আগুন জ্বলছে তখন সেই আগুনে ঘি ঢাললো সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগের নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার ওপর দিয়ে ঝড় শুরু হলো। এ ঝড় সামলানো কঠিন হতে পারে কাজী মো. সালাউদ্দিনের জন্য। কারণ, বাফুফেতে তিনি মূলত বন্ধুবিহীন।
বাফুফের নির্বাহী কমিটির অনেকেরই অভিযোগ, সালাউদ্দিন সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন। সোহাগও নিশ্চিয় সালাউদ্দিনের পরামর্শ ছাড়া কিছু করেননি। বাফুফে সাধারণ সম্পাদককে নিষিদ্ধ করার বার্তায় ফিফা তাদের ওয়েবসাইটে ৫১ পৃষ্ঠার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটিতে খেলোয়াড়দের পোশাক, ঘাস কাটার মেশিন কেনা থেকে শুরু করে নারী দলের পেছনে খরচ কিংবা ক্লাবগুলোকে দেওয়া অনুদানেও দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়েছে। ফিফা ওয়েবসাইট থেকে এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যে কেউই এখন পাঠ করতে পারবেন তা। তাতে এই সেদিন অর্থসংকটের কথা বলে নারী দলের অলিম্পিক বাছাই পর্ব বাতিল করা বাফুফের এই আর্থিক কেলেঙ্কারি আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। ২১ বছর আগে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে বাফুফে সভাপতি ছিলেন তৎকালীন এমপি এসএ সুলতান। সরকারি হস্তক্ষেপে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দেওয়ার কারণে ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিল বাংলাদেশ। আবার সংকটে বাংলাদেশের ফুটবল। এমনিতেই মাঠের পারফরম্যান্সে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নামতে নামতে এখন অবস্থান ১৯২তম। এখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। এই সংকট কীভাবে কাটিয়ে উঠবে বাফুফে, সেটাই দেখার।
জনতার আওয়াজ/আ আ