সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে বড় চমক দিতে যাচ্ছে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৩৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে বড় চমক দিতে যাচ্ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে বড় চমক দিতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির প্রার্থীদের ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১১টি সিটি করপোরেশনে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকদের দলীয় মেয়র প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি। তবে দু-একটি সিটি করপোরেশনে নতুন মেয়র প্রার্থী দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে পুনরায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হবে। নব্য ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার চিন্তা করছে বর্তমান সরকার। সবশেষ ধাপে হতে পারে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের শেষদিকে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি সরকার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অতীতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই হবে। তবে সেখানে প্রশাসকদের ভূমিকা কী থাকবে, তা এখনো জানি না। দলীয় ফোরামেও কোনো আলোচনা হয়নি।

নাম প্রকাশ না শর্তে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য খবরের কাগজকে বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা যদি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন তা হলে তারাই আগামী দিনের দলীয় প্রার্থী হতে পারেন। তবে দু-একটি সিটিতে সাবেক মেয়রদের মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়া হতে পারে।

দলীয় সূত্রমতে, ভোটের লড়াই শুরুর অনেক আগেই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের ভোটারদের কাছে প্রার্থী হিসেবে পরিচিত করা হয়েছে। জনগণের সেবা করার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে তারা জনপ্রিয়তা ঝালাই করে নেওয়ার বড় সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের মাঠ গোছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারবেন, তাদেরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সমর্থন দেওয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক থাকছে না। শিগগির সংসদে অধিবেশনে তা চূড়ান্ত করবে সরকার। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের মেয়র প্রার্থীরা বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সমর্থন পাবেন। ফলে নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে কাজ করতে পারবেন।

জানা গেছে, সিটি করপোরেশনগুলোতে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে হাইকমান্ডের। তবে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কারণ এবার নির্বাচন হবে উন্মুক্ত।

ঢাকা সিটি করপোরেশন
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে আছেন উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। কিন্তু সেই সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন। সেই সময়েই আব্দুস সালামকে ঢাকার মেয়র প্রার্থী করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপির হাইকমান্ড। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম মিল্টন ঢাকা-১৫ আসন থেকে সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। এর পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ সিটিতে আব্দুস সালাম এবং উত্তর সিটিতে শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই দুজনই যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, তা হলে ঢাকা সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে দুজনই হাইকমান্ডের প্রথম পছন্দ থাকবেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আব্দুস সালাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। গত নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন তিনি। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি, তাদের ভালোই সমর্থন পাচ্ছি। সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে যেভাবে জনগণ সার্পোট করেছে, সিটি নির্বাচনেও জনগণ একইভাবে সার্পোট করবে।

তিনি বলেন, ঢাকা সিটির জন্য আগেও কাজ করেছি। ঢাকা সিটিতে বড় হয়েছি। অবিভক্ত সিটির কাউন্সিলর ছিলাম, ডেপুটি মেয়র ছিলাম। সেই সময়েও জনগণের সেবা করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক থাকাকালীন জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি। ঢাকার দুই সিটি করপোরশন নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ পরিকল্পনা আছে। আমি আশা করি, গ্রিন ঢাকা ও ক্লিন ঢাকা উপহার দিতে পারব।

উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, দল যদি আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন করব আমি। আর দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, তা হলে তার পক্ষেই কাজ করব।

প্রশাসক আব্দুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম মিল্টনের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী হতে চান বিএনপির আরও অনেকে। দক্ষিণে মেয়র পদে প্রার্থীদের মধ্যে আরও আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক ডেপুটি মেয়র কাজী আবুল বাশার। অপরদিকে উত্তর সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন বিএনপির ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-১১ আসনের পরাজিত প্রার্থী এমএ কাইয়ূম এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। তবে এদের মধ্যে তাবিথ আউয়াল ২০২০ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার তিনি দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাতই
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যানের পছন্দ বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি আবারও দলীয় সর্মথন পাবেন।

২০২১ সালে চসিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল তখনকার বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে তিনি শপথ নেন এবং চট্টগ্রামের মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরের সিটি করপোরেশন
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা, সিলেট, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পান বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটিতে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটিতে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, গাজীপুর সিটিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার। এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আব্দুল কাইয়ুম, সাখাওয়াত হোসেন ও শওকত হোসেন সরকার এবার মনোনয়ন পাননি। ফলে এই চারজনই বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকার শীর্ষে আছেন।

এ ছাড়া গত ১৪ মার্চ আরেক দফায় বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, রাজশাহী সিটিতে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটিতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটিতে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটিতে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা দায়িত্ব পান। আসন্ন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এরাই দলের প্রথম পছন্দ।

বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, রাজশাহী ও রংপুর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন আসতে পারে। এই দুই সিটিতে সাবেক মেয়র ও দলের হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও রংপুরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন খবরের কাগজকে বলেন, দল কাকে মনোনয়ন দেবে, এটা সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত। আগেও মাঠে ছিলাম, আগামী দিনেও থাকব। যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। দল যদি আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয় তা হলে নির্বাচন করব।

তিনি বলেন, সরকার আমাকে কাজ করার জন্য বরিশাল সিটির প্রশাসক করে পাঠিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালন করে যাচ্ছি। নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ