সিটি নির্বাচন : আওয়ামী লীগ-বিএনপির কৌশলের লড়াই - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৬, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিটি নির্বাচন : আওয়ামী লীগ-বিএনপির কৌশলের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

 

সৈয়দ বোরহান কবীর

১৫ জুন ২০১৩। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট- এই চার সিটি করপোরেশন নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনে সব সিটি করপোরেশনেই পরাজিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এর কদিন পরই (৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত হলো গাজীপুর সিটি নির্বাচন। সেখানেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হেরে গেলেন। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছিলেন ৮৩ হাজারের কিছু বেশি ভোট।  আর বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পান প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ভোট।

খুলনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজারের কিছু বেশি ভোট। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি তার চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার বেশি ভোট পান। বরিশালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ, তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আহসান হাবিব কামালের চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন। সিলেটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন কামরান, বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান। আর ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা ১ লাখেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন বিএনপির এম এ মান্নানের কাছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পাঁচ সিটির নির্বাচন আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করেছিল।

বিএনপি ক্ষমতার সুবাস পাচ্ছিল। এ সময় যদি এই বিজয়ের ধারাবাহিকতায় বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিত, তাহলে আওয়ামী লীগ যে বড় ধরনের চাপে পড়ত এ নিয়ে কোনো সংশয়ই নেই। কিন্তু পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি বিএনপি। পাঁচ সিটিতে জয়ের পর বিএনপি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় অবস্থান গ্রহণ করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেয়। শুরু হয় সহিংস আন্দোলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে একের পর এক সমঝোতা প্রস্তাব দেন। প্রথমে তিনি নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ প্রস্তাবে শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। ওই সরকারে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয় দিতে রাজি হন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনকে গণভবনে চায়ের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী হরতাল, জ্বালাও- পোড়াও ছেড়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান। বেগম জিয়াকে টেলিফোন করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বেগম জিয়া টেলিফোনে ছিলেন আক্রমণাত্মক। তার কিছু বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। কুরুচিপূর্ণ।

একজন রাজনৈতিক নেতা এমন অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে পারেন! এটি সাধারণ মানুষকে বেগম জিয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা দেয়। এ সময় সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। অবশেষে বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির পুরোপুরি নির্বাচন বর্জন, জাতীয় পার্টির আংশিক বর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নির্বাচন ছিল উত্তেজনাহীন। ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি আসনেও ভোট হয় নামমাত্র। অনেকেই এটি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মতো মনে করেছিলেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের প্রায় সবাই ধরেই নিয়েছিল খুব শিগগিরই দেশে আরেকটি নির্বাচন হবে। কিন্তু ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত জাতীয় সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করে। জনগণ বিএনপির জেদকে, সহিংস রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে। বিনা ভোটে অর্ধেক এমপি হওয়ার পরও সাধারণ মানুষ ওই সরকারকে সমর্থন দেয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ