সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটক হত্যা স্ত্রীর পরকীয়ায় খুন হন ইমরান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ১০:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ১০:১৩ অপরাহ্ণ

সিলেটের জাফলংয়ে বেড়াতে এসে খুন হন ইমরান। স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে জাফলং নিয়ে খুন করা হয়। এরপর লাশ পাথরচাপা দিয়ে ঘাতক স্ত্রী ও খুনিরা সিলেট থেকে পালিয়ে যায়। গত সোমবার জাফলং বল্লাঘাট রিভারভিউ রিসোর্ট সেন্টারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তদন্তে নামে সিলেট পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কয়েকটি টিমও কাজ শুরু করে। ঘটনার তিনদিনের মাথায় পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার পুরুষ ও নিহত ইমরানের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তারা খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। গতকাল দুপুরে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন- গত ১৭ই এপ্রিল বিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট বল্লাঘাট রিভারভিউ রিসোর্টের পাশে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ পাথরচাপা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশ পাওয়া ওই যুবকের নাম আলে ইমরান। তিনি কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার গুরই গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। এদিকে- লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ মামলা দায়েরের পর নজরদারি শুরু করে। বুধবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খুশনাহার এবং নাদিম আহমেদ নাঈমকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে খুশনাহার ওই পর্যটক ইমরানের স্ত্রী এবং নাদিম খুশনাহারের পরকীয়া প্রেমিকের বন্ধু বা সহযোগী। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার বেলদি গাজীরটেক গ্রামের মো. জিন্নাতের ছেলে। আর খুশনাহার কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার ছেত্রা গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে। এ দু’জনের মধ্যে নাদিমকে নিজ বাড়ি এবং খুশনাহারকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গতকাল পুলিশ মাহিন ও তার আরেক সহযোগী রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের ভাষ্য থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হয়। কী কারণে, কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়; সেটিও জানায় পুলিশ। ইমরানের স্ত্রী খুশনাহারের সঙ্গে মাহিদুল হাসান মাহিন নামে এক তরুণের দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের অবৈধ প্রেম চলছে। মাহিন ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে জিএম পদে কর্মরত। ইমরানের সঙ্গে গত পাঁচ বছর আগে খুশনাহারের বিয়ে হয়। মাহিনের সঙ্গে প্রেমে জড়ানোর পর থেকেই খুশনাহার এবং তার প্রেমিক মাহিন বিভিন্ন সময় ইমরানকে হত্যা করার চেষ্টা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যা করার উদ্দেশ্যে খুশনাহার বেড়ানোর কথা বলে স্বামীকে নিয়ে গত ১৫ই এপ্রিল রাতে ভৈরব হতে ট্রেনযোগে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। অন্যদিকে একই দিনে প্রেমিক মাহিন ও মাহিনের অফিসে কর্মরত গ্রেপ্তারকৃত আসামি নাদিম এবং রাকিব নামের এক সহযোগী ঢাকা কমলাপুর থেকে ট্রেনযোগে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। রোববার সকাল ৮টার দিকে জাফলং বল্লাঘাটস্থ ‘রিভারভিউ রিসোর্ট অ্যান্ড আবাসিক হোটেল’র ১০১ নং কক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে ওঠেন ইমরান। এ সময় অন্য তিন আসামি জাফলং বল্লাঘাটের হোটেল শাহ আমিনে অবস্থান করেন। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে খুশনাহার কৌশলে ‘রিভারভিউ রিসোর্ট অ্যান্ড আবাসিক হোটেলের তাদের কক্ষের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন। পরবর্তীতে মাথাব্যথার ওষুধের কথা বলে রাত ১০টার দিকে ইমরানকে তার স্ত্রী খুশনাহার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ইমরান গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলে স্ত্রী খুশনাহার রাত ১২টার দিকে তার প্রেমিক মাহিন ও সহযোগীদের হোটেলকক্ষে নিয়ে আসেন। রাত ২টার দিকে ইমরানের গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুশনাহার ও তার প্রেমিক মাহিন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। এ সময় আসামি নাদিম পর্যটক ইমরানের পা চেপে ধরেন এবং রাকিব নামের একজন রুমের বাহিরে পাহারা দেন। এক সময় ইমরানের মৃত্যু নিশ্চিত হলে রাত ৩টার দিকে হত্যাকালী সবাই ইমরানের মৃতদেহ লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে হোটেলের পাশে পাথরচাপা দিয়ে রাখেন। পরে রাত সাড়ে ৪টার দিকে তারা হোটেল থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিতে অটোরিকশাযোগে সিলেট ছেড়ে পালিয়ে যান।
জনতার আওয়াজ/আ আ