সিলেটের বহি স্কৃত বিএনপি নেতাদের কপাল খুলছে! - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:৩৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেটের বহি স্কৃত বিএনপি নেতাদের কপাল খুলছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ১০:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

 

এনামুল কবীর
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য একসময় তারা কাজ করেছেন। দলের জন্য অবদান রেখেছেন। তবে সাধারণ ভোটারদের চাপে হউক আর অন্য যেকোনো কারণেই হোক, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০২৩ সালের নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর তাদের উপর নেমে আসে শাস্তির খড়গ। দল থেকে বহিস্কার করা হয় আজীবনের জন্য। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের কপাল খুলতে পারে, বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হতে পারে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র আর বহিস্কৃত নেতৃবৃন্দের কয়েকজনের সাথে আলাপকালে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০২৩ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। দলীয় সেই নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকজন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের কেউ কেউ জয়লাভ করেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপির কমপক্ষে ৪৩ জন নেতাকর্মীকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিস্কার করা হয়। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৯ জন আর মহিলা ৪ জন।

২০২৩ সালের ৫ জুন রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাদের বহিস্কারাদেশ দেওয়া হয়।

এই বহিস্কারাদেশের প্রায় আড়াই বছর হতে চললো। আবার গেল বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনও হয়েছে, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বহিস্কৃত নেতৃবৃন্দ যার যার নিজস্ব চ্যানেলে কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করছেন। তাদের প্রত্যাশা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শাস্তির মেয়াদ বিবেচনায় নিয়ে তাদের বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হবে।

বহিস্কৃত নেত্রীবৃন্দের কয়েকজন সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবরে ক্ষমা চেয়ে আবেদনও করেছেন। তাদের সেই আবেদন বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, এ ব্যাপারে এখনো আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আর এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের এখতিয়ার দলীয় হাইকমান্ডের। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই।

তিনি আরও বলেন, তবে বহিস্কৃত বিএনপি নেত্রীবৃন্দের দলের প্রতি অতীতের অবদান, কর্মতৎপরতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলেও নিতে পারেন।

তবে এ ব্যাপারে তারা কোনো লিখিত সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠান নি বলেও উল্লেখ করেছেন কয়েস লোদী।

বহিস্কৃত নেতৃবৃন্দের একজন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আসলে ওই সময়ে সার্বিক পরিস্থিতি ছিল আমাদের প্রতিকূলে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নানামুখী চাপে পড়ে আমি বা আমার মতো আরও অনেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ আমার অতীত বিবেচনা করে দেখুন। আমি বরাবরই দলের প্রতি অনুগত। আমার পরিবারও জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনীতির সাথে জড়িত যুগযুগ ধরে। আমি আশাবাদী, দল আমাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করবে। অন্তত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিবেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোন প্রেক্ষাপটে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলাম, দলের প্রতি আমার বা আমার পরিবারের অবদান, নির্বাচিত ও বহিস্কার হওয়ার পরও দলের জন্য আমার তৎপরতার বিস্তারিত তুলে ধরে ক্ষমা চেয়ে আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছি। আমি আশাবাদী, আমার বিষয়টি দল নমনীয় মনোভাবে বিবেচনা করবে।

প্রায় একই বক্তব্য জেলা মহিলা দলের বহিস্কৃত সভাপতি সালেহা কবির শেপীর। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি দলের জন্য অনেক কাজ করেছি। আগামীতে আরও প্রচুর কাজ করতে চাই। এমনকি বহিস্কৃত হওয়া সত্তে¡ও আমি দলের জন্য কাজ করছি। আশা করছি দল নমনীয় হয়ে আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

মোটামুটি বহিস্কৃত ও দায়িত্বশীল সূত্র আর দেশের সামগ্রীক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিলেট বিএনপির বহিস্কৃত নেত্রীবৃন্দের কপাল খুলছে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

আজীবন বহিষ্কৃতদের মধ্যে আছেন মেয়র প্রার্থী ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ছালাউদ্দিন রিমন।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে যারা বহিষ্কৃত হয়েছেন তারা হলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ তৌফিকুল হাদি (১নং ওয়ার্ড), মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম (৬নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম মুনিম (১৪নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল (১৮নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব তুহিন (২১নং ওয়ার্ড), মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ (২৫নং ওয়ার্ড), জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক উসমান হারুন পনির, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা কামাল, গউছ উদ্দিন পাখি, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন নাদিম, ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মুফতি কমর উদ্দিন কামু (১নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিঠু (৩নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. কামাল মিয়া (৫নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য খালেদ আকবর চৌধুরী (৫নং ওয়ার্ড), আমিনুর রহমান খোকন (৫নং ওয়ার্ড), শাহেদ সিরাজ (৫নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান জুবের (১০নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আব্দুর রহিম মতছির (১১নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মুজিবুর রহমান (১৫নং ওয়ার্ড), জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সালমান চৌধুরী শাম্মী, ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রহমান মামুন (২৩নং ওয়ার্ড), এমসি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বদরুল আজাদ রানা (২২নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হুমায়ুন কবির সুহিন (২৪নং ওয়ার্ড), ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি সেলিম আহমদ রনি (২৬নং ওয়ার্ড), জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাস, বরইকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক জাবেদ আমিন সেলিম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক রাজু মিয়া, বরইকান্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সানর মিয়া, টুলটিকর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মুকিত, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেদায়েত হোসেন তানবীর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দুলাল আহমদ, জেলা বিএনপি নেতা দেলওয়ার হোসেন জয়, মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল হাছিব, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সহক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক সুমন আহমদ সিকদার, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপি নেতা সাহেদ খান স্বপন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপি নেতা ইউনুস মিয়া বরইকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা নুরুল ইসলাম মাসুম।

এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে বহিস্কৃত হয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপী, মহানগর মহিলা দলের সহসভাপতি রুহেনা বেগম মুক্তা, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট ইউনিটের সদস্য অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি কামরুন নাহার তান্নি (সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৬)।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ