সিলেটে ছাত্র মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ১০ দফা দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

যুগান্তর মেসেঞ্জার
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের স্কলার্স হোম স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমান আহমেদের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলে সহপাঠীরা বিক্ষোভ করেছে রোববার।
শাহী ঈদগাহ শাখা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে তারা কর্মসূচি পালন এবং ১০ দফা দাবি উত্থাপন করে। এ সময় তারা দায়ীদের শাস্তি ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আজমানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, উপাধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগ, শ্রেণিশিক্ষক শামীম হোসেন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক তাইবার অপসারণ, শিক্ষার্থীদের হেনস্তা বন্ধ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, কলেজের নোটিশ বোর্ডে বিবৃতি প্রকাশ, অভিভাবকের সঙ্গে অসদাচরণ বন্ধ করে শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি গ্রহণ, পরীক্ষার রুটিন তৈরিতে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রতিফলন, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আক্রোশ বন্ধ এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনের ব্যবস্থা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রোববার সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকালে নগরের সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার বাসা থেকে আজমান আহমেদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আজমান ওই এলাকার রাশেদ আহমেদের ছেলে। এইচএসসি প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষায় তিনি পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হন, যার মধ্যে দুটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেননি।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। আজমানের মৃত্যুর পর দিন তার পরিবার সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজমানের চাচা আবদুল শুক্কুর বলেন, মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাকে নিয়ে কলেজে গিয়েছিল আজমান। তখন শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে তাদের অপমান করেন। মৃত্যুর দিনও তিনি কলেজে যান এবং ওই দিনের ঘটনার জেরেই আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কলার্স হোম শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) মুনীর আহমেদ কাদেরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জনতার আওয়াজ/আ আ