সিলেটে বিএনপির দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আ’লীগের মামলা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:২৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেটে বিএনপির দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আ’লীগের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ৯, ২০২২ ৪:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ৯, ২০২২ ৪:২২ অপরাহ্ণ

 

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে নির্মিত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুরের ঘটনায় এবার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহানগরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জাহিদ সারওয়ার এ মামলা করেন। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি বুধবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক নেতা আ ফ ম কামাল গত রোববার রাত সোয়া আটটায় নগরের আম্বরখানা এলাকায় খুন হন। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ খুনের পেছনে সরকারদলীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়িত। ওই রাতেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে নির্মিত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

জানা যায়, সিলেটে বিএনপিকে ‘সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। দলটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে ১৯ নভেম্বর সিলেটের গণসমাবেশসহ সব ধরনের কর্মসূচি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিহত করতে বাধ্য হবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠানো হয়। এর আগে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জরুরি সভা করে। এ ছাড়া গতকাল আওয়ামী লীগের সভা থেকে

‘বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের’ বিরুদ্ধে গত রোববার রাতে নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে নির্মিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। আওয়ামী লীগের ওই সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই রাত ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহানগরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জাহিদ সারওয়ার এ মামলা করেন। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার রাতে ভাঙচুরের খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুরকারীদের ধাওয়া দেন। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় একটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর ও মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ সময় আওয়ামী লীগের নেতারা সংক্ষিপ্ত সভায় ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ১৯ নভেম্বর বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতে আওয়ামী লীগ সভা করেছে। সে সভা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পাশাপাশি গণমাধ্যমে একটা বিবৃতি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মো.জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এ বিবৃতি পাঠানো হয়।

বিএনপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভাকে ভন্ডুল করার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে মারা যান আ ফ ম কামাল। কিন্তু তারা দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে পরিণত করার পাঁয়তারা করছে। এটাই বিএনপির চরিত্র। তারা নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে সব সময়ই সিদ্ধহস্ত। কিন্তু জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই তা হতে দেবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা বিএনপির সন্ত্রাসীদের এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা গণমাধ্যমে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আবেগের জায়গা। বিএনপি সন্ত্রাসীরা আমাদের সেই আবেগের জায়গায় আঘাত করেছে, যা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মেনে নিতে পারে না। শান্তি ও সম্প্রীতির সিলেট নগরকে অশান্ত করার জন্য বিএনপির সন্ত্রাসীরা পাঁয়তারা করছে। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত দুষ্কৃতকারীদের সিলেটের মাটিতে স্থান হতে পারে না।’ নেতারা বিএনপির ‘সন্ত্রাসীদের’ অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতারা বিবৃতিতে বিএনপি নেতা কামালের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ