সিলেট-সুনামগঞ্জ মেড ইন ছাত্রদল’ হয়ে উঠেছে বিএনপির এক নতুন রাজনৈতিক মেটাফর - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেট-সুনামগঞ্জ মেড ইন ছাত্রদল’ হয়ে উঠেছে বিএনপির এক নতুন রাজনৈতিক মেটাফর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ৪:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫ ৪:২৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
‘মেড ইন ছাত্রদল’। সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন এক দৃশ্যপটের উদয় হয়েছে। যারা বিএনপি করছেন, প্রার্থিতার জন্য লড়ছেন, মাঠে তারা যেন ‘মেড ইন ছাত্রদল’ বলে বলীয়ান। ছাত্রদল থেকে বিএনপি করলেও দলটির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বের পরিচিতি তাদের পিছু ছাড়ছে না। তাতে ‘মেড ইন ছাত্রদল’ হয়ে উঠেছে বিএনপির এক নতুন রাজনৈতিক মেটাফর।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে চষে বেড়ানো ছাত্রদল থেকে তৈরি নেতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম না। সিলেট বিভাগের দুটি জেলার ১১টি আসনে কুড়িজনের বেশি মেড ইন ছাত্রদল-বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের রাজনৈতিক হাতেখড়ি ছাত্রদলে। এর মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বেও আসীন হয়েছেন। মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা তাদের নিয়ে ইতিবাচকভাবে মেতেছেন, যা বিএনপির ভোটের রাজনীতিতে নতুন বল হিসেবে আলোড়িত হচ্ছে।

‘মেড ইন ছাত্রদল’ মেটাফরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দা সহিদুর রহমান তার পছন্দের প্রার্থীর নাম ধরে বলেন, ‘ছাত্রদল থাকি বিএনপি কররা। ই-ফিরা (এবার) নমিনেশন না পাইলে লাইফ শেষ!’

সূত্রপাতে ইলিয়াস আলী:
ভোটের মাঠে মেড ইন ছাত্রদল মেটাফর সূত্রপাত সন্ধানে জানা গেছে, বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলী এর সূত্রপাত করেন। ছাত্রাবস্থা থেকে সাহসী চরিত্রের ইলিয়াস আলী বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন একজন নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে আবাসিক হলের নেতা থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন হন। ১৯৮৩ সালে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ১৯৮৬ সালে প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে আন্তর্জাতিকবিষয়ক সচিব নির্বাচিত হন। আশির দশকের মধ্যভাগে রাজধানীতে ছাত্ররাজনীতির চালিকাশক্তি হয়ে ইলিয়াসই প্রথম সেই সময়কার সামরিক শাসনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এ জন্য ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃতও হন। ১৯৮৮ সালে গ্রেপ্তার হয়ে সাত মাস কারাভোগ করেন। ১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আবার কারাবন্দি হন। ২৩ মাস কারাভোগের পেছনে ছিল অন্তর্দলীয় ষড়যন্ত্র। তা ভেদ করেন কারামুক্তির মধ্য দিয়ে। তখন বয়সে তরুণ হলেও মূল দলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত ইলিয়াস ভোটের রাজনীতিতে নেমেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয় পাননি। তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, ‘ওয়ান-ইলেভেন ষড়যন্ত্রে’ তাকে হারানো হয়। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ তাকে তুলে নেওয়া হয়। সেই থেকে তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

মিজান-ফয়সল জুটি:
সাবেক ছাত্রদল নেতাদের মধ্য থেকে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পান সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ভোটের রাজনীতিতে এ দুজন তখন ছাত্রদলের সাবেক নেতার একটি জুটি হিসেবে আলোচিত হন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে দুজন লড়েছেন ডাকসাইটে দুই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে। সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে ফয়সল, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে একাধিকবারের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিজানুর রহমান চৌধুরী।

ওই সময় মাঠে প্রতিকূল অবস্থার মুখে তাদের পক্ষে বিপুল সাড়া দেখা গিয়েছিল। তবে ভোট শেষে দুজনের অভিযোগ ছিল, ‘রাতের ভোটে তাদের হারানো হয়েছে।’ তবু ভোটবিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। তারা বলেছিলেন, প্রভাবিত ভোট বা হারজিত যাই হোক, ছাত্রদল প্রজন্ম যে ভোটের মাঠেও শক্তিশালী, এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং নতুন একটি ধারার সূত্রপাতও হয়েছে।

মিজানুর রহমান চৌধুরী ভোটের মাঠমুখী একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। ফয়সল আহমদ চৌধুরীও মাঠছাড়া হননি। প্রথমবার ভোট আর পরবর্তী সময়ে মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা দুজনের এক। দুজনই এক সুরে বলেছেন, ‘২০১৮ সালের সেই নির্বাচন যদি সামান্যতম ফেয়ার হতো, তাহলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারত না।’

সিলেটে ১০ জন:
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি আসনেই আছে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের প্রার্থিতা। সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে এখন আসীন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে। ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর) আসনে তার প্রার্থিতার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে আরিফ চান সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে দলীয় মনোনয়ন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে আছেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে মাঠে সক্রিয় লুনা বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে আছেন। সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার এম এ সালাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা। এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ওয়ান ইলেভেন সময়ে সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল আহাদ খান জামাল।

সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশায় মাঠে তৎপর ছাত্রদল থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন হওয়া মিফতাহ সিদ্দিকী। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ছাত্রদলের মহানগর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), সিলেট ল কলেজের ভিপিখ্যাত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব) ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পাপলু মনোনয়নপ্রত্যাশী। সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে ২০১৮ সালে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে মনোনয়নপ্রত্যাশায় মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক জেলা সভাপতি এমরান আহমদ চৌধুরী।

মেড ইন ছাত্রদল সময়ের প্রয়োজনে রাজনীতির নতুন মেটাফর বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের চোখে মোস্ট ওয়ান্ডেট ছিলাম। গ্রেপ্তার এড়িয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা কঠিন ছিল। ছাত্রদল থেকে বিএনপি করেছিলাম বলেই সেই কঠিন অবস্থা মোকবিলা করতে পেরেছি। রাজনীতির মাঠ থেকে ভোটের মাঠেও সেই ভূমিকা এখন আলোচিত হচ্ছে।’

সুনামগঞ্জে ১০ জন:
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-ধরমপাশা-জামালগঞ্জ-মধ্যনগর) আসন সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় নির্বাচনি এলাকা। এখানে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন প্রয়াত নজির হোসেন। তার স্ত্রী সালমা নজির উত্তরসূরি হিসেবে মাঠে তৎপর থাকলেও সেখানে রাজনীতিতে সক্রিয় কামরুজ্জামান কামরুল মেড ইন ছাত্রদল প্রার্থী। একই ইমেজে তিনি উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছিলেন। প্রার্থিতায় মাঠে তৎপর আছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, জামালগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক লিটন আফিন্দী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি পদে থাকা নিজাম উদ্দিন।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলার সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। এমসি কলেজ ছাত্রাবাস শাখা ছাত্রদলেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সিনিয়রদের সম্মানে তখন ছাড় দিয়েছিলেন। এবার সেই ছাড় তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। তরুণ একটি অংশ তার পক্ষে মাঠে তৎপর।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হরতাল পালনকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হাতে ছাত্রদলের কর্মী হাফিজ নিহতের ঘটনায় একের পর এক মামলার আসামি হয়ে ওই বছরেই দেশ ছাড়েন কয়ছর। সেখানে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার পাশাপাশি এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশায় মাঠে আছেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য নাদীর আহমদ।

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে যুবদলের সভাপতি ও বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল মনসুর মো. শওকত।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী ২০১৮ সালে দলীয় প্রার্থিতার পর থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

মেড ইন ছাত্রদল মেটাফরে নজর কাড়ছেন সুনামগঞ্জে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা নাদীর আহমদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেখে সেই স্কুলজীবন থেকে সক্রিয়। দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির মূল্যায়নে দুটি দিক থাকতে হবে। একটি মাঠে থাকা, অন্যটি মাঠ ছাড়া। মাঠে থাকাদের মূল্যায়ন হলে ব্যক্তি নয়, দল লাভবান হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ