সিলেট ১ -মর্যাদার আসনে এগিয়ে বিএপিন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৫ ২:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৫ ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
ছবি: প্রতিনিধি
মর্যাদার আসন সিলেট-১। যেটি সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভোটার কম নয়। প্রায় সাত লাখ। এ আসনকে বলা হয়ে থাকে বিএনপি’র ভোট ব্যাংক। মিথ আছে, সিলেট-১ আসন যার, সরকার তার। এ কারণে এ আসনে আগে থেকেই প্রার্থী প্রস্তুত রাখে রাজনৈতিক দলগুলো। মনোনয়ন দেয়া হয় ভিভিআইপি প্রার্থীদের। যাদের ঘিরে সিলেটের রাজনীতি, উন্নয়ন- সবকিছুই আবর্তিত হয়। এ আসনে যে প্রার্থী বিজয়ী হন, তার জায়গাও হয় মন্ত্রিপরিষদে। ফলে এ আসনটি নিয়ে সবার নজর থাকে বেশি। দেশখ্যাত অনেক বাঘা-বাঘা রাজনীতিকদের চোখ থাকে এ আসনে। এরপরও অনেকেরই ভাগ্যে জুটে না আসনটির টিকিট। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এখন পর্যন্ত বিএনপি ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। প্রথম ধাপেই ঘোষণা হতে পারে এ আসনের প্রার্থীর নাম। মাঠে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সাবেক মেয়র ও আরেক উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। দল প্রার্থী ঘোষণা না করলেও বিএনপি’র একাধিক তরফ থেকে শোনা যাচ্ছে, মর্যাদার এ আসনে বিএনপি আস্থা রাখছে ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নাম। তিনিও দিন-রাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ইতিমধ্যে ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করে তিনি সিলেটে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তাকে ঘিরেই মূলত এ আসনের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত রয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পিতা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম খন্দকার আব্দুল মালিকও এ আসনের এমপি ছিলেন। ফলে পারিবারিক সূত্রে সিলেটে পরিচিত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ইতিমধ্যে তিনি নগর ও সদরে আঞ্চলিক কমিটি গঠন করে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন। তার দিকে ফোকাস বেড়েছে ভোটারেরও। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন চাইছেন সাবেক মেয়র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীও। দু’বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কারণে এখনো তার ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনিও নির্বাচনের মাঠে প্রচারণায় রয়েছেন। গেল সপ্তাহে তিনি নগরের মেজরটিলা এলাকায় ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানেও তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছেন। আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে উন্নয়নবঞ্চিত সিলেটবাসীকে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ইতিমধ্যে তার ডাকে সিলেটে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আর সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম ছিল। এ আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী জেলার আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি সিলেট অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। আগের কয়েকটি নির্বাচনে তিনি নিজ এলাকায় সিলেট-৬ আসনে ভোটের মাঠে ছিলেন। এবার দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি সিলেট সদর আসনে প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজেও ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। তাকে ঘিরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসনে তারা যোগ্য প্রার্থীই মনোনয়ন দিয়েছে। সিলেটের মানুষ তাকে সাদরে গ্রহণ করছেন। রাজপথের প্রচারণার পাশাপাশি তারা ঘরে ঘরে গিয়ে দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লার দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, সিলেটে তাদের ভোট বাড়ছে। আগাম প্রচারণায় নামায় যেদিকেই যাচ্ছেন জনগণের সাড়া পাচ্ছেন। এদিকে, সিলেট-১ আসনে জমিয়ত থেকে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, খেলাফত মজলিস থেকে সিনিয়র নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দলের সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল ফখরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের একাংশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী। সিলেটে ভোটের মাঠ মূলত জমিয়ে রেখেছেন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের প্রাথমিক প্রচারণায় লোক সমাগমে ধারে-কাছেও কেউ নেই। বিএনপি’র প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের কাছেও আগ্রহ বেশি। প্রচারণায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জামায়াতের প্রার্থী। তার কর্মীবাহিনী নগরের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু ভোটারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ