সিসনের সফর
মানবাধিকার ইস্যুতে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে. সিসন। একই সঙ্গে তিনি র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে স্টেট ডিপার্টমেন্টের কিছুই করার নেই বলে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে ঢাকাকে আইনি পথে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন- এই ৩ ইস্যুকে অগ্রাধিকারে রেখেই কাজ করছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে জাতিসংঘের ম্যান্ডেট হোল্ডার অর্থাৎ বিভিন্ন সংস্থার র্যাপোর্টিয়ারের মতামতকে গুরুত্ব দেয়। বাইডেন প্রশাসন এটাকে ‘ইন্টিগরাল পার্ট’ মনে করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সফরের তৃতীয় এবং শেষদিনে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক হয় মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিশেল জি. সিসনের। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক মার্কিন সহকারী মন্ত্রী সিসন সেই সব বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি, মানবাধিকার ও মানবিক চাহিদা চিহ্নিত করা, শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহযোগিতাসহ মার্কিন বহুপক্ষীয় অগ্রাধিকার নিয়ে তার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ঢাকার প্রতিনিধিরাও এসব বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
এ সংক্রান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সফররত মিশেল জে. সিসন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে পররাষ্ট্র সচিবকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তাদের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বহুপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে খোলামেলা আলাপ হয়।
সফররত এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও পররাষ্ট্র সচিব বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে উভয় দেশের যৌথ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়সমূহ, বিশেষ করে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্পর্কিত বিষয়াবলী- যেমন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশ্বস্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত সিসন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব জানান যে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে অবিলম্বে নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে জোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত সিসন দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শান্তিরক্ষা মিশনসমূহে বাংলাদেশের অবদান, বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। তারা বহুপক্ষীয় ফোরামসমূহে আসন্ন নির্বাচনগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছে প্রার্থী বাংলাদেশ। আর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের পরবর্তী সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থী ডোরেন বোগদান-মার্টিনের পক্ষে ভোট চেয়েছেন বাইডেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ ওই প্রতিনিধি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মতে, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিশেল জে. সিসনের সম্মানে পররাষ্ট্র সচিব এক ভোজের আয়োজন করেছিলেন।
এদিকে পূর্বাহ্ণে এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিশেল জে. সিসনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সেগুনবাগিচায় এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেই সভায় শান্তিরক্ষা মিশন, খাদ্য নিরাপত্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের প্রত্যাবর্তন, জি-৭৭, জাতিসংঘের এসকাপ-এ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অনুবিভাগ, মাল্টিলেটারাল ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স, মিয়ানমার অ্যাফেয়ার্স এবং জাতিসংঘ ও মানবাধিকার অনুবিভাগের ৪ মহাপরিচালক এবং আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন এবং ইআরডি’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সহযোগিতাকে আরও গভীর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন তারা। বিকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকেও প্রতিনিধিদল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন সহকারী মন্ত্রী সিসন। সিসন ২০২১ সালের ২১শে ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (২০১২-২০১৪), লেবাননে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (২০০৮-২০১০) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত (২০০৪-২০০৮) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৬ই আগস্ট চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ঢাকায় নামার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পূর্ব নির্ধারিত ৩ দিনের সফরে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি।
জনতার আওয়াজ/আ আ