সিসিক নির্বাচনেনৌকার প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা দল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ৫:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ৫:১০ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আওয়ামী লীগের তৎপরতা বাড়ছে। গত দুবার সিসিকে মেয়র পদে ক্ষমতাসীনের হারের দগদগে ক্ষত পূরণ করতেই এবার এই পদে বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে আর পরাজয়ের তেতো স্বাদ গ্রহণ না করতে একাট্টা মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঈদের পর ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে নৌকার প্রার্থী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ শুরু করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা এখনো প্রকাশ্যে আনোয়ারের পক্ষে না দাঁড়ালেও কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন না। কেউ কেউ এখনো প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ না করলেও সিলেট আওয়ামী লীগ যে আনোয়ারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ, তা মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন ঘোষণার পর সিলেট বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের এখনো বেশ কিছুদিন বাকি। ঈদের পর সিসিক নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করব। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন থেকে শুরু করে সব মনোনয়ন বঞ্চিতদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এই নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয় সুনিশ্চিত করব।
জানা গেছে, সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২১ জুন, এ উপলক্ষে ২৩ মে পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে, বাছাই ২৫ মে ও ১ জুনের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। আর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে গত ১৫ এপ্রিল। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দুদিন পর সিলেটে ফেরেন আনোয়ারুজ্জামান। সে সময় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ
নেতারা তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যান। দলের কাছে মনোনয়ন চাওয়া ১১ জনের মধ্যে কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আনোয়ারুজ্জামানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছালেহ আহমদ সেলিম ও আরমান আহমদ শিপলু।
মনোনয়ন বঞ্চিতরা আনোয়ারুজ্জামানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ায় দলের ঐক্য নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান। তিনি বলেন, মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে কোনো বিভেদ নেই। নৌকাকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
বিমানবন্দরে অনুপস্থিত থাকা নেতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ ও আবদুল খালিক, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ টি এম এ হাসান জেবুল, আজাদুর রহমান আজাদ, সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন ও আজাদুর রহমান আজাদ দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন।
এ প্রসঙ্গে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম কিন্তু পাইনি। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, শিগগির দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার শুরু করব।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে প্রার্থী করেছেন, তার পক্ষেই আমরা আছি।
মনোনয়নবঞ্চিত মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, বিমানবন্দরে যেতে পারিনি। দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। তবে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন, আমরা তার সঙ্গেই আছি। দলে প্রতীক পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কোনো বিভেদ নেই। নৌকার বিজয় প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সিসিক নির্বাচনে অংশ নেবে না জানালেও দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিপক্ষে ভোট দেবে বলে জানা গেছে। বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করলে বিএনপির বেশিরভাগ ভোট আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, সিলেট বিএনপিতে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন আরিফ, এ নিয়ে বর্তমান সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর দ্বন্দ্ব। অন্যদিকে জামায়াতের ভোট সিসিক নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর। সিলেটে বিএনপি-জামায়াত জোটে ভাঙন ধরায় জামায়াতের ভোট আনোয়ারুজ্জামান পেতে পারেন। নতুবা ভোটকেন্দ্রেই যাবে না জামায়াতের ভোটাররা।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করব। মনোনয়ন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহ বা বিভেদের কোনো ঘটনা দলে ঘটবে না। এর কোনো আভাসও আমরা পাচ্ছি না।
২০০২ সালে সিলেট পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। এই মহানগরের আয়তন ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার, ওয়ার্ড ৪২টি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর এবার পঞ্চমবারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রথম চারবার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।
জনতার আওয়াজ/আ আ