সুজনের ওয়েবিনার : সংকট সমাধানে দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩ ২:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩ ২:৫৪ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংঘাত সহিংসতা এড়াতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তারা বলছেন, সমঝোতা না হলে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে তা হতে পারে জাতির জন্য চরম অঙ্গলকর।
গতকাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘সমঝোতা নাকি সহিংসতা: কোন পথে আমরা?’ শীর্ষক এই অনলাইন গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন তাগিদ দেন।
বলেন, সংবিধানেই সংকট সমাধানের ব্যবস্থা আছে। দলগুলোকে সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। কেউ হারতে চায় না এমন মানসিকতা থাকলে কিছুতেই সমঝোতা সম্ভব নয়।
সূচনা বক্তব্যে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আগামী ১লা নভেম্বর ২০২৩ থেকে ২৯শে জানুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবার চাওয়া এই নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক। কিন্তু বিরাজমান রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য অনুকূল না। বদিউল আলম বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। যার পরিণতি হতে পারে জাতির জন্য চরম অমঙ্গলকর। নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া উত্তাপ-উত্তেজনা ভয়াবহ সহিংসতার দিকে ধাবিত করতে পারে। তাই আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানাই।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন, তারা ভাবছেন রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে বেশি বেশি টাকা পয়সা কামানো যায়।
উত্তরোত্তর ধনী হওয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের মিষ্টি কথায় সরানো যাবে না। নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট আছে, যেটার সমাধান দেখছি না। তবে বিশ্বাস করি, আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়েই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশটা এখন দুইভাগে বিভক্ত। বিভক্ত সমাজে নতুন কিছু আশা করা যায় না। যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান অথবা কুলখানিতেও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যেতে ইতস্তত বোধ করেন বা অংশ নেন না।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি সত্যিই চিন্তিত। একজন সাংবাদিক হিসেবে বলতে পারি, আমাদেরও দায়িত্ব ছিল। কিন্তু আমরা সেটা পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। এই রাষ্ট্রেই আমরা দেখেছি, প্রয়াত সাংবাদিক ফয়েজ ভাই দুই নেত্রীকে একত্রে বসিয়েছিলেন। এখন সেই সাংবাদিকও নেই, সেই পরিবেশও নেই। এখন কিন্তু নেতারা চাইলেও পারবেন না, কারণ দুই পক্ষেই দুটি শক্তিশালী গ্রুপ কোনো অবস্থাতেই সমঝোতার দিকে যেতে দিতে চায় না।
তিনি বলেন, এখন কিন্তু খেলাটা কেবল আওয়ামী লীগ, বিএনপি’র না। খেলাটা হলো সুপার পাওয়ারের। সুপার পাওয়ারের একটা নগ্ন লীলাভূমি হয়ে গেল বাংলাদেশ। এই খেলায় এখন কে জিতবে, আর কে জিতবে না তা এখনই নির্ধারিত হবে না। এটা নির্ধারিত হবে আরও পরে। আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী, আমার মনে হয় না কোনো রাজনৈতিক পণ্ডিত এ নিয়ে ভবিষদ্বাণী করতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, বলা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে ক্ষমতাসীনরা আর থাকবে না, আর তত্ত্বাবধায়ক না এলে যারা ক্ষমতায় আছে তারাই থাকবে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ভোটের তেমন পার্থক্য নেই, উনিশ-বিশ। কাজেই একটি দলকে বাইরে রেখে শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। তারা একটি সিডিউল ঘোষণা দিলো। সেই সিডিউলটা কতোটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে? নাকি এটা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো কাছাকাছি কিছু একটা হবে? নির্বাচন কমিশনের কাছে তাহলে কি কোনো পথ আছে? তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে একটা পথ আমি দেখি। নির্বাচন কমিশন আগের দুটি কমিশনের অভিজ্ঞতাটা গ্রহণ করুক। এই দুই কমিশন কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করেছে। কিন্তু সেই নির্বাচন কি সত্যিকার অর্থে ভালো নির্বাচন হয়েছে? সংবিধানের মূল চেতনা তারা রাখতে পারেননি। এটা নিয়ে মাহবুব তালুকদারের বই আছে, ড. সাখাওয়াত সাহেবের বই আছে এগুলো পড়ে দেখুন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দেখুন।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কী করে দলগুলোকে দিয়ে আলোচনা করবেন, সেটা বুঝতে পারছি না। দুই মেরুতে দুই দল। এ নিয়ে সমঝোতার বিষয় আছে। কতোগুলো বিষয় আরও আগে আমাদের ফোকাস করা উচিত ছিল। তবে ভবিষ্যতে করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, সমঝোতার বিষয়টি সংবিধানেও আছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরে একটা সরকার গঠন করা রাষ্ট্রপতির কাজ হয় অন্যান্য দেশে। সেটা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংকট নিরসনে কাজে লাগাতে পারি কিনা। তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিলে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন যে পরিচয়পত্র তৈরি করবে কোনো এক নিবন্ধকের তত্ত্বাবধানে, সেখানের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরি করবে। এটি একটি সিরিয়াস ধারা। যদি সরকার এটি অনুমোদন দেয়। এটি পুরোপুরি সংবিধান পরিপন্থি। এটি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে বড় রকমের গণ্ডগোল হবে। তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৯১(ক) ধারায় সংশোধনী এনে নির্বাচনের ওপর কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা হয়েছে। মুখ দিয়ে বলবেন, ইসিকে শক্তিশালী করতে হবে। আর তার অঙ্গ কাটতে শুরু করলেন।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, আগামী তিন মাসে সমাধান হওয়া খুব কঠিন বলে মনে করি। এর মধ্যে রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোকে একসঙ্গে করা এবং তাদেরকে কথা শোনানো কীভাবে সম্ভব হবে জানি না। তিনি বলেন, রাষ্ট্র হচ্ছে জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি চুক্তি। সেই চুক্তির ভিত্তি হতে হয় সংবিধান। আমাদের সংবিধানে গণতন্ত্র হচ্ছে অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিকভাবে গত ৫২ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারিনি। এমনকি গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান নির্বাচন, সেই নির্বাচনটাও করতে পারিনি বলেও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। যখন রাজনৈতিকরা ব্যর্থ হন তখন এই ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। তারা যদি সত্যিকার অর্থে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন তাহলে এই ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো না।
তিনি বলেন, যদি ক্ষমতাসীন দলগুলো একমত হয় যে, একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার জন্য একটি সময় প্রয়োজন হবে। এজন্য একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা। সেক্ষেত্রে ২০০৭ সালের মতো ২ বছর পর নির্বাচন হতে পারে। এক্ষেত্রে সংবিধানে আছে যদিও এটা কখনোই কাম্য নয় যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা। দুর্যোগকালীন সময় সাধারণত নির্বাচন স্থগিত করা যায়।
বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত ৩১ দফা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, যারা ৩১ দফা দিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এই দফা তারা বাস্তবায়ন করবেন, এটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুবিধা নিয়ে ক্ষমতায় এসে সেই পদ্ধতি বাতিল করেছে। বিএনপিও একই কাজ করবে। মানুষ কিন্তু ৩১ দফাকে বিশ্বাস করছে না। রাজনৈতিক দলগুলো অনেকগুলো দফা দেয়, যেটি তারা নিজেরাই বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে তিন ধরনের মডেলের কথা শোনা যাচ্ছে। একটা মডেল হলো-সামনের মাসে তফসিল ঘোঘণা হয়ে যাবে। বিএনপি না আসলেও ১৪ ও ১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করা হবে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে সরকার ২ থেকে ৩ মাসের বেশি টিকে থাকতে পারবে না। ৯৬ সালের মতো দ্বিতীয় নির্বাচন দিতে হবে। দ্বিতীয় মডেলের কথা যেটি বলা হচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়তো তৈরি হবে। যেটি গতবারও আমরা সমঝোতার কথা শুনেছিলাম। পরে যা বাস্তবায়ন হয়নি। বিএনপিকে ৬টি আসন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এবার হয়তো বিএনপিকে ৮০ থেকে ৯০টি আসন ধরিয়ে দেয়া হবে। টেবিলের নিচে আলোচনার মধ্যদিয়ে এক ধরনের সমঝোতা তৈরি হবে। আর তৃতীয় মডেল বলা হচ্ছে-বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনগুলো তাদের সর্বোচ্চ শক্তি এখনো ব্যয় করেনি। তফসিল ঘোষণার পর তারা একটি সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে রাজপথে বড় একটি আন্দোলন তৈরি করবে। তাতে হয়তো এই সরকারের পতন ঘটবে। তখন ওয়ান ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং দুই বছর পর নির্বাচন হতে পারে। এরকম ৩টি মডেলের আলোচনা কিন্তু আমরা সব সময় শুনছি।
বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলনে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে আলোচনা অগ্রসর হবে না। সরকারের দিক থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়াও নেই। বরং তারা আবারো ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো একতরফা নির্বাচন করার ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার, তাদের উল্লেখযোগ্য জনপ্রনিধিত্ব আছে। এজন্য আমরা বার বার বলছি নতুন সামাজিক চুক্তিতে আওয়ামী লীগকেও অংশীদার হতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তখনই কেবল আলোচনার সূত্রপাত ঘটতে পারে।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমরা সমঝোতা চাই, এই বিষয়ে আগে সমঝোতা হতে হবে। সংঘাতের কথা এখন বলা হচ্ছে দুই বড় দল থেকেই। কেন সমঝোতা হওয়া দরকার দলগুলোকে এ নিয়ে ভাবা উচিত।
তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবেই ভেঙেছে। একদিনে তো ভাঙেনি। আমাদের এখন সমঝোতা যেটা হওয়া দরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা। সেখানে কারও হাত দেয়া উচিত হবে না। ভোটের দিন কারওরই কিছু করার থাকে না, ইউএনও, ডিসি নির্বাচন কর্মকর্তা ছাড়া। এজন্য আমূল পরিবর্তন করতে হবে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, একটা প্রস্তাব আমরা করবো সেটা যেন প্র্যাকটিক্যাল হয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক সমস্যা কী করে সমাধান করা যায়, আমরা সেটা নিয়ে ভাবছি। এখন এটা করতে গেলে একাডেমিক আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, এককভাবে কোনো দল এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। সততার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতায় থেকে, বিরোধীদল থেকে একমত হতে হবে। একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করার বিষয়ে আমাদের পার্টি হাইকমান্ডের ভেতরেও দেখেছি। এখন একসঙ্গে সব করতে গেলে আবার জগাখিচুড়ি বেঁধে যাবে।
বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, সততার কথা এসেছে, আমরা যারা সরকারি দল করছি তারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি যার ভোট সেই দিতে পারবে? আর যেই জিতে আসুক তার হাতেই ক্ষমতা দিতে হবে। তিনি বলেন, সমঝোতার ন্যূনতম লক্ষণ দেখছি না। রাজপথে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে দাবি আদায় করতে হবে। এতে গৃহযুদ্ধ যদি নাও হয় প্রচুর রক্তপাতের শঙ্কা করছি।
অনলাইন সভায় সুজনের পক্ষ থেকে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ১৭ দফার জাতীয় সনদের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার এটি পড়ে শোনান। জাতীয় সনদে সম্ভাব্য ঐকমত্যের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল, স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতিবিরোধী সর্বাত্মক অভিযান, প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণের মতো বিষয় রয়েছে।
এ বিষয়ে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই বিষয়গুলো প্রাথমিক বিষয় হিসেবে ধরে নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। ঐকমত্য সৃষ্টির মাধ্যমে ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করা সম্ভব হলে রাজনীতিতে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হবে।মানবজমিন
জনতার আওয়াজ/আ আ