সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রমিক বাজেট চায় না শাজাহান খান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রমিক বাজেট চায় না শাজাহান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ ৩:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ১৮, ২০২৪ ৩:০৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দেশের শ্রমজীবী মানুষের জন্য আলাদা করে শ্রমিক বাজেট তৈরি করার পরামর্শ দিয়ে সাবেক মন্ত্রী ও পরিবহন নেতা শাজাহান খান বলেন, শ্রমিকদের বাজেট যেন একটা সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে না হয়।

শনিবার (১৮ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ উপলক্ষ্যে শ্রমিকদের জন্য কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বাজেট যেন একটা সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে না হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজগুলোকে সমন্বয় করার জন্য যে একটি প্লাটফর্ম এর কথা যে মালিক ও শ্রমিকরা বলছি তা বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে। শ্রমিকদের জন্য যে মন্ত্রনালয় গুলো কাজ করে তারা যদি এই একটি প্লাটফর্মের সঙ্গে আলাপ বা সমন্বয় করে কাজ করবে।

ট্রেড ইউনিয়ন এর পক্ষে কথা বলার কারণে অনেকর আক্রোশে পড়তে হয়েছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ২০১৩ সালে যখন ব্যাপক আকারে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে জ্বালাপোড়া হচ্ছিল তখন প্রধানমন্ত্রী আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছিল এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে শ্রমিক এবং মালিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। তখন মালিকদের সমস্যা ছিল যে, তারা বলছিল ট্রেড ইউনিয়নের কারণে সমস্যা হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা গিয়ে নাকি গার্মেন্টস বন্ধ করা সহ আরো অনেক কিছু করে। আর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল মালিকরা তাদের জুট ব্যবসা সহ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু গুন্ডাবাহিনী পালতো। আর এগুলো বন্ধ করে শ্রমিক এবং মালিকদের মধ্যে যদি একটা সুসম্পর্ক করা যেত। তবে প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়ন যারা করে তারা কখনোই শিল্পের ক্ষতি চায়না।

শ্রমিক ও মালিক দুই স্বত্তাকে রক্ষাকরে চলতে পারলে শিল্পের সম্ভাবনা বাড়বে উল্লেখ করে শাজাহান খান বলেন, শুধু গার্মেন্টস শিল্প নয় প্রতিটি শিল্পই মালিক এবং শ্রমিক এই দুই সত্তাকে রক্ষা করে চলতে হবে। গার্মেন্টস মালিকরা বলছে যে অনেক শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে যে শিল্পের মালিক শিল্প পরিচালনা করতে স্বচ্ছতা রক্ষা করেনা, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সেই টাকা অন্য জায়গায় খাটায়। পাশাপাশি শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যেমন বিভিন্ন সভা সেমিনার হয়ে থেকে কিন্তু মালিকদের ক্ষেত্রে এরকম কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। যেহেতু সকল মালিক এক নয় তাই মালিকদের সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। মালিকদের সচেতন করার মাধ্যমে বর্তমানে যে সকল সমস্যাগুলো হচ্ছে এগুলোই পরবর্তীতে না হওয়ার সম্ভাবনা কম।

গোলটেবিল আলোচনায় আলোচকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আসছে বাজেটে শ্রমিকদের জন্য আলাদা করে শ্রমিক বাজেট খাত তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে যে প্রস্তাব গুলো করেছে তা যেন এবারের বাজেটে বাস্তবায়ন করা হয়। শ্রম মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে বাজেট বরাদ্দ যেন না কমানো হয়।

বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আজকে শ্রমিকদের যে দাবি তা মালিক পক্ষ সরকার সহ সবাইক এক মত। এখন আমরা চাইব সংসদে এই দাবি গুলো যে বাস্ত বায়ন করা হয়। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যে ৮ দাবি তোলা হয়েছে এই সবগুলো যাদি বাস্ত বায়ন না হলেও যেন গুরুত্বপূর্ণ দাবি গুলো বাস্তবায়িত হয়। গার্মেন্টস মালিক যারা সংসদ সদস্য আমি তাদের সবাইকে বলব, সংসদে যেন শ্রমিকদের এই দাবি গুলো নিয়ে কথা বলেন।

গোলটেবিল আলোচনা সভাটির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি, বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো নাসির উদ্দিন, সিপিডি গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম, বিলস নির্বাহী পরিচালক সুলতান উদ্দিন আহমেদ প্রমূখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ