সুপ্রিম কোর্ট বারে লঙ্কাকাণ্ড : ভোট গণনা ছাড়াই সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুপ্রিম কোর্ট বারে লঙ্কাকাণ্ড : ভোট গণনা ছাড়াই সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৯, ২০২৪ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৯, ২০২৪ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
গত দুই বছরের ন্যায় এবারো সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নির্বাচনে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। সরকার সমর্থক দুই গ্রুপের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের উপরে এক সম্পাদক প্রার্থীর হয়ে বহিরাগতরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। এ ছাড়া, ভোট গণনা ছাড়াই সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণার নতুন নজির স্থাপন করেছেন নির্বাচন কমিশনার।

আইনজীবীরা বলেন, গত দুই বছর ভোট গ্রহণের শুরুতেই মারামারি হলেও এবার নির্বাচনের পরে ভোট গণনার কার্যক্রমে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ভোরে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর একদল বহিরাগত সমর্থক ভোট গণনা কেন্দ্র বারের অডিটরিয়ামে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেলের সম্পদক প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হকের ৭/৮ জন সমর্থক আইনজীবীকে বেধড়ক পিটুনি দিয়েছে। এদের একজন সহকারী অ্যাটর্নী জেনারেল মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী (সাইফ) আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একপর্যায়ে ভোট গণনা না করেই চাপের মুখে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী আবুল খায়ের সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথীকে জয়ী ঘোষণা করেছেন। তিনি যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস্ পরশের স্ত্রী। এ ঘটনার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট বারের ভোটকেন্দ্র ছাড়েন নির্বাচন পরিচালনার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ইসি সদস্যরাও। এখন ভোট ব্যালট পাহারায় আছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দেখা মিলছে না কোনো আইনজীবীর। বলা চলে বারে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। কখন ভোট গণনা হবে তারও কোনো ঘোষণা দেয়নি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের। তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, এখনো ভোট গণনার সময় নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বসতে হবে। আলোচনা করে ভোট গণনার সময় নির্ধারণ করা হবে।
সকালে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের অন্যতম নেতা ড. মোহাম্মদ জগলুল কবির মানবজমিনকে বলেন, গত দুইদিন আইনজীবীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোট প্রদান করেছেন। ইসি সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছেন। রাত ১০টার পরে শুরু হয় ভোট সøটিং কার্যক্রম। ১০০টি করে ব্যালট পেপার বান্ডিল করা হয়। এসব কার্যক্রম করতে গিয়ে ভোর সাড়ে ৪টা-৫টা বেজে যায়। ভোট গণনার পরিবেশ না থাকায় তখন নির্বাচন কমিশন জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু করতে চান। এ সময় একজন সম্পাদক প্রার্থী তা না মেনে তখনই ভোট গণনা করতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ভোট গণনা কেন্দ্রে বহিরাগত প্রবেশ করে ৭/৮ জন আইনজীবীকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। সত্যিই এমন ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। সুপ্রিম কোর্টের জন্য কলঙ্কজনকও ।

এদিকে, বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা দ্রুত ভোট গণনা করে দ্রুত ফলাফলের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল মানবজমিনকে বলেন, ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সরকার সমর্থক আইনজীবী ও সরকার সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমরা আমাদের ব্যালটের নিরাপত্তা চাই। সেই সঙ্গে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করতে হবে। ব্যালট পেপার যেন ছিনতাই না হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে চাই নির্বাচন কমিশনার কোথায়? আমাদের ব্যালট বক্স কোথায়। আমরা আমাদের অভিভাবক প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছি। গত দুইদিন আইনজীবীরা সুন্দরভাবে স্বচ্ছভাবে ভোট দিয়েছে। আমাদের প্যানেলের আইনজীবীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন আমাদের বিশ্বাস।

সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী শাহ মনজুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ৭/৮ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ ও আমার জুনিয়র জাকারিয়া হাবিব চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমন ঘটনা কেন ঘটলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার আসলে কোনো বর্ণনাই দিতে পারবো না। নির্বাচন করেছি ভালো কথা, ওনি (যুথি) ওনার বাহিনী এনে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। এ খবর আমাদের কাছে আসার পরে আমরা বলেছি গণনার পরিবেশ নাই পরে গণনা হবে। এটা ওনি সহ্য করতে পারছেন না, ভোর ৬টার দিকে ওনি নিজেই অনেকের সঙ্গে মারামারি করেছেন, অনেক নারী আইনজীবীর গলা ধাক্কা দিয়েছেন, ওনি দেখিয়ে দিচ্ছেন একে মারো, ওনাকে মারো, তাকে ধরো। তখন কমিশন বললো এই পরিবেশে গণনা করা যাবে না। ৩টায় গণনা করতে চাই তখন তিনি যুবলীগের পোলাপান ডাকছে ভিতরে ঢুকিয়ে মারামারি করছে, আর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানকে জিম্মি করে বলছে, তাকে ঘোষণা দেয়ার জন্য গণনা লাগবে না। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের লিখিত ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোনো ঘোষণা হলো? গণনা ছাড়া এটা কীভাবে হয়। মারামারি এ ঘটনার জন্য নাহিদ সুলতানা যুথিকে দোষারোপ করে আহত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ বলেন, যেহেতু বারের নির্বাচন নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি করেছিল বিএনপি-জামায়াত। সেই বিতর্ক থেকে বের হয়ে আসতে এবং একটা সুন্দর, স্বচ্ছ নির্বাচন করার জন্য টানা দুইদিন ধরে আমরা পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কিন্তু আমার উপর নাহিদা সুলতানা যুথি এবং যুবলীগের লোকদের দিয়ে সরাসরি আঘাত করেছেন। তিনি বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এই নির্বাচনটা বানচাল করার চেষ্টা করেছেন। আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। সম্পাদক নির্বাচিত ঘোষণা করার বিষয়ে জানতে নাহিদ সুলতানা যুথিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভোটের পর আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলাম। এখনো আমরা ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।

যে কারণে মারামারি
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক আইনজীবী বলেন, গত দুইদিন আইনজীবীরা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ ভোট প্রদান করেছেন। বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে সুষ্ঠুভাবে ভোট কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পরে শুরু হয় ভোটগণনার কার্যক্রম হিসেবে ভোট সটিং (গোছানো)। ১০০টি করে ব্যালট পেপার বান্ডিল করা হয়। এসব কার্যক্রম করতে গিয়ে ভোড় সাড়ে ৪টা-৫টা বেজে যায়। তখন একটি বান্ডিলের ভোট গণনা শুরু হয়। এমন সময় শাহ মঞ্জুরুল হক ভোট গণনা বন্ধ রাখতে ইসিকে অনুরোধ জানান। কিন্তু সরকার সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যোথি দ্রুত ভোট গণনা চালিয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি, তর্ক বিতর্ক হয়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। এরই মাঝে ভোট গণনা কেন্দ্রে যুথির পক্ষে বহিরাগতরা প্রবেশ করে শাহ মঞ্জুরুল হক সমর্থক আইনজীবীদের উপরে হামলা করে। ৭-৮ জনকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। একপর্যায়ে গণনা ছাড়াই নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী আবুল খায়ের সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করে বলেন, শুধুমাত্র নাহিদ সুলতানা যুথী সম্পাদক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন, তাই সম্পাদক পদে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো। ভোটের ফলাফলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী শাহ মনজুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল ৮টার পর পুলিশের পাহারায় আমি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাসায় চলে এসেছি। অন্যদিকে, বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ভোটের পর আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলাম। এখনো আমরা ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। আমরা এখন ব্যালট বাক্সও খুঁজে পাচ্ছি না, নির্বাচন কমিশনকেও খুঁজে পাচ্ছি না। মানবজমিন

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ