সুরমায় হবে স্লুইস গেট ও দীর্ঘ ওয়াকওয়ে, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
সিলেট নগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে সুরমা নদীতে নির্মিত হবে স্লুইস গেট ও দুই তীরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। আগামী ২ মে সিলেট সফরে এসে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার বিকালে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এমনটি জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এ সময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীতীর সৌন্দর্যবর্ধন, স্লুইস গেট স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরবাসী আধুনিক ও নান্দনিক নদীতীর পাবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সুরমা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা পিছিয়ে পড়া সিলেটকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতি অত্যন্ত সদয়। তার উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, রেলওয়ের ডাবল লাইনসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, যা সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সিলেট সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর। আমরা তার আগমনকে স্বাগত জানাই এবং সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, মৃতপ্রায় সুরমা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে খননসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাক নদ থেকে উৎপত্তিস্থল জকিগঞ্জের আমলসীদ থেকে শুরু করে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের মারকুলি পর্যন্ত নদী খননের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর ফলে সুরমা ও কুশিয়ারার নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদী–কেন্দ্রিক একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ের ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন, খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং সফর সফল করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য ও লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২ মে সিলেট সফরে আসবেন। এদিন তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সিলেট নগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সিটি করপোরেশনে সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ